প্রেস বিজ্ঞপ্তি: কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ চিংড়ী পোনা আহরণ বন্ধের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান এর মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন কর্ণফুলী জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্ণফুলী নদীতে পোনা আহরনের নামে বেশ কয়েক বছর যাবত কর্ণফুলীর মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। একসময় এই কর্ণফুলী নদীতে প্রায় ৫৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত যা এখন ইতিহাস বলা চলে। জেলেরা সাধারনত যেসব জাল দিয়ে চিংড়ীপোনা আহরণ করে থাকেন, সে আহরিত হাজার হাজার পোনার মধ্যে তার প্রয়োজনীয় কয়েকটি বাগদা চিংড়ীর পোনা সংগ্রহ করেন আর বাকী বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনাগুলো নদীতে ফেলে দেয়। এত করে নির্বিচারে লাখ লাখ মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। যেসব পোনা মাছ নষ্ট করা হচ্ছে সে মাছগুলোই কর্ণফুলীর সুস্বাদু ফাইস্যা, টেংরা, পোপা, আইল, বোয়াল, চিরুম ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। কিন্তু গণহারে পোনা সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব মাছের পোনাগুলো অকালে নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে দেশের বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। আর সাধারণ জনগণ একদিকে যেমন সুলভমূল্যে মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে কর্ণফুলী জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন। তিনি বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হন এবং নেতৃবৃন্দ প্রেরিত স্মারকলিপিটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বরাবরে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নেতৃবৃন্দকে জানান।
স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা কমিটির আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা আলী রিয়াজ খান রক্সি, বিপ্লব কুমার চৌধুরী, কামরুল ইসলাম আশিক, মিঠুন চৌধুরী, অনুপম চৌধুরী, মো. ইসতিয়াক প্রমূখ।



