নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাতে পুনরায় হাসপাতাল বা অন্য কোন অবকাঠামো নির্মাণ এর উদ্যোগ আইনানুগ ভাবে মোকাবিলা করবে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ।

সংস্থার মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন,চট্টগ্রাম জেলা সহ-সভাপতি এড সুনীল কুমার সরকার,সেক্রেটারি এড এ এইচ এম জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব বাবু প্রমুখ প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা প্রদান করেন।

বিবৃতি দাতারা বলেন,সরকারের রেল মন্ত্রী মহোদয় আগামীকাল রোববার(১৯ এপ্রিল)বিকেল ৪ টায় নাকি সিআরবিতে প্রস্তাবিত হাসপাতাল এর স্থান পরিদর্শন করতে আসবেন। তাহলে পুরনো ভুত কি আবার বর্তমান সরকারেরও মাথায় চেপে বসেছে? এ উপলক্ষে সেখানে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়েছে।
অথচ সিডিএর মাস্টার প্লেনে এর অনুমোদন এর সূযোগ নেই। নগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাকে ধ্বংসের নীল নকসা তৈরী হচ্ছে কিনা তা জানা দরকার। দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতিবাদের মূখে এধরণের একটি আত্মঘাতী প্রয়াস রুখে দেয় বিগত হাসিনা সরকারের আমলে।পরিত্যক্ত প্রচেষ্টা আবার উত্থাপনের চেস্টা প্রতিহত করা হবে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন এর মাধ্যমে।

তারা আরো বলেন, সাধারনত বিশেষায়ীত হাসপাতাল গুলো শহরের প্রাণ কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিআরবিতে পরিবেশ ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মান করলে পুরো শহরে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে ও দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করবে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ পরিবারের পক্ষ থেকে এধরণের পরিবেষ ও চট্টল বিদ্বেষী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাকে বাদ দিয়ে নগরীর বাইরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবী জানানো হয়। তারা এধরনের পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ডকে জেনোসাইডের সাথে তুলনা করেন।

তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ আবারো সামনে এনেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ বিতর্ক, আন্দোলন ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্রকল্পটি স্থগিত হওয়ার প্রায় চার বছর পর নতুন করে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিতে চান বিএনপি সরকারের রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ জন্য তিনি শিগগিরই প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করবেন।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হাবিবুল হাসান রুমি সই করা মন্ত্রীর সফরসূচিতে ১৮ এপ্রিল রেলমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টায় তিনি সিআরবি সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ১৮-২১ এপ্রিল মন্ত্রী মহোদয় চট্টগ্রাম সফর করবেন। ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টায় সিআরবির প্রস্তাবিত হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান , মন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শনের পর সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণে নীতিগত অনুমোদন দেবেন। প্রস্তুতিও সে অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান জানাতে চাননি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সফরসূচি এখনো দেখা হয়নি। দেখে নিশ্চিত করে বলতে পারবো। সিআরবিতে হাসপাতাল পরিদর্শন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চার বছর আগে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ এর পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান সহ নাগরিক আন্দোলনের মুখে স্থগিত হয়েছিল এই প্রকল্প। ২০২২ সালে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন একমাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালায়। শিল্প-সংস্কৃতির চট্টগ্রামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিআরবিকে ‘ফুসফুস’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলেন তারা। পরে প্রবল জনচাপের মুখে রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি স্থগিত করে।

পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিনিয়োগে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের চুক্তি করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ৫০ বছর পর পুরো স্থাপনাটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করার কথা, যা তখন রেলওয়ে হাসপাতাল হিসেবে গণ্য হবে। তবে সিআরবির পরিবর্তে চট্টগ্রামের অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে প্রকল্পটি স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন আবেদন করেছিল। আন্দোলনের পর রেলপথ মন্ত্রণালয় চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

নতুন করে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদনের উদ্যোগ জানা যাওয়ার পর নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে আবারো আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আন্দোলনে যুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা মাহফুজুর রহমান এ ব্যাপারে আগামীকাল জরুরি সভা ডেকেছেন। তিনি বলেন, সিআরবির পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণ অগ্রহণযোগ্য। এ প্রকল্প চালু হলে আবারও জনমত ও আন্দোলন দেখা দিতে পারে।

নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাতে পুনরায় হাসপাতাল বা অন্য কোন অবকাঠামো নির্মাণ এর উদ্যোগ আইনানুগ ভাবে মোকাবিলা করবে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ।

সংস্থার মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন,চট্টগ্রাম জেলা সহ-সভাপতি এড সুনীল কুমার সরকার,সেক্রেটারি এড এ এইচ এম জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব বাবু প্রমুখ প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা প্রদান করেন।

বিবৃতি দাতারা বলেন,সরকারের রেল মন্ত্রী মহোদয় আগামীকাল রোববার(১৯ এপ্রিল)বিকেল ৪ টায় নাকি সিআরবিতে প্রস্তাবিত হাসপাতাল এর স্থান পরিদর্শন করতে আসবেন। তাহলে পুরনো ভুত কি আবার বর্তমান সরকারেরও মাথায় চেপে বসেছে? এ উপলক্ষে সেখানে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়েছে।
অথচ সিডিএর মাস্টার প্লেনে এর অনুমোদন এর সূযোগ নেই। নগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাকে ধ্বংসের নীল নকসা তৈরী হচ্ছে কিনা তা জানা দরকার। দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতিবাদের মূখে এধরণের একটি আত্মঘাতী প্রয়াস রুখে দেয় বিগত হাসিনা সরকারের আমলে।পরিত্যক্ত প্রচেষ্টা আবার উত্থাপনের চেস্টা প্রতিহত করা হবে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন এর মাধ্যমে।

তারা আরো বলেন, সাধারনত বিশেষায়ীত হাসপাতাল গুলো শহরের প্রাণ কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিআরবিতে পরিবেশ ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মান করলে পুরো শহরে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে ও দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করবে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ পরিবারের পক্ষ থেকে এধরণের পরিবেষ ও চট্টল বিদ্বেষী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাকে বাদ দিয়ে নগরীর বাইরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবী জানানো হয়। তারা এধরনের পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ডকে জেনোসাইডের সাথে তুলনা করেন।

তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ আবারো সামনে এনেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ বিতর্ক, আন্দোলন ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্রকল্পটি স্থগিত হওয়ার প্রায় চার বছর পর নতুন করে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিতে চান বিএনপি সরকারের রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ জন্য তিনি শিগগিরই প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করবেন।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হাবিবুল হাসান রুমি সই করা মন্ত্রীর সফরসূচিতে ১৮ এপ্রিল রেলমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টায় তিনি সিআরবি সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ১৮-২১ এপ্রিল মন্ত্রী মহোদয় চট্টগ্রাম সফর করবেন। ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টায় সিআরবির প্রস্তাবিত হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান , মন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শনের পর সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণে নীতিগত অনুমোদন দেবেন। প্রস্তুতিও সে অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান জানাতে চাননি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন। তিনি বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সফরসূচি এখনো দেখা হয়নি। দেখে নিশ্চিত করে বলতে পারবো। সিআরবিতে হাসপাতাল পরিদর্শন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চার বছর আগে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ এর পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান সহ নাগরিক আন্দোলনের মুখে স্থগিত হয়েছিল এই প্রকল্প। ২০২২ সালে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন একমাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালায়। শিল্প-সংস্কৃতির চট্টগ্রামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিআরবিকে ‘ফুসফুস’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলেন তারা। পরে প্রবল জনচাপের মুখে রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি স্থগিত করে।

পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিনিয়োগে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের চুক্তি করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ৫০ বছর পর পুরো স্থাপনাটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করার কথা, যা তখন রেলওয়ে হাসপাতাল হিসেবে গণ্য হবে। তবে সিআরবির পরিবর্তে চট্টগ্রামের অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে প্রকল্পটি স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন আবেদন করেছিল। আন্দোলনের পর রেলপথ মন্ত্রণালয় চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

নতুন করে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদনের উদ্যোগ জানা যাওয়ার পর নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে আবারো আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আন্দোলনে যুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা মাহফুজুর রহমান এ ব্যাপারে আগামীকাল জরুরি সভা ডেকেছেন। তিনি বলেন, সিআরবির পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণ অগ্রহণযোগ্য। এ প্রকল্প চালু হলে আবারও জনমত ও আন্দোলন দেখা দিতে পারে।