মীর হোসেন মোল্লা: মাদকদ্রব্য আমাদের জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, আর্থসামাজিকতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও বর্তমানে এদেশের যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি এবং এর ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া প্রকট হয়ে উঠেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে অবৈধ মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যুব সমাজ আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতেই রচিত হবে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মাদক আমাদের যুব সমাজের একটি অংশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে আমাদের সামাজিকতা, নৈতিকতা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।’ মনুষ্যসমাজে মাদকের আদি ব্যবহার শুরু হয়েছিল মনুষ্যজীবন প্রবাহের শুরু থেকেই। আদিম মানুষেরা বন্য প্রাণী শিকার করতে গিয়ে, কিংবা গোত্রে গোত্রে সংঘাত থেকে আঘাত এবং জখম-উদ্ভূত কষ্ট ও যন্ত্রণা লাঘবের জন্য, কিংবা বিভিন্ন শারীরিক পীড়া ও বিকার নিরাময়ের জন্য হাতের কাছে যা কিছু পেয়েছে তাই ব্যবহার করেছে। এভাবে বিভিন্ন প্রয়োজনে বারবার বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করতে করতে এক সময় বিশেষ কাজে বিশেষ জিনিসের কার্যকরিতা লক্ষ করে মানুষ পরবর্তীতে অনুরূপ কাজে এর ব্যবহার শিখেছে, যাকে আমরা এখন ওষুধ হিসেবে অভিহিত করি। কালক্রমে ওষুধরূপী এসব মাদকের আনন্দদায়ক, বেদনানাশক, প্রশান্তিদায়ক, ঘুমদায়ক, অতীন্দ্রিয় অনুভূতিদায়ক, ইন্দ্রজাল সৃষ্টিকারক গুণাবলির জন্য এগুলো বিনোদন, যাদু-টোনা, ধর্ম সাধনা, অতীন্দ্