খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় গুইমারা উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা দমন-পীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা অভিযানের নামে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এবং সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহারের দাবিতে গুইমারায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম(ডিওয়াইএফ) মাটিরাঙ্গা-গুইমারা উপজেলা শাখা।
শনিবার(৩০ আগষ্ট) সকাল ১১টার সময় অভ্যা সীমান্ত সড়কে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ধনিরাম পাড়া এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়ে লক্ষীছড়া বিজিবি ক্যাম্পের পাশে গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি রনি ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের গুইমারা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মংপ্রুু মারমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিসিপির গুইমারা উপজেলা সভাপতি নিকেন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সদস্য রিকেন চাকমা ও ইউপিডিএফের মাটিরাঙ্গা ইউনিটের সংগঠক বরুন চাকমা।
বক্তারা সেনা অভিযানের নামে স্কুল ভবন দখল করে ‘অস্থায়ী ক্যাম্প’ বানানো, নির্বিচারে বাড়িঘরে তল্লাশি, নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ,লুটপাট, ধরপাকড়, হয়রানি, স্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত করা ও অবর্ণনীয় জনদুর্ভোগ সৃষ্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে এসব নিপীড়নমূলক কার্যক্রম বন্ধের দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে “অপারেশন উত্তরণ’-এর নামে সেনাশাসন চলছে। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার ভুলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। বর্তমান অন্তবরতীকালীন সরকারের সময়েও সেনা অভিযানের নামে প্রতিনিয়ত অন্যায় ধরপাকড়, তল্লাশি, নির্যাতন, হয়রানি, লুটপাটসহ নানা দমনমূলক কর্মকান্ডে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন কারো না কারো বাড়িতে সেনাবাহিনী হানা দিচ্ছে, ঘরবাড়ি তল্লাশির নামে লুটপাট চালাচ্ছে।
সমাবেশের শেষ দিকে কয়েকজন বিজিবি সদস্য এসে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে।
বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’ তুলে নিয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি এবং সেনা অভিযানের নামে চলমান অন্যায় দমন-পীড়ন বন্ধ করতে অন্তবরতী সরকারের কাছে দাবি জানান।
এদিকে, সমাবেশের শেষ দিকে কয়েকজন বিজিবি সদস্য উপস্থিত হয়ে বাধা প্রদান ও ব্যানার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে উপস্থিত ছাত্র- জনতা প্রতিবাদ করলে তারা আর সেটা করতে পারেনি।




