দি ক্রাইম ডেস্ক: আকাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো সবুজ চাদরে ঢাকা সুবিশাল আলুটিলা পাহাড়। মাঝে দিগন্তজোড়া সবুজ সমতল মাঠ। এ ফসলি মাঠে কখনও ধানক্ষেত বাতাসে ঢেউ খেলে, কখনও পাকা ধানে পাখা মেলে অজস্র টিয়া-তোতা। কখনও নানা শস্য-সবজি রূপ নেয় শ্যামল প্রান্তরে। সবুজ বিস্তীর্ণ মাঠের বুক চিরে সর্পিল আকারে চলে গেছে কালো পিচের রাস্তা।

গায়ে একটুখানি হিমশীতল হাওয়ার পরশ নেওয়া আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে দুচোখ জুড়াতে অসংখ্য প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটক ছুটে আসেন এই ‘নিউজিল্যান্ডে’। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেই নিউজিল্যান্ড নয়। এটি চেঙ্গী বিধৌত খাগড়াছড়ির নিউজিল্যান্ড।

খাগড়াছড়ি পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বর থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে পানখাইয়াপাড়া লাগোয়া এই নিউজিল্যান্ডের অবস্থান। পানখাইয়া পাড়া থেকে বের হওয়া আপার পেরাছড়া গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটির নাম নিউজিল্যান্ড সড়ক। এ সড়কের দুই পাশে সবুজ ফসলি খেত। এটি এই পাহাড়ি শহরের একমাত্র বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি। সবুজ শস্যখেত, গাছগাছালি ও দূরের পাহাড়ের সমন্বয়ে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অপূর্ব নান্দনিক সৌন্দর্য। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য যেন ছবির মতো। শেষ বিকেলে পশ্চিমের আকাশে সোনার রবি হলুদ আভা ছড়ায় তেপান্তরে। অনবদ্য এক দৃশ্য ধরা দেয় পাহাড়ের কোলের এই ‘নিউজিল্যান্ড’-এ।

নামের কারণেই এলাকাটি সবার মাঝে কৌতূহল জাগিয়েছে। গ্রীষ্মের পাকা ধানের হাসিতে ‘নিউজিল্যান্ড’ আরও সুন্দর হয়ে উঠে। ঐসময় পাকাধানের দোল খেলার সময় ভ্রমণপিপাসুদের সঙ্গে ক্ষুধা নিবারণে ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়া-তোতাও ভিড় করে। নিউজিল্যান্ড পাড়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপ ধরা দেয় সড়কে বসেই। আলুটিলা পাহাড়ঘেঁষা ভাসমান মেঘমালা ও সবুজ প্রকৃতির এক প্রান্তে সূর্যোদয় অন্যপ্রান্তে সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য ধরা দেয় এইখানেই। গোধূলির সোনালি আভায় সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পড়ন্ত বিকেলে প্রকৃতিপ্রেমীরা ইজিবাইক, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। শহরের ভেতরে পাহাড় আর ফসলি খেতের মিতালি মাখা বিশাল বিলের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মিত হওয়ার পর থেকে এই দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজিল্যান্ড নামকরণের স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয়দের ধারণা, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাখির চোখে দেখতে এলাকাটি অনেকটা নিউজিল্যান্ডের মতো হওয়ায় এমন নামকরণ করা হতে পারে।

স্থানীয় দর্শনার্থী কবিতা চাকমা বলেন, ‘সড়কটি আগে ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখান থেকে সবুজ পাহাড় উপভোগ করা যায়। তাছাড়া যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করারও সুযোগ রয়েছে। তবে সড়কজুড়ে ফুলের বৃক্ষ রোপণ করলে এটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’

খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে এখানকার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ এবং স্থানীয় নাগরিকদের সুবিধার জন্য প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬’শ মিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এখানে স্ট্রিট লাইট লাগানোসহ সড়কের পাশে শোভাবর্ধন বৃক্ষ ও বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

দি ক্রাইম ডেস্ক: আকাশে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো সবুজ চাদরে ঢাকা সুবিশাল আলুটিলা পাহাড়। মাঝে দিগন্তজোড়া সবুজ সমতল মাঠ। এ ফসলি মাঠে কখনও ধানক্ষেত বাতাসে ঢেউ খেলে, কখনও পাকা ধানে পাখা মেলে অজস্র টিয়া-তোতা। কখনও নানা শস্য-সবজি রূপ নেয় শ্যামল প্রান্তরে। সবুজ বিস্তীর্ণ মাঠের বুক চিরে সর্পিল আকারে চলে গেছে কালো পিচের রাস্তা।

গায়ে একটুখানি হিমশীতল হাওয়ার পরশ নেওয়া আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে দুচোখ জুড়াতে অসংখ্য প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটক ছুটে আসেন এই ‘নিউজিল্যান্ডে’। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেই নিউজিল্যান্ড নয়। এটি চেঙ্গী বিধৌত খাগড়াছড়ির নিউজিল্যান্ড।

খাগড়াছড়ি পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বর থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে পানখাইয়াপাড়া লাগোয়া এই নিউজিল্যান্ডের অবস্থান। পানখাইয়া পাড়া থেকে বের হওয়া আপার পেরাছড়া গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটির নাম নিউজিল্যান্ড সড়ক। এ সড়কের দুই পাশে সবুজ ফসলি খেত। এটি এই পাহাড়ি শহরের একমাত্র বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি। সবুজ শস্যখেত, গাছগাছালি ও দূরের পাহাড়ের সমন্বয়ে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অপূর্ব নান্দনিক সৌন্দর্য। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য যেন ছবির মতো। শেষ বিকেলে পশ্চিমের আকাশে সোনার রবি হলুদ আভা ছড়ায় তেপান্তরে। অনবদ্য এক দৃশ্য ধরা দেয় পাহাড়ের কোলের এই ‘নিউজিল্যান্ড’-এ।

নামের কারণেই এলাকাটি সবার মাঝে কৌতূহল জাগিয়েছে। গ্রীষ্মের পাকা ধানের হাসিতে ‘নিউজিল্যান্ড’ আরও সুন্দর হয়ে উঠে। ঐসময় পাকাধানের দোল খেলার সময় ভ্রমণপিপাসুদের সঙ্গে ক্ষুধা নিবারণে ঝাঁকে ঝাঁকে টিয়া-তোতাও ভিড় করে। নিউজিল্যান্ড পাড়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপ ধরা দেয় সড়কে বসেই। আলুটিলা পাহাড়ঘেঁষা ভাসমান মেঘমালা ও সবুজ প্রকৃতির এক প্রান্তে সূর্যোদয় অন্যপ্রান্তে সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য ধরা দেয় এইখানেই। গোধূলির সোনালি আভায় সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পড়ন্ত বিকেলে প্রকৃতিপ্রেমীরা ইজিবাইক, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। শহরের ভেতরে পাহাড় আর ফসলি খেতের মিতালি মাখা বিশাল বিলের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মিত হওয়ার পর থেকে এই দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজিল্যান্ড নামকরণের স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয়দের ধারণা, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র থেকে পাখির চোখে দেখতে এলাকাটি অনেকটা নিউজিল্যান্ডের মতো হওয়ায় এমন নামকরণ করা হতে পারে।

স্থানীয় দর্শনার্থী কবিতা চাকমা বলেন, ‘সড়কটি আগে ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখান থেকে সবুজ পাহাড় উপভোগ করা যায়। তাছাড়া যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করারও সুযোগ রয়েছে। তবে সড়কজুড়ে ফুলের বৃক্ষ রোপণ করলে এটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’

খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে এখানকার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ এবং স্থানীয় নাগরিকদের সুবিধার জন্য প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬’শ মিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এখানে স্ট্রিট লাইট লাগানোসহ সড়কের পাশে শোভাবর্ধন বৃক্ষ ও বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’