চকরিয়া প্রতিনিধি: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বত্র নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ভোটের সমীকরণে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ এগিয়ে থাকলেও চমক দেখাতে পারেন জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক। দু’জনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে মাঠে ময়দা চষে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে শেষ মুহুর্তে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে তিনজন প্রার্থী হচ্ছেন মোটামুটি নিশ্চিত। তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক ও ইসলামি আন্দোলনের ছরওয়ার আলম কুতুবী। এসব প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি রির্টানিং কর্মকর্তার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজদলের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
কক্সবাজার-১ সংসদীয় আসনটি মূলত বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৮টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে চকরিয়া উপজেলা। অন্যদিকে ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে পেকুয়া উপজেলা। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৫ জন, যা গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ৪৬ হাজার ৮৪৩ জন বেশি।
জানা যায়, এ আসনে মোট পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৮৫ জন। তন্মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ জন এবং পেকুয়া মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৯ জন। পক্ষান্তরে ২০২৩ সালের রেকর্ড মতে এ আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ জন। আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র হিসবে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৯টি। তন্মধ্যে চকরিয়ায় ১১৬টি এবং পেকুয়ায় ৪৩টি।
এদিকে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নিবার্চনি লড়াইয়ে রয়েছেন তিন প্রার্থী। এরমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামির আবদুল্লাহ আল ফারুক ও ইসলামি আন্দোলনের ছরওয়ার আলম কুতুবী। তবে বিএনপি ও গণ-অধিকার পরিষদ জোটগত নির্বাচন করার কারণে আবদুল কাদের প্রাইম সালাহউদ্দিন আহমদকে সমর্থন দিয়ে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
রাজনৈতিক সচেতন ও স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, মূলত এ আসনে মূল লড়াই হবে দ্বি-মুখী। কেননা এ আসনে বিএনপি তথা ধানের শীষের পক্ষে একক হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত আবদুল্লাহ আল ফারুক।
এদিকে বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসন হতে সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় অনেক বেশি। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় ভোটের মাঠে সালাহউদ্দিনের একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি প্রতিটি জায়গায় মানুষের কাছাকাছি গিয়ে জনসমর্থন আদায়ে সর্বোচ্চ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাজনীতিকভাবে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি-জামায়াত। কিন্তু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাঠে বিএনপির সালাহউদ্দিন এবং জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
প্রসঙ্গত : (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক মন্জু, ১৯৯৬ সালে বিএনপি হতে সালাহউদ্দিন আহমদ। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি কে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
এদিকে ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ কারগারে থাকাকালীন সময়েও তাঁর স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সালাহউদ্দিন আহমদ (সিআইপি) কে পরাজিত করে এ আসন হতে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের জাফর আলম এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।




