নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা মহানগরীর উত্তরার রুয়াপে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ শুক্রবার(২১ ফেব্রুয়ারি)সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে রুয়াপের বিভিন্ন ভবন কমিটি সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ রুয়াপের বিভিন্ন সংগঠন,প্রভাতি সংঘসহ প্রত্যেকে পৃথক পৃথকভাবে রুয়াপের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‍্যালী সহকারে শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সবাই সকল ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।ভাষা শহীদদের স্মরণে রুয়াপের পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ গানের সুরে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে বাঙালির শোক আর অহংকারের এই শহীদ বেদী।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রভাতী সংঘের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এসে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার সঞ্চলনার দায়িত্বে ছিলেন পরিমল চন্দ্র কুন্ডু।

১৯৪৭ থেকে আরম্ভ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মরণে দীর্ঘ বহুল তথ্য সম্বলিত এক সারগর্ভ আলোচনা ও বক্তব্য রাখেন- সৈয়দ নুরুন্নবী,ড.স্বপন কুমার বনিক,জগদীশ চন্দ্র পাল ও ড.কৃষ্ণপদ প্রমুখ।

বক্তাদের সারগর্ভ বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার অমলিন ইতিহাস।

প্রসঙ্গত,তৎকালীন পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে অগ্রাহ্য করে ‘একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’, ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ এ কথা বলেছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক বিশেষ কনভোকেশন উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ সেই বাক্যটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই ‘না, না’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলার জাগ্রত ছাত্রসমাজ। এর আগে জিন্নাহ ঢাকায় আগমন করেন ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ এবং ২১ মার্চ তিনি ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এক ভাষণ দেন। তাতে তিনি নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।ঢাকার কার্জন হলে পাকিস্তানের ‘একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্য দেওয়ার প্রায় এক মাস আগে অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বাংলার গণপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লার বিশিষ্ট রাজনীতিক শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত নিয়মিত কার্যবিধির ২৮ ধারার ওপর একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনে তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এই প্রস্তাব প্রাদেশিকতা মনোভাবপ্রসূত নয়। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছয় কোটি ৯০ লাখ, তার মধ্যে চার কোটি ৪০ লাখই ছিল বাংলা ভাষাভাষী। সেই যৌক্তিক ভিত্তির ওপরই তিনি তখন তাঁর প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন,সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথিত বা ব্যবহৃত ভাষাই রাষ্ট্রের ভাষা হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেই বিবেচনায় বাংলাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত বলে দাবী করেন তিনি।

এভাবে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ তিথিক্ষার পর পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউলসহ নাম না জানা আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই এসেছে স্বাধীনতা। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে।

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা মহানগরীর উত্তরার রুয়াপে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ শুক্রবার(২১ ফেব্রুয়ারি)সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে রুয়াপের বিভিন্ন ভবন কমিটি সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ রুয়াপের বিভিন্ন সংগঠন,প্রভাতি সংঘসহ প্রত্যেকে পৃথক পৃথকভাবে রুয়াপের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‍্যালী সহকারে শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সবাই সকল ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।ভাষা শহীদদের স্মরণে রুয়াপের পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ গানের সুরে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে বাঙালির শোক আর অহংকারের এই শহীদ বেদী।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রভাতী সংঘের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এসে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার সঞ্চলনার দায়িত্বে ছিলেন পরিমল চন্দ্র কুন্ডু।

১৯৪৭ থেকে আরম্ভ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের স্মরণে দীর্ঘ বহুল তথ্য সম্বলিত এক সারগর্ভ আলোচনা ও বক্তব্য রাখেন- সৈয়দ নুরুন্নবী,ড.স্বপন কুমার বনিক,জগদীশ চন্দ্র পাল ও ড.কৃষ্ণপদ প্রমুখ।

বক্তাদের সারগর্ভ বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার অমলিন ইতিহাস।

প্রসঙ্গত,তৎকালীন পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে অগ্রাহ্য করে ‘একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’, ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ এ কথা বলেছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক বিশেষ কনভোকেশন উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ সেই বাক্যটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই ‘না, না’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলার জাগ্রত ছাত্রসমাজ। এর আগে জিন্নাহ ঢাকায় আগমন করেন ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ এবং ২১ মার্চ তিনি ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এক ভাষণ দেন। তাতে তিনি নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।ঢাকার কার্জন হলে পাকিস্তানের ‘একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্য দেওয়ার প্রায় এক মাস আগে অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বাংলার গণপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লার বিশিষ্ট রাজনীতিক শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত নিয়মিত কার্যবিধির ২৮ ধারার ওপর একটি সংশোধনী প্রস্তাব এনে তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এই প্রস্তাব প্রাদেশিকতা মনোভাবপ্রসূত নয়। পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছয় কোটি ৯০ লাখ, তার মধ্যে চার কোটি ৪০ লাখই ছিল বাংলা ভাষাভাষী। সেই যৌক্তিক ভিত্তির ওপরই তিনি তখন তাঁর প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন,সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথিত বা ব্যবহৃত ভাষাই রাষ্ট্রের ভাষা হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেই বিবেচনায় বাংলাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত বলে দাবী করেন তিনি।

এভাবে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ তিথিক্ষার পর পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউলসহ নাম না জানা আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই এসেছে স্বাধীনতা। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বে।