নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিম মুরগির বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর কারণ ডিম মুরগির মূল্য নির্ধারণ কমিটিতে যুক্ত করার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে প্রান্তিক খামারিদের পক্ষ থেকে বার বার চিঠি দেয়ার পরেও ৮০% ডিম মুরগি  উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিদের ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ ওয়ার্কিং গ্রুপ কমিটিতে রাখা হয়নি । শুধু কর্পোরেট গ্রুপদের পরামর্শে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন থেকে ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে যার কারনে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে । এই অস্থিরতার পিছনে  ফিড মুরগির বাচ্চার কোম্পানি ও তাদের এসোসিয়েশন গুলোর এবং তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সহ আরো অনেকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। প্রান্তিক একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০.২৯ টাকা। ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা যদি ভোক্তা পর্যায়ের দাম থাকে তবে যৌক্তিক দাম। তবে ডিম মুরগির বাজারে স্বস্তি রাখতে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট ভেঙে ডিম মুরগির উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে প্রান্তিক খামারিয়া ন্যায্য মূল্য পাবে অন্যদিকে ভোক্তারা সস্তায় ডিম মুরগি খেতে পারবে কিন্তু সেই ডিমের দাম যেভাবে নির্ধারণ হয়।

 প্রথমে খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করেন, পরে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় রাতে ডিম পাঠিয়ে দেন, সকালে ফজরের নামাজের পর তারা মূল্য নির্ধারণ করে সব জায়গায় মোবাইল এস এম এস ও ফেসবুকের মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে বাড়তি বা কমতি দামকে বাস্তবায়ন করে। অন্য সবাই সেটা ফলো করে। যেমন তেজগাঁওসহ কাপ্তান বাজার, সাভার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, স্বরূপকাঠি, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, রংপুর।প্রতিদিন ১০০ ডিমে ১০-২০ টাকা করে কমিয়ে ৭ টাকা প্রতি পিচে দাম নামিয়ে আনে, আবার একই নিয়মে বাড়িয়ে দিয়ে ডিমের দাম প্রতিটি ১৩ টাকায় উঠিয়ে ফেলে। তারা কম দামে ডিম কিনে ৫ থেকে ৭ দিন সংরক্ষণ করতে চাইলে দোকান অথবা গোডাউনে রাখে এবং বেশি দিন রাখতে চাইলে কোল্ড স্টোরেজ করে।এতে দেখা যায় সারাদেশের ডিম ব্যবসায়ীরা লাভবান, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদক ও ভোক্তা। পরে সেই ডিম সিন্ডিকেট করে বেশি দামে বিক্রি করে অতি মুনাফা করে। অন্যদিকে উৎপাদক ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন থেকে সরে যাচ্ছে। ফিড মুরগির বাচ্চা চাহিদার ১০০% শেয়ার কর্পোরেতদের এসোসিয়েশন ভুক্ত কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। ফিড মুরগির বাচ্চা ১০০% উৎপাদন করায়, নিয়ন্ত্রণ করেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেন । বাজারের ডিম মুরগির চাহিদার ২০% উৎপাদন করে ও  কর্পোরেট কোম্পানিগুলো সু কৌশলে পুরো বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এবং বাজারের ডিম মুরগির চাহিদার ৮০% ডিম মুরগি  উৎপাদন করা উদ্যোক্তা প্রান্তিক খামারি ও ১৮ কোটি ভোক্তা তাদের কাছে অসহায় ।

এর আগেও  ২০২২-২০২৩ সালে সিন্ডিকেটের প্রমান পাওয়া যায় তখন বাজারে স্বস্তি রাখতে তৎকালীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান স্যারের শক্ত হস্তক্ষেপে সিন্ডিকেটে কে  দমন করায় সিন্ডিকেট লড়েচড়ে বসে এর  সুফল হিসাবে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১০০ টাকা কমে ছিল একটি দিমে ৩ টাকা কমেছিল ।

