সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া : সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় দুই মাস বয়সী এক শিশু মারা যাওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট এলাকায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ইফতেখার রিয়াজ চৌধুরীর ভুল চিকিৎসা এবং ওই হাসপাতালের নার্সের (নাম অজ্ঞাত) অবহেলায় শিশু জোহরান আহমেদ যুবরাজকে হত্যার অভিযোগ করা হয় মানববন্ধনে। তবে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণে কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের নিয়ে হরতাল করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানান হাসপাতালের এমডি।

মানববন্ধনে মারা যাওয়া শিশুর বাবা মো. জুবাইরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে আমার ছেলেকে ডা. ইফতেখার রিয়াজ চৌধুরীর পরামর্শে আশশেফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার ভুল চিকিৎসা ও নার্সের অবহেলায় আমরা ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তারা বিষয়টি আমার স্ত্রীর কাছে গোপন রেখেছিল। একপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় আমি কক্সবাজারে আমার কর্মস্থলে ছিলাম। তাই হাসপাতালে বিল পরিশোধের অর্থ সংকট হওয়ায় আমার স্ত্রী তাদেরকে জানায়, আমি কক্সবাজার থেকে সরাসরি হাসপাতালে এসে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে দিব। কিন্তু এরপরও তারা আমার ছেলেকে রিলিজ না করে কালক্ষেপণ করে।

তিনি আরও বলেন, পরে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে জানায়, ভুল চিকিৎসা, অবহেলা ও সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে হাসপাতালে আনার আগেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আমি বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।

নবজাতকের মা সুফিয়া আক্তার রুপু কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী কক্সবাজারে থাকেন। আমার ছেলের শারীরিক অবস্থা যখন সংকটাপন্ন হয়েছিল তখন আমার কাছে হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য কিছু টাকা কম ছিল। তখন আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার অনুরোধ করে জানায়, আমার স্বামী এসে বিল পরিশোধ করবেন। তারপরও তারা আমার ছেলেকে রিলিজ দেয়নি। পরে বিল পরিশোধ করার পর তারা রিলিজ করে দেন। কিন্তু চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে আমার ছেলে মারা যায়। আমরা যদি ছেলেকে নিয়ে সঠিক সময় চট্টগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম তাহলে হয়তো আমার ছেলেটা বেঁচে যেত। আমি প্রশাসনের নিকট এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক ইফতেখার রিয়াজ চৌধুরী বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে সঠিক চিকিৎসা দিয়েছি৷ রোগীর পরিবার আমার উপর সন্তুষ্ট ছিল। এখন হঠাৎ করে এসে তারা আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ তুলছে এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।

আশশেফা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. নুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে মানহানি মামলা করা হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরকার হলে আমরা সকল চিকিৎসকরা মিলে দুই দিনের জন্য হরতাল ডাকব।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা যেহেতু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় তাই আমরা তাদেরকে সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিয়েছি।

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া : সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় দুই মাস বয়সী এক শিশু মারা যাওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট এলাকায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ইফতেখার রিয়াজ চৌধুরীর ভুল চিকিৎসা এবং ওই হাসপাতালের নার্সের (নাম অজ্ঞাত) অবহেলায় শিশু জোহরান আহমেদ যুবরাজকে হত্যার অভিযোগ করা হয় মানববন্ধনে। তবে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণে কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের নিয়ে হরতাল করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানান হাসপাতালের এমডি।

মানববন্ধনে মারা যাওয়া শিশুর বাবা মো. জুবাইরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে আমার ছেলেকে ডা. ইফতেখার রিয়াজ চৌধুরীর পরামর্শে আশশেফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার ভুল চিকিৎসা ও নার্সের অবহেলায় আমরা ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তারা বিষয়টি আমার স্ত্রীর কাছে গোপন রেখেছিল। একপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় আমি কক্সবাজারে আমার কর্মস্থলে ছিলাম। তাই হাসপাতালে বিল পরিশোধের অর্থ সংকট হওয়ায় আমার স্ত্রী তাদেরকে জানায়, আমি কক্সবাজার থেকে সরাসরি হাসপাতালে এসে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে দিব। কিন্তু এরপরও তারা আমার ছেলেকে রিলিজ না করে কালক্ষেপণ করে।

তিনি আরও বলেন, পরে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে জানায়, ভুল চিকিৎসা, অবহেলা ও সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে হাসপাতালে আনার আগেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আমি বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।

নবজাতকের মা সুফিয়া আক্তার রুপু কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী কক্সবাজারে থাকেন। আমার ছেলের শারীরিক অবস্থা যখন সংকটাপন্ন হয়েছিল তখন আমার কাছে হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য কিছু টাকা কম ছিল। তখন আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার অনুরোধ করে জানায়, আমার স্বামী এসে বিল পরিশোধ করবেন। তারপরও তারা আমার ছেলেকে রিলিজ দেয়নি। পরে বিল পরিশোধ করার পর তারা রিলিজ করে দেন। কিন্তু চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে আমার ছেলে মারা যায়। আমরা যদি ছেলেকে নিয়ে সঠিক সময় চট্টগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছাতে পারতাম তাহলে হয়তো আমার ছেলেটা বেঁচে যেত। আমি প্রশাসনের নিকট এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক ইফতেখার রিয়াজ চৌধুরী বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে সঠিক চিকিৎসা দিয়েছি৷ রোগীর পরিবার আমার উপর সন্তুষ্ট ছিল। এখন হঠাৎ করে এসে তারা আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ তুলছে এ বিষয়ে কিছুই জানিনা।

আশশেফা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. নুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে মানহানি মামলা করা হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরকার হলে আমরা সকল চিকিৎসকরা মিলে দুই দিনের জন্য হরতাল ডাকব।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা যেহেতু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় তাই আমরা তাদেরকে সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিয়েছি।