তেজগাঁও প্রতিনিধি: রাজধানীর তেজগাঁও এর পশ্চিম নাখালপাড়ায় স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম শান্ত বাহিনী। এ বাহিনীর প্রধান তানভীর আহমেদ ওরফে শান্ত পুলিশের সোর্স ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।
শান্ত বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। তারা যখন যাকে খুশি মারধর, হামলা ও নির্যাতন করছে। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই পুরো গ্যাং নিয়ে এসে হামলা করে।
জানা যায়, ওই বাহিনীর প্রধান শান্ত ওরফে ফর্মা শান্তর নেতৃত্বে রয়েছে এলাকার উঠতি বয়সের ১৫ থেকে ২০ জন কিশোরের একটি বাহিনী। যাদের অধিকাংশ নেশাগ্রস্ত। শান্ত স্থানীয় এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীর ছেলে। শান্তর বাবা নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। নাখালপাড়ায় শান্ত বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসা, গার্মেন্টস কর্মীদের বেতনের টাকা, মোবাইল ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এই বাহিনীর অত্যাচারে নাখালপাড়া এলাকা বাসীরা অতিষ্ঠ। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে না পেলে প্রকাশ্যেই চালায় তাণ্ডব। শান্ত বাহিনীর একাধিক সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করলেও শান্তর নেতৃত্বে বেপরোয়া এই কিশোর গ্যাং। এ গ্যাংয়ের সদস্যদের সারাদিন নাখালপাড়া রেল গেইট থেকে পাগলারপুল রেললাইনে আড্ডাবাজি এবং প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, শান্ত পুলিশের সোর্স তাঁর অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বললে উল্টো পুলিশ নিয়ে এসে ধরিয়ে দেয়। কিছুদিন আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র নাখালপাড়ার আরেক কিশোর গ্যাং এর দুই সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে শান্ত বাহিনী। পরে শান্ত পুলিশ নিয়ে এলাকায় ঘুরে ঐ কিশোর গ্যাং এর অন্য সদস্যদের এলাকাছাড়া করে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, নাখালপাড়া পাগলারপুল এলাকায় শান্ত বাহিনী জমজমাট মাদক ব্যবসা গড়ে তুলেছে। শান্ত, সালাম, হান্নান, সজিব, তুষার, জীবন, জাহিদ সহ এই বাহিনীর সবাই মাদকের সাথে লিপ্ত হয়ে এলাকায় এক বিশাল কিশোর গ্যাং বাহিনী গড়ে তুলেছে।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, কিশোর গ্যাং শান্ত বাহিনী দীর্ঘদিন যাবত পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র-ছায়ায় থেকে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, ছিনতাই পকেটমার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শান্ত এক মন্ত্রীর পিও’র ভাতিজার পরিচয় দিয়েও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড করে বেড়ায় বলেও জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া সে গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। সোর্সের পেশাকে কাজে লাগিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে অবাধ ইয়াবা ব্যবসা।