কর্পোরেট গ্রুপ ও এসোসিয়েশন গুলো সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়ার কারনে বার বার একই পরিস্থিতিতে পরতে হচ্ছে । ফিড বাচ্চার দাম নির্ধারণ না করে, বিগত দিনের সিন্ডিকেট কারীদের সাথে নিয়ে ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ করে দেয়ায়। কর্পোরেট গ্রুপদের সিন্ডিকেট করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে যার কারনে পুরনো সিন্ডিকেট মাথা চারা দিয়ে উঠেছে বাজারে অস্থিরতা হবে এটাই স্বাভাবিক বিষয়। গত ১৫ ই সেপ্টেম্বর ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয়। যেখানে বলা হয় উৎপাদক পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১০.৫৮ বিক্রয় করতে পারবে  যা ভোক্তা পর্যায়ে ১২ টাকায় বিক্রয় হওয়ার কথা । কিন্তু যাদেরকে সাথে নিয়ে দাম নিরধারন করা হল তারা কেউ সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রয় করেননি।প্রতিটি ডিম কর্পোরেট উৎপাদক পর্যায়ে ১১.০১ বিক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও তারা প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিটি ডিম বিক্রয় করেছেন ১১.৮০ – ১২.৫০ পর্যন্ত যা খুচরা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়  প্রতিটি দিমে ২ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে প্রতিদিন ৪ কোটি ডিমে ৮ কোটি টাকা হয়। গত ২০ দিনে ১৬০ কোটি টাকা ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে এবং  প্রতিটি মুরগির বাচ্চা ১৫ ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা ১৬ ই সেপ্টেম্বর থেকে একই বাচ্চা বিক্রয় হচ্ছে ৪০-৫৬ টাকায় এবং ডিমের মুরগির বাচ্চা বিক্রয় হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায় সব প্রতিদিন সব ধরনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় ৩০ লক্ষ্ মুরগির বাচ্চা উতপাদন হয়  প্রতিটি বাচ্চায় যদি ২০ টাকা বেশি ধরা হয় প্রতিদিন ৬ কোটি টাকা হয়। গত ২০ দিনে প্রান্তিক খামারিদের সাথে প্রতারনা  করে ১২০ কোটি টাকা কোম্পানি গুলো অতিরিক্ত মুনাফা করছে । প্রান্তিক খামারি ডিম এবং মুরগি উৎপাদন করে কিন্তু দাম নির্ধারণ করতে পারে না দাম নির্ধারণ করে কর্পোরেট গ্রুপ ও তেজগাঁও ডিম বাবসায়ি সমিতি তাদের সুবিধা মতন যে দাম নির্ধারণ করে সেই দামে প্রান্তিক খামারিদের ডিম মুরগি বিক্রয় করতে হয়।   যখন দাম বাড়িয়ে দেয় তখন খামারি ন্যায্য মূল্য পায় যখন কমিয়ে দেয় তখন উৎপাদন খরচ থেকে কম দামে বিক্রয় করে লস হওয়ার কারনে  উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। ডিম মুরগির বাজারে অস্থিরতার কারন কর্পোরেট গ্রুপ ও তেজগাঁও ডিম বাবসায়িদের আধিপত্য বিস্তার। এই সিন্ডিকেট বার বার বাজারে সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিলেও তাদের শাস্তি না হওয়ার কারনে বাজারে অস্থিরতা বেড়েই  চলছে। বিগত দিনের সিন্ডিকেট কারীদের নাম সহ তুলে ধরা হল।  যেমনঃ- বিগ লিডিং কোম্পানিঃ-১. কাজী ফার্মস পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ২.পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারী ৩.আফতাব পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি ৪.প্যারাগন পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ৫. নারিশ পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ৬.নাহার পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ৭.সিপি বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারি।

১.ব্রিডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। ২. ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। ৩. বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল । ৪.  ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন। ৫.বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন । ৬. বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতিয় পরিষদ। ৭. বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রেডিয়েন্টস ইমপোর্টারস এন্ড ট্রেডিং এসোসিয়েশন। ৮. পোল্ট্রি প্রফেশনাল বাংলাদেশ । ৯.তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি, সহ আরো অনেকেরএছাড়াও আরো অনেকে যুক্ত রয়েছে ।

২০২২ ডিম মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট করার দায় প্রতিযোগিতা কমিশনে মামলা চলমান ।

এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ডিমের বাজারে অস্থিরতার কারণে সিপি, প্যারাগন, কাজী ফার্মস, ডায়মন্ড এগ ও তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমানত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল বিসিসি। সেই মামলা এখনো চলমান।

