দি ক্রাইম ডেস্ক: র‌্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার কন্যার আকুতি উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বছর দশেক বয়সী কন্যাটি বারবার ‘আব্বু আব্বু’ করছিল। আব্বু কথা বলছে না কেন তাও জানতে চাচ্ছিল। তার প্রশ্ন ছিল, ‘আমার আব্বুর কী হয়েছে? আমার আব্বু কথা বলছে না। আব্বু কি আর আসবে না?’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পতেঙ্গায় র‌্যাব–৭ এর কার্যালয় সংলগ্ন মাঠের এক কোণে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেবকে গোসল করানো হচ্ছিল। ওই সময় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা ইসরাত জাহান কান্না করতে করতে উপরোক্ত প্রশ্ন করছিল।

ইসরাত জাহানের কান্নার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছিল একটি শব্দ ‘আব্বু’। এ সময় মোতালেবের স্ত্রী এবং অপর দুই সন্তানও কান্নাকাটি করছিলেন। কাঁদছিলেন সহকর্মীদের অনেকে। বিশেষ করে ইসরাত জাহানের ‘আব্বু আব্বু’ শব্দে অনেকের চোখ ভিজে ওঠে।

মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। ছেলেমেয়ে নিয়ে কী করব? আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হয়েছে? এভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে।’ স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী দেশপ্রেমিক, দেশকে অনেক ভালোবাসে। এজন্য আমার স্বামী জান দিয়েছে, না হলে পালিয়ে আসতে পারত। আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই।’

বাবা হত্যার বিচার চায় মোতালেবের বড় মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী শামিমা জান্নাত। ‘এভাবে আমার বাবাকে কেউ মেরে ফেলবে কেন? বাবা তো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গিয়েছিল। কেন তাকে মরতে হলো?’ বলতে বলতে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে গেল। সেও কাঁদছিল।

মোতালেবের বড় ছেলে তেজগাঁও সরকারি কলেজের স্নাতকের ছাত্র মেহেদী হাসান বলেন, বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল মধুর। সব সময় মা ও বোনদের দেখে রাখার কথা বলতেন। ভালোভাবে যাতে পড়াশোনা করি, পরামর্শ দিতেন। বাবাকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। আমাদের কী হবে জানি না। আমার বাবা হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই। আমার বাবাকে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা মাফ করে দেবেন।

গতকাল দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থেকে ডিএডি মোতালেবের লাশ পতেঙ্গা র‌্যাব–৭ এর কার্যালয়ে আনা হয়। তার আগে থেকেই মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার, বড় ছেলে মেহেদী হাসান, বড় মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে ইসরাত জাহানসহ কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা সদরের অলিপুর থেকে চট্টগ্রামে আসেন। পতেঙ্গায় জানাজার পর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লার আলিপুরে। সেখানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকালে সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাব–৭ চট্টগ্রামের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় র‌্যাবের ৪ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজন সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলার সদর অলিপুর গ্রামে ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়া। তিনি ১৯৯৫ সালের ৭ জুলাই বিজিবিতে যোগ দেন। বিজিবির বিভিন্ন সেক্টরে চাকরি করেন। ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল র‌্যাব–৭ এ যোগ দেন। ৩০ বছর ৬ মাস ১২ দিন চাকরি করে তিনি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন।

দি ক্রাইম ডেস্ক: র‌্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার কন্যার আকুতি উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বছর দশেক বয়সী কন্যাটি বারবার ‘আব্বু আব্বু’ করছিল। আব্বু কথা বলছে না কেন তাও জানতে চাচ্ছিল। তার প্রশ্ন ছিল, ‘আমার আব্বুর কী হয়েছে? আমার আব্বু কথা বলছে না। আব্বু কি আর আসবে না?’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পতেঙ্গায় র‌্যাব–৭ এর কার্যালয় সংলগ্ন মাঠের এক কোণে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র‌্যাব কর্মকর্তা মোতালেবকে গোসল করানো হচ্ছিল। ওই সময় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা ইসরাত জাহান কান্না করতে করতে উপরোক্ত প্রশ্ন করছিল।

ইসরাত জাহানের কান্নার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছিল একটি শব্দ ‘আব্বু’। এ সময় মোতালেবের স্ত্রী এবং অপর দুই সন্তানও কান্নাকাটি করছিলেন। কাঁদছিলেন সহকর্মীদের অনেকে। বিশেষ করে ইসরাত জাহানের ‘আব্বু আব্বু’ শব্দে অনেকের চোখ ভিজে ওঠে।

মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। ছেলেমেয়ে নিয়ে কী করব? আমার স্বামীকে কেন হত্যা করা হয়েছে? এভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে।’ স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী দেশপ্রেমিক, দেশকে অনেক ভালোবাসে। এজন্য আমার স্বামী জান দিয়েছে, না হলে পালিয়ে আসতে পারত। আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। সন্ত্রাসীদের ফাঁসি চাই।’

বাবা হত্যার বিচার চায় মোতালেবের বড় মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী শামিমা জান্নাত। ‘এভাবে আমার বাবাকে কেউ মেরে ফেলবে কেন? বাবা তো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গিয়েছিল। কেন তাকে মরতে হলো?’ বলতে বলতে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে গেল। সেও কাঁদছিল।

মোতালেবের বড় ছেলে তেজগাঁও সরকারি কলেজের স্নাতকের ছাত্র মেহেদী হাসান বলেন, বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল মধুর। সব সময় মা ও বোনদের দেখে রাখার কথা বলতেন। ভালোভাবে যাতে পড়াশোনা করি, পরামর্শ দিতেন। বাবাকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। আমাদের কী হবে জানি না। আমার বাবা হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই। আমার বাবাকে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা মাফ করে দেবেন।

গতকাল দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থেকে ডিএডি মোতালেবের লাশ পতেঙ্গা র‌্যাব–৭ এর কার্যালয়ে আনা হয়। তার আগে থেকেই মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার, বড় ছেলে মেহেদী হাসান, বড় মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে ইসরাত জাহানসহ কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা সদরের অলিপুর থেকে চট্টগ্রামে আসেন। পতেঙ্গায় জানাজার পর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লার আলিপুরে। সেখানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকালে সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাব–৭ চট্টগ্রামের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় র‌্যাবের ৪ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজন সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলার সদর অলিপুর গ্রামে ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়া। তিনি ১৯৯৫ সালের ৭ জুলাই বিজিবিতে যোগ দেন। বিজিবির বিভিন্ন সেক্টরে চাকরি করেন। ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল র‌্যাব–৭ এ যোগ দেন। ৩০ বছর ৬ মাস ১২ দিন চাকরি করে তিনি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন।