প্রতিনিধি পটিয়া: পটিয়া উপজেলা আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)–ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), পটিয়ার উদ্যোগে পটিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মুখে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
“জ্বালানি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার গ্রহণের জোরালো দাবি” শীর্ষক মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এ. জি. এম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় এবং সনাক পটিয়ার সভাপতি অ্যাডভোকেট কবি শেখর নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবসের ধারণাপত্র পাঠ করেন সাবেক ইয়েস দলনেতা নিলয় বড়ুয়া।
বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মৃন্ময় দাশ এবং সনাক সদস্য মো. শাহ আলম।
উপস্থিত ছিলেন- পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কর্মকার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জামাল হোসেন, সনাকের সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সেবা এনভায়রনমেন্ট সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম উদ্দিন এবং সনাক সদস্য নিত্যময় চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকার থাকলেও বাংলাদেশ এখনও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও দেশের মোট জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
তারা আরও বলেন, ২০১০ থেকে ২০২৩ সময়কালে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনায় অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা এবং অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
মানববন্ধন থেকে নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে হ্রাস করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎপাদন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জোরালো দাবি জানানো হয়।
এ সময় সনাক–টিআইবির পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিবেচনার জন্য ৯ দফা সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ফেস্টুন বহন করা হয় এবং ইয়েস গ্রুপের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি সংবলিত ধারণাপত্র বিতরণ করা হয়।