 ২০২৩ডিম মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট করার দায় প্রতিযোগিতা কমিশনে মামলা চলমান ।

এর আগে কাজী ফার্মস  প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড, ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, পিপলস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, নাবা ফার্ম লিমিটেড, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন(বিপিআইএ), বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ, পোলট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ (পিপিবি) এবং ইউনাইটেড এগ সেল পয়েন্টের বিরুদ্ধে মামলা  রয়েছে।এই সিন্ডিকেট চক্র কে ভাঙ্গতে না পারলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে না।

একই ব্যক্তি বা কোম্পানি সকল এসোসিয়েশনের মেম্বার এরাই সরকারের মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরে মিটিং করেন এবং সরকারকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে আসাদু কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় সরকারের কাছ থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান ও সাবেক ডিজি,, উৎপাদক পরিচাল্ক প্রাণিসম্প্দ, খামার পরিচালক প্রাণিসম্প্দ,সহ আরো অনেকে বক্তব্য দিয়ে থাকেন যে সিন্ডিকেট বলা যাবে না তারা বড় ব্যবসায়ী তারা হয়তো একটু বেশি মুনাফা করেছে ।

এই সকল অসাধু কর্মকর্তাদের এবং কর্পোরেট সিন্ডিকেটের যদি লাগাম টানা না যায় । তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রান্তিক পোল্ট্রি শিল্পের পোল্ট্রি শিল্পের জন্যজন্য অশনি সংকেত বয়ে আনবে । অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে ডিম মুরগি দাম এক সময় ডিম মুরগি বড় লোকের পণ্য হয়ে যাবে প্রোটিনের অভাবে ভুগবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে এক লক্ষ ৬০ হাজার প্রান্তিক খামার থেকে পুজি হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় এক লক্ষ খামার ।,আবার বন্ধ হওয়া খামার থেকে কোম্পানির সাথে চুক্তি ভিক্তিক খামারে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার খামার ।বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক খামার এবং প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচের বৈষম্য থাকায় ডিম অ মুরগির বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে বিপরীতে প্রান্তিক খামারীরা ন্যায্য মূল্যে না পেয়ে উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে । ১ লক্ষ্ ৬০ হাজার প্রান্তিক খামারিদের  উৎপাদনে সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে জরিত প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান।  সারাদেশের খামারি, পাইকারি, খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ওঠা তেজগাঁও ডিম সমিতির নির্ধারিত দামের ওপর নির্ভর করে।খামারি থেকে চার দিন পর পর ডিম ক্রয় করা হয়। খামারি চাইলে অন্য কারো কাছে ডিম বিক্রি করতে পারেন না। একই পাইকারের কাছে ডিম বিক্রি করতে হয়। ঢাকার সাধারণ ডিম ব্যবসায়ীদের তেজগাঁও ডিমের বাজার থেকে যে মূল্য নির্ধারণ করে ক্যাশ মেমোর মধ্যে লিখে দেবে সেই দামে কিনতে হয় এবং কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, নিউমার্কেটসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে যারা খুচরা ডিম বিক্রি করে তেজগাঁও ডিমের বাজার থেকে ক্যাশ মেমোতে যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয় তার সেই দামের ওপর নির্ভর করে তাদের ডিম বিক্রি করতে হয়।এ বিষয়ে তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং বাজার অব্যবস্থাপনার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি ।সিন্ডিকেট মুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা করতে অবশ্যই করপোরেট কোম্পানিগুলা এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে জবাবদিহিতার এনে করপোরেট কোম্পানি ও বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষা দিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে হবে।সরকারের পক্ষ থেকে প্রান্তিক খামারিদের জামানতবিহীন ঋণ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ডিম ও মুরগির উৎপাদন বাড়াতে হবে, তাহলেই বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করি । দাম বাড়ানো কমানোর বিগত দিনের কিছু তথ্য সংযুক্ত করা হল।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিম মুরগির বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর কারণ ডিম মুরগির মূল্য নির্ধারণ কমিটিতে যুক্ত করার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে প্রান্তিক খামারিদের পক্ষ থেকে বার বার চিঠি দেয়ার পরেও ৮০% ডিম মুরগি  উৎপাদনকারী প্রান্তিক খামারিদের ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ ওয়ার্কিং গ্রুপ কমিটিতে রাখা হয়নি । শুধু কর্পোরেট গ্রুপদের পরামর্শে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন থেকে ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে যার কারনে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে । এই অস্থিরতার পিছনে  ফিড মুরগির বাচ্চার কোম্পানি ও তাদের এসোসিয়েশন গুলোর এবং তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সহ আরো অনেকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। প্রান্তিক একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০.২৯ টাকা। ১২ থেকে সাড়ে ১২ টাকা যদি ভোক্তা পর্যায়ের দাম থাকে তবে যৌক্তিক দাম। তবে ডিম মুরগির বাজারে স্বস্তি রাখতে পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার সিন্ডিকেট ভেঙে ডিম মুরগির উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে প্রান্তিক খামারিয়া ন্যায্য মূল্য পাবে অন্যদিকে ভোক্তারা সস্তায় ডিম মুরগি খেতে পারবে কিন্তু সেই ডিমের দাম যেভাবে নির্ধারণ হয়।

 প্রথমে খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করেন, পরে ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় রাতে ডিম পাঠিয়ে দেন, সকালে ফজরের নামাজের পর তারা মূল্য নির্ধারণ করে সব জায়গায় মোবাইল এস এম এস ও ফেসবুকের মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে বাড়তি বা কমতি দামকে বাস্তবায়ন করে। অন্য সবাই সেটা ফলো করে। যেমন তেজগাঁওসহ কাপ্তান বাজার, সাভার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, স্বরূপকাঠি, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, রংপুর।প্রতিদিন ১০০ ডিমে ১০-২০ টাকা করে কমিয়ে ৭ টাকা প্রতি পিচে দাম নামিয়ে আনে, আবার একই নিয়মে বাড়িয়ে দিয়ে ডিমের দাম প্রতিটি ১৩ টাকায় উঠিয়ে ফেলে। তারা কম দামে ডিম কিনে ৫ থেকে ৭ দিন সংরক্ষণ করতে চাইলে দোকান অথবা গোডাউনে রাখে এবং বেশি দিন রাখতে চাইলে কোল্ড স্টোরেজ করে।এতে দেখা যায় সারাদেশের ডিম ব্যবসায়ীরা লাভবান, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদক ও ভোক্তা। পরে সেই ডিম সিন্ডিকেট করে বেশি দামে বিক্রি করে অতি মুনাফা করে। অন্যদিকে উৎপাদক ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উৎপাদন থেকে সরে যাচ্ছে। ফিড মুরগির বাচ্চা চাহিদার ১০০% শেয়ার কর্পোরেতদের এসোসিয়েশন ভুক্ত কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। ফিড মুরগির বাচ্চা ১০০% উৎপাদন করায়, নিয়ন্ত্রণ করেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেন । বাজারের ডিম মুরগির চাহিদার ২০% উৎপাদন করে ও  কর্পোরেট কোম্পানিগুলো সু কৌশলে পুরো বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করেন। এবং বাজারের ডিম মুরগির চাহিদার ৮০% ডিম মুরগি  উৎপাদন করা উদ্যোক্তা প্রান্তিক খামারি ও ১৮ কোটি ভোক্তা তাদের কাছে অসহায় ।

এর আগেও  ২০২২-২০২৩ সালে সিন্ডিকেটের প্রমান পাওয়া যায় তখন বাজারে স্বস্তি রাখতে তৎকালীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান স্যারের শক্ত হস্তক্ষেপে সিন্ডিকেটে কে  দমন করায় সিন্ডিকেট লড়েচড়ে বসে এর  সুফল হিসাবে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১০০ টাকা কমে ছিল একটি দিমে ৩ টাকা কমেছিল ।

