অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—–

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কথেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ নিয়ে উপর মহলে ধোঁয়াশা সৃষ্ঠি হয়েছে।নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন শুলকবহর মৌজায় পুকুরের উপর ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন নিয়ে এ মহলটি ব্যাপকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নসহ প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হচ্ছে।

এ প্রতিবেদক সরেজমিনে সাইট পরিদর্শন ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উক্ত স্থানে বহু পুরনো স্থাপনা ও নারিকেল গাছ বিদ্যমান, যা প্রমাণ করে যে অতীতে সেখানে কোনো পুকুর ছিল না। জলাধার বা পুকুর ভরাটের পর এমন পুরনো গাছ টিকে থাকা অসম্ভব। স্থানীয়দের সাক্ষ্য এবং Google Earth স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণেও দেখা যায় ২০০৪ সালেও উক্ত স্থানে পুকুরের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

No description available.

সিডিএ প্রদত্ত ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: “আলোচ্য সাইটের মোট আয়তন ১০,৫০০.৫৭ বর্গ মিটার বা ২.৫৯ একর। বি.এস. মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বি.এস. দাগ নং ৭১১ (০.৩৫ একর) এবং ৭৭৩ (০.২৮ একর) পুকুর হিসেবে চিহ্নিত। ড্যাপ এবং বাস্তবে আলোচ্য স্থানে কোনো পুকুর এখন বিধ্যমান নেই। তবে মৌজা ম্যাপে পুকুর হিসেবে উল্লেখ থাকায় যে কোনো ধরনের উন্নয়ন কাজ শুরুর পূর্বে পুকুর ভরাট সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হবে।” অর্থাৎ, সিডিএ কর্তৃক প্রদত্ত ছাত্রপত্রে পুকুর চিহ্নিত দাগসূচিতে স্থাপনা নির্মাণের কোনোরূপ অনুমতি প্রদান করা হয়নি।

সুত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গেজেটেড ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (DAP)-২০০৮ অনুযায়ী উক্ত দাগগুলো পুকুর বা জলাধার হিসেবে চিহ্নিত নয়। জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ (২-এর “চ” ধারা) অনুযায়ী, কেবলমাত্র মাষ্টার প্লানে চিহ্নিত অথবা সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের গেজেটভুক্ত জলাধারকেই জলাধার হিসেবে গণ্য করা হয়, যা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অতঃএব আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।

No description available.

সুত্রে জানা গেছে, সিডিএ’র একটি নকশা দালাল সিন্ডিকেট ও স্থানীয় কিছু টাউট প্রকৃতির চাঁদাবাজের সম্মন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটটি সম্পত্তির আমোক্তার গ্রহণকারী মো.জামশেদ আলমের নিকট বেশ মোটাংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওই সিন্ডিকেটটি অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে মো. জামশেদ আলম এ প্রতিবেদককে জানান, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে ব্যবসা করে আসছি। কস্মিনকালেও এখানে কোন পুকুরের অস্তিস্ত ছিল না। এছাড়াও এস্থানে বড় বড় তিনটি প্রতিষ্ঠান ছিল। যেমন- হারিকেন কোম্পানী, বালতি কোম্পানী,টেরী ফেব্রিক্স যা ফকরী এন্ড সন্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় অশীতপর এক বৃদ্ধা এ প্রতিবেদককে জানান,আমার জম্মের পর থেকে কখনো এ জায়গায় পুকুর দেখিনি। এখানের বালতি কোম্পানীতে আমি দীর্ঘদিন চাকুরী ও করেছি।

No description available.

নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার দি কিং অব চিটাগাং কনভেনশন সেন্টারের পাশে প্রায় ৯ কাঠা জমি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী কমিউনিটি ফ্যাসিলিটিজ জোন হিসেবে চিহ্নিত। ফলে, এখানে কোনো উন্নয়ন কাজের জন্য সিডিএর নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। চউকের নগর উন্নয়ন কমিটির ১৩ তম সভায় দি কিং অব চিটাগাং ক্লাব সংলগ্ন জমিটি আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক জোন হিসেবে পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত পরিবর্তন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নগর উন্নয়ন কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদিত হয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তীতে সিডিএ একাধিক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮-এর ৩৫(ক) অনুযায়ী, নগর উন্নয়ন কমিটি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার সকল উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নীতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করে। এছাড়া, ৩৬(৭) অনুযায়ী, নগর উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক।

No description available.

