সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া : সাতকানিয়ায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গুলি করে জানে মারতে ব্যর্থ হয়ে মো. আবু বক্কর (৩৫) নামে রেমিটেন্স যোদ্ধা এক দুবাই প্রবাসীকে বন্দুকের আঘাতে মাথায় গুরুতর আহত করেছেন সঙ্ঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলী চাঁন পাড়াস্থ বইক্যার বর দোকানের উত্তর পাশে নতুন ব্রীজের কোনায় সড়কের উপর এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আবু বক্কর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বক্কর আলী চাঁন পাড়ার মৃত হাজী নুর আহমদ এর ছেলে। এদিকে, জনতা কর্তৃক সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো কোনো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু বক্কর মুঠো ফোনে বলেন, আমাদের পাড়ার নতুন ব্রীজের সামনে এক কোনায় সড়কের উপর এশার নামাজ পড়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ একটি মোটর সাইকেল যোগে ডালিম, ইয়াছিন ও আবিদ এসে ব্রীজের উপর থামে। মোটরসাইকেল থেকে নেমে ডালিমের হাতে থাকা লম্বা বন্দুক দিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলেও গায়ে গুলি লাগেনি। এ সময় আমি গুলি থেকে বাঁচতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে তারা এসে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। এর পরপরই আমি ডালিমকে ধরে তার অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সেটি দিয়ে তাকে মারতে শুরু করি। এর এক পর্যায়ে ডালিমকে বাঁচাতে আবিদ এগিয়ে এলে তাকে আমি ওই বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে ব্রিজ থেকে ডলু খালে ফেলে দিই। ডালিমদের দলে থাকা সেলিম, কলিম, টিপু, সাইফুল ও রাকিবসহ সন্ত্রাসীরা ব্রিজের পশ্চিম পাশে কল ঘর ও গাছ বাগানে লুকানো অবস্থা থেকে বের হয়ে এসে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের হাতে থাকা লম্বা বন্দুক দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে আমি শক্তি হারিয়ে ফেলি। পরে আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আমার ভাই ও এলাকার লোকজন আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। আমার মাথার বিভিন্নস্থানে ২৪ টির মত সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে আমার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে ডালিমের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি লম্বা বন্দুক জনতা পুলিশকে দিয়ে দেয়।

আবু বক্কর আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাকে পরপর তিন বার গুলি করে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারা ৪ রাউন্ডের মত ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। ঘটনার আগের রাত (মঙ্গলবার) সাড়ে ১১টার দিকে মাদক কারবারিরা আমার বাড়ির কাছাকাছি এসে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে আমাকে ধমক দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ২ মাস ১০ দিন আগে আমি দুবাই থেকে দেশে আসি। আবার সৌদি আরব চলে যাওয়ার জন্য মেডিকেলও দিয়েছি। দেশে আসার পর থেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে গেলে আমি মাদককারবারিদের রোষানলে পড়ি। আমাকে জানে মেরে তারা প্রতিবাদকারীর মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত ডালিম ও সেলিমসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা এলাকায় ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকের ব্যবসা করে আসছে। মাদক কারবারিরা তাদের সাথে অস্ত্র বহন করায় এলাকায় লোকজন তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। নতুন করে আবু বক্কর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করলে তারা বক্করের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এর প্রেক্ষিতে বক্কর এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, এওচিয়া ইউনিয়ন থেকে একজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথার বেশ কয়েকটি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পর পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের বসতঘরসহ সম্ভাব্যস্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে জনতার কেড়ে নেওয়া একটি গুলি ভর্তি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাত ১ টার দিকে আহতের বড় ভাই আবুল বশর বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া : সাতকানিয়ায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গুলি করে জানে মারতে ব্যর্থ হয়ে মো. আবু বক্কর (৩৫) নামে রেমিটেন্স যোদ্ধা এক দুবাই প্রবাসীকে বন্দুকের আঘাতে মাথায় গুরুতর আহত করেছেন সঙ্ঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলী চাঁন পাড়াস্থ বইক্যার বর দোকানের উত্তর পাশে নতুন ব্রীজের কোনায় সড়কের উপর এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আবু বক্কর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বক্কর আলী চাঁন পাড়ার মৃত হাজী নুর আহমদ এর ছেলে। এদিকে, জনতা কর্তৃক সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো কোনো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু বক্কর মুঠো ফোনে বলেন, আমাদের পাড়ার নতুন ব্রীজের সামনে এক কোনায় সড়কের উপর এশার নামাজ পড়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ একটি মোটর সাইকেল যোগে ডালিম, ইয়াছিন ও আবিদ এসে ব্রীজের উপর থামে। মোটরসাইকেল থেকে নেমে ডালিমের হাতে থাকা লম্বা বন্দুক দিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলেও গায়ে গুলি লাগেনি। এ সময় আমি গুলি থেকে বাঁচতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে তারা এসে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। এর পরপরই আমি ডালিমকে ধরে তার অস্ত্র কেড়ে নিয়ে সেটি দিয়ে তাকে মারতে শুরু করি। এর এক পর্যায়ে ডালিমকে বাঁচাতে আবিদ এগিয়ে এলে তাকে আমি ওই বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে ব্রিজ থেকে ডলু খালে ফেলে দিই। ডালিমদের দলে থাকা সেলিম, কলিম, টিপু, সাইফুল ও রাকিবসহ সন্ত্রাসীরা ব্রিজের পশ্চিম পাশে কল ঘর ও গাছ বাগানে লুকানো অবস্থা থেকে বের হয়ে এসে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের হাতে থাকা লম্বা বন্দুক দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে আমি শক্তি হারিয়ে ফেলি। পরে আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আমার ভাই ও এলাকার লোকজন আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। আমার মাথার বিভিন্নস্থানে ২৪ টির মত সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে আমার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে ডালিমের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া একটি লম্বা বন্দুক জনতা পুলিশকে দিয়ে দেয়।

আবু বক্কর আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাকে পরপর তিন বার গুলি করে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারা ৪ রাউন্ডের মত ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। ঘটনার আগের রাত (মঙ্গলবার) সাড়ে ১১টার দিকে মাদক কারবারিরা আমার বাড়ির কাছাকাছি এসে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে আমাকে ধমক দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ২ মাস ১০ দিন আগে আমি দুবাই থেকে দেশে আসি। আবার সৌদি আরব চলে যাওয়ার জন্য মেডিকেলও দিয়েছি। দেশে আসার পর থেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে গেলে আমি মাদককারবারিদের রোষানলে পড়ি। আমাকে জানে মেরে তারা প্রতিবাদকারীর মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত ডালিম ও সেলিমসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা এলাকায় ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকের ব্যবসা করে আসছে। মাদক কারবারিরা তাদের সাথে অস্ত্র বহন করায় এলাকায় লোকজন তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। নতুন করে আবু বক্কর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করলে তারা বক্করের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এর প্রেক্ষিতে বক্কর এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, এওচিয়া ইউনিয়ন থেকে একজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মাথার বেশ কয়েকটি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পর পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের বসতঘরসহ সম্ভাব্যস্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে জনতার কেড়ে নেওয়া একটি গুলি ভর্তি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাত ১ টার দিকে আহতের বড় ভাই আবুল বশর বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।