কর্পোরেট গ্রুপ ও এসোসিয়েশন গুলো সিন্ডিকেট শক্তিশালী হওয়ার কারনে বার বার একই পরিস্থিতিতে পরতে হচ্ছে । ফিড বাচ্চার দাম নির্ধারণ না করে, বিগত দিনের সিন্ডিকেট কারীদের সাথে নিয়ে ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ করে দেয়ায়। কর্পোরেট গ্রুপদের সিন্ডিকেট করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে যার কারনে পুরনো সিন্ডিকেট মাথা চারা দিয়ে উঠেছে বাজারে অস্থিরতা হবে এটাই স্বাভাবিক বিষয়। গত ১৫ ই সেপ্টেম্বর ডিম মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয়। যেখানে বলা হয় উৎপাদক পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১০.৫৮ বিক্রয় করতে পারবে  যা ভোক্তা পর্যায়ে ১২ টাকায় বিক্রয় হওয়ার কথা । কিন্তু যাদেরকে সাথে নিয়ে দাম নিরধারন করা হল তারা কেউ সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রয় করেননি।প্রতিটি ডিম কর্পোরেট উৎপাদক পর্যায়ে ১১.০১ বিক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও তারা প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিটি ডিম বিক্রয় করেছেন ১১.৮০ – ১২.৫০ পর্যন্ত যা খুচরা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ১৪-১৫ টাকায়  প্রতিটি দিমে ২ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে প্রতিদিন ৪ কোটি ডিমে ৮ কোটি টাকা হয়। গত ২০ দিনে ১৬০ কোটি টাকা ভোক্তাদের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে এবং  প্রতিটি মুরগির বাচ্চা ১৫ ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা ১৬ ই সেপ্টেম্বর থেকে একই বাচ্চা বিক্রয় হচ্ছে ৪০-৫৬ টাকায় এবং ডিমের মুরগির বাচ্চা বিক্রয় হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায় সব প্রতিদিন সব ধরনের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় ৩০ লক্ষ্ মুরগির বাচ্চা উতপাদন হয়  প্রতিটি বাচ্চায় যদি ২০ টাকা বেশি ধরা হয় প্রতিদিন ৬ কোটি টাকা হয়। গত ২০ দিনে প্রান্তিক খামারিদের সাথে প্রতারনা  করে ১২০ কোটি টাকা কোম্পানি গুলো অতিরিক্ত মুনাফা করছে । প্রান্তিক খামারি ডিম এবং মুরগি উৎপাদন করে কিন্তু দাম নির্ধারণ করতে পারে না দাম নির্ধারণ করে কর্পোরেট গ্রুপ ও তেজগাঁও ডিম বাবসায়ি সমিতি তাদের সুবিধা মতন যে দাম নির্ধারণ করে সেই দামে প্রান্তিক খামারিদের ডিম মুরগি বিক্রয় করতে হয়।   যখন দাম বাড়িয়ে দেয় তখন খামারি ন্যায্য মূল্য পায় যখন কমিয়ে দেয় তখন উৎপাদন খরচ থেকে কম দামে বিক্রয় করে লস হওয়ার কারনে  উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। ডিম মুরগির বাজারে অস্থিরতার কারন কর্পোরেট গ্রুপ ও তেজগাঁও ডিম বাবসায়িদের আধিপত্য বিস্তার। এই সিন্ডিকেট বার বার বাজারে সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিলেও তাদের শাস্তি না হওয়ার কারনে বাজারে অস্থিরতা বেড়েই  চলছে। বিগত দিনের সিন্ডিকেট কারীদের নাম সহ তুলে ধরা হল।  যেমনঃ- বিগ লিডিং কোম্পানিঃ-১. কাজী ফার্মস পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ২.পিপলস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারী ৩.আফতাব পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি ৪.প্যারাগন পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ৫. নারিশ পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ৬.নাহার পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারী ৭.সিপি বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফিড এন্ড হ্যাচারি।

১.ব্রিডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। ২. ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। ৩. বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল । ৪.  ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন। ৫.বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন । ৬. বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতিয় পরিষদ। ৭. বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রেডিয়েন্টস ইমপোর্টারস এন্ড ট্রেডিং এসোসিয়েশন। ৮. পোল্ট্রি প্রফেশনাল বাংলাদেশ । ৯.তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি, সহ আরো অনেকেরএছাড়াও আরো অনেকে যুক্ত রয়েছে ।

২০২২ ডিম মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট করার দায় প্রতিযোগিতা কমিশনে মামলা চলমান ।

এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ডিমের বাজারে অস্থিরতার কারণে সিপি, প্যারাগন, কাজী ফার্মস, ডায়মন্ড এগ ও তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমানত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল বিসিসি। সেই মামলা এখনো চলমান।