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। সঠিকভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেউ কারো কথা শুনে না এবং যে যার মতো করে অফিসের সময় পার করছে। এছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানটি স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য নিদিষ্ট আইন বা বিধিবিধান রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান নিয়োগ করার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের আইনের বারোটা বেজেছে। ফলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রণায় চউকে’র প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তে অযাচিত হস্থক্ষেপ করছে। এ ঠেলাঠেলীর কারণে সুদীর্ঘকাল ধরে জনবল সংকটের সমাধান করতে পারেনি।ফলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এ প্রতিষ্ঠান। এ পথ থেকে উত্তরণের জন্য চউক চেয়ারম্যান ও সচিবকে কঠোর হ’তে হবে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—–

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কথেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ নিয়ে উপর মহলে ধোঁয়াশা সৃষ্ঠি হয়েছে।নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন শুলকবহর মৌজায় পুকুরের উপর ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন নিয়ে এ মহলটি ব্যাপকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নসহ প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হচ্ছে।

এ প্রতিবেদক সরেজমিনে সাইট পরিদর্শন ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উক্ত স্থানে বহু পুরনো স্থাপনা ও নারিকেল গাছ বিদ্যমান, যা প্রমাণ করে যে অতীতে সেখানে কোনো পুকুর ছিল না। জলাধার বা পুকুর ভরাটের পর এমন পুরনো গাছ টিকে থাকা অসম্ভব। স্থানীয়দের সাক্ষ্য এবং Google Earth স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণেও দেখা যায় ২০০৪ সালেও উক্ত স্থানে পুকুরের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

No description available.

সিডিএ প্রদত্ত ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: “আলোচ্য সাইটের মোট আয়তন ১০,৫০০.৫৭ বর্গ মিটার বা ২.৫৯ একর। বি.এস. মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বি.এস. দাগ নং ৭১১ (০.৩৫ একর) এবং ৭৭৩ (০.২৮ একর) পুকুর হিসেবে চিহ্নিত। ড্যাপ এবং বাস্তবে আলোচ্য স্থানে কোনো পুকুর এখন বিধ্যমান নেই। তবে মৌজা ম্যাপে পুকুর হিসেবে উল্লেখ থাকায় যে কোনো ধরনের উন্নয়ন কাজ শুরুর পূর্বে পুকুর ভরাট সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হবে।” অর্থাৎ, সিডিএ কর্তৃক প্রদত্ত ছাত্রপত্রে পুকুর চিহ্নিত দাগসূচিতে স্থাপনা নির্মাণের কোনোরূপ অনুমতি প্রদান করা হয়নি।

সুত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গেজেটেড ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (DAP)-২০০৮ অনুযায়ী উক্ত দাগগুলো পুকুর বা জলাধার হিসেবে চিহ্নিত নয়। জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ (২-এর “চ” ধারা) অনুযায়ী, কেবলমাত্র মাষ্টার প্লানে চিহ্নিত অথবা সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের গেজেটভুক্ত জলাধারকেই জলাধার হিসেবে গণ্য করা হয়, যা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অতঃএব আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।

No description available.

সুত্রে জানা গেছে, সিডিএ’র একটি নকশা দালাল সিন্ডিকেট ও স্থানীয় কিছু টাউট প্রকৃতির চাঁদাবাজের সম্মন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটটি সম্পত্তির আমোক্তার গ্রহণকারী মো.জামশেদ আলমের নিকট বেশ মোটাংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওই সিন্ডিকেটটি অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে মো. জামশেদ আলম এ প্রতিবেদককে জানান, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে ব্যবসা করে আসছি। কস্মিনকালেও এখানে কোন পুকুরের অস্তিস্ত ছিল না। এছাড়াও এস্থানে বড় বড় তিনটি প্রতিষ্ঠান ছিল। যেমন- হারিকেন কোম্পানী, বালতি কোম্পানী,টেরী ফেব্রিক্স যা ফকরী এন্ড সন্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় অশীতপর এক বৃদ্ধা এ প্রতিবেদককে জানান,আমার জম্মের পর থেকে কখনো এ জায়গায় পুকুর দেখিনি। এখানের বালতি কোম্পানীতে আমি দীর্ঘদিন চাকুরী ও করেছি।

No description available.

নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার দি কিং অব চিটাগাং কনভেনশন সেন্টারের পাশে প্রায় ৯ কাঠা জমি ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী কমিউনিটি ফ্যাসিলিটিজ জোন হিসেবে চিহ্নিত। ফলে, এখানে কোনো উন্নয়ন কাজের জন্য সিডিএর নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। চউকের নগর উন্নয়ন কমিটির ১৩ তম সভায় দি কিং অব চিটাগাং ক্লাব সংলগ্ন জমিটি আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক জোন হিসেবে পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত পরিবর্তন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নগর উন্নয়ন কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদিত হয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তীতে সিডিএ একাধিক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮-এর ৩৫(ক) অনুযায়ী, নগর উন্নয়ন কমিটি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার সকল উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নীতি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করে। এছাড়া, ৩৬(৭) অনুযায়ী, নগর উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক।

No description available.

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। সঠিকভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেউ কারো কথা শুনে না এবং যে যার মতো করে অফিসের সময় পার করছে। এছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানটি স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য নিদিষ্ট আইন বা বিধিবিধান রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক বিবেচনায় চেয়ারম্যান নিয়োগ করার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের আইনের বারোটা বেজেছে। ফলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রণায় চউকে’র প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তে অযাচিত হস্থক্ষেপ করছে। এ ঠেলাঠেলীর কারণে সুদীর্ঘকাল ধরে জনবল সংকটের সমাধান করতে পারেনি।ফলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এ প্রতিষ্ঠান। এ পথ থেকে উত্তরণের জন্য চউক চেয়ারম্যান ও সচিবকে কঠোর হ’তে হবে।