দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম কাস্টমসে বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স–কেমিক্যালসহ বিভিন্ন ধরনের ৪৪ লট পণ্যের অনলাইন নিলাম আজ। বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিলামের প্রস্তাবিত দর গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ১ জানুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়। কাস্টমস কর্তারা বলছেন, বন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা অখালাসকৃত কন্টেনার খালি করার লক্ষ্যে নিয়মিত নিলাম আয়োজন করা হচ্ছে। প্রকাশ্য নিলামের পাশাপাশি অনলাইনে বিশেষ নিলামেও তোলা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৪৪ লট পণ্যের মধ্যে রয়েছে–ফেব্রিক্স, এমপিইটি ফিল্ম, অ্যালমুনিয়াম ডোর, ইলেকট্রিক রেগুলেটর, রেফ্রিজেরেটর, রাবার স্লিপার, কৃষি কাজের যন্ত্র, বিভিন্ন ধরনের এলইডি বাতি, বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, শিল্পের যন্ত্রপাতি, বাচ্চাদের খেলনা, আয়রন স্ক্র্যাপ, ফায়ার ডোর, মোটর, বিভিন্ন ধরণের টাইলস, ক্রেন, ক্যাপিটেল মেশিনারি, পাওয়ার প্ল্যান্ট মেশিনারি ও অ্যালমুনিয়াম স্ক্র্যাপ।
জানা গেছে, পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিলাম আয়োজনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ জারি করে। কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে সেই আদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিগত সময়ে অনেক খাদ্যপণ্য পচে যাওয়ায় তা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব পাওয়া দূরে থাক, উল্টো পণ্য ধ্বংসে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তবে সামপ্রতিক সময়ে পচনশীল পণ্যসহ নিলামযোগ্য পণ্যের নিলাম দ্রুততার সাথে কার্যকর করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সাধারণ বিডাররা বলছেন, নিলামে এখনো কিছু ভোগান্তি রয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পণ্য অনুমোদন দিতে বিলম্ব করা। এতে বিডারদের পে অর্ডার মাসের পর আটকে থাকছে। দ্রুততার সাথে পণ্যের বিক্রয় অনুমোদন দিলে কাস্টমস ও বিডার উভয় পক্ষের জন্য ভালো হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, নিলাম চট্টগ্রাম কাস্টমসের একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম। এনবিআরের নির্দেশনা মতে আমরা নিলাম কাজের গতি বাড়িয়েছি। এতে সরকার অখালাসকৃত পণ্য বিক্রি করে রাজস্ব আয় করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৪৪ লট পণ্য অনলাইন নিলামে তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেয়ায় বন্দরগুলোতে প্রায় কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষও চার্জ পায় না।




