ঢাকা অফিস: ভাসানী জনশক্তি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার(২০ জানুয়ারী) দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।ঢাকার পুরাতন পল্টন চায়ের গলি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিজয় নগর, পানির টাংকি, পুরাতন পল্টন, তোপখানা রোড হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক মোঃ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টি এবং গণতন্ত্রের মঞ্চে শীর্ষ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি,দীর্ঘ ১৭ বছর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে রক্ত দিয়ে ২৪ শের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করেছি।প্রফেসর ইউনুস ক্ষমতায় বসেছেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়েছে। সেই সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর অযোগ্য হিসাবে ইতিমধ্যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। অবিলম্বে তাকে অব্যাহতি দিয়ে যোগ্যতা সম্পূর্ণ লোককে দায়িত্ব দেওয়া আহ্বান জানান।
বাবলু বলেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জনগণ যদি ভোট দিতে না পারে তাহলে এর দায় দায়িত্ব ইউনুস সরকারকে বহন করতে হবে।সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নাই এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, বড় বড় দলের নেতা কর্মীরা যখন হামলা মামলার ভয়ে আত্মগোপনে ছিল তখন আমরা রাজপথে ছিলাম, লড়াই সংগ্রাম করেছি, নেতাকর্মীদের সাথে কারা নির্যাতিত হয়েছি, জেলথেকে বের হয়ে আবার রাজপথে নেমেছি।আমরা আপোষ করি নাই জনগণের দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে আছি এবং থাকব। অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছে প্রতিনিয়ত সত্য এবং গুরুত্বহত্যা সংগঠিত হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুথানের অন্যতম নেতা হাদীকে দিনের আলোতে হত্যা করা হয়েছে অথচ আজ পর্যন্ত খুনি ও তার দোসরদের গ্রেপ্তার করা হয়নি,সাভারে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে যাগোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ করা নির্বাচন কমিশনাররা ইতিমধ্যে সঠিক প্রার্থী বাছায়ে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম যারা বিদেশে টাকা প্রাচার করেছে, ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে ঋণ খেলাপি হয়েছে তারা নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হবে। কিন্তু সরকারের নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশন ঋণ খেলাপি এবং বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের নমিনেশন বাতিল করেনি যা ২৪শের গণঅভ্যুর্থানের চেতনাকে ভলণ্ঠিত করেছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার,মোঃ আরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান তপন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম,ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সদস্য সচিব তোমারে কত দিছি আমি শাহানা বেগম, ভাসানী জনশক্তি পার্টি বংশাল থানার সভাপতি ইমুরুল হাসান ওয়াসীম প্রমুখ।