 ২০২৩ডিম মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট করার দায় প্রতিযোগিতা কমিশনে মামলা চলমান ।

এর আগে কাজী ফার্মস  প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড, ডায়মন্ড এগ লিমিটেড, পিপলস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, নাবা ফার্ম লিমিটেড, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন(বিপিআইএ), বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ, পোলট্রি প্রফেশনালস বাংলাদেশ (পিপিবি) এবং ইউনাইটেড এগ সেল পয়েন্টের বিরুদ্ধে মামলা  রয়েছে।এই সিন্ডিকেট চক্র কে ভাঙ্গতে না পারলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে না।

একই ব্যক্তি বা কোম্পানি সকল এসোসিয়েশনের মেম্বার এরাই সরকারের মন্ত্রণালয় অধিদপ্তরে মিটিং করেন এবং সরকারকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে আসাদু কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় সরকারের কাছ থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান ও সাবেক ডিজি,, উৎপাদক পরিচাল্ক প্রাণিসম্প্দ, খামার পরিচালক প্রাণিসম্প্দ,সহ আরো অনেকে বক্তব্য দিয়ে থাকেন যে সিন্ডিকেট বলা যাবে না তারা বড় ব্যবসায়ী তারা হয়তো একটু বেশি মুনাফা করেছে ।

এই সকল অসাধু কর্মকর্তাদের এবং কর্পোরেট সিন্ডিকেটের যদি লাগাম টানা না যায় । তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রান্তিক পোল্ট্রি শিল্পের পোল্ট্রি শিল্পের জন্যজন্য অশনি সংকেত বয়ে আনবে । অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে ডিম মুরগি দাম এক সময় ডিম মুরগি বড় লোকের পণ্য হয়ে যাবে প্রোটিনের অভাবে ভুগবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে এক লক্ষ ৬০ হাজার প্রান্তিক খামার থেকে পুজি হারিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় এক লক্ষ খামার ।,আবার বন্ধ হওয়া খামার থেকে কোম্পানির সাথে চুক্তি ভিক্তিক খামারে যুক্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার খামার ।বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক খামার এবং প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচের বৈষম্য থাকায় ডিম অ মুরগির বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে বিপরীতে প্রান্তিক খামারীরা ন্যায্য মূল্যে না পেয়ে উৎপাদন থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে । ১ লক্ষ্ ৬০ হাজার প্রান্তিক খামারিদের  উৎপাদনে সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে জরিত প্রায় ৫০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান।  সারাদেশের খামারি, পাইকারি, খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ওঠা তেজগাঁও ডিম সমিতির নির্ধারিত দামের ওপর নির্ভর করে।খামারি থেকে চার দিন পর পর ডিম ক্রয় করা হয়। খামারি চাইলে অন্য কারো কাছে ডিম বিক্রি করতে পারেন না। একই পাইকারের কাছে ডিম বিক্রি করতে হয়। ঢাকার সাধারণ ডিম ব্যবসায়ীদের তেজগাঁও ডিমের বাজার থেকে যে মূল্য নির্ধারণ করে ক্যাশ মেমোর মধ্যে লিখে দেবে সেই দামে কিনতে হয় এবং কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, নিউমার্কেটসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে যারা খুচরা ডিম বিক্রি করে তেজগাঁও ডিমের বাজার থেকে ক্যাশ মেমোতে যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয় তার সেই দামের ওপর নির্ভর করে তাদের ডিম বিক্রি করতে হয়।এ বিষয়ে তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং বাজার অব্যবস্থাপনার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি ।সিন্ডিকেট মুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা করতে অবশ্যই করপোরেট কোম্পানিগুলা এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে জবাবদিহিতার এনে করপোরেট কোম্পানি ও বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষা দিয়ে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে হবে।সরকারের পক্ষ থেকে প্রান্তিক খামারিদের জামানতবিহীন ঋণ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ডিম ও মুরগির উৎপাদন বাড়াতে হবে, তাহলেই বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করি । দাম বাড়ানো কমানোর বিগত দিনের কিছু তথ্য সংযুক্ত করা হল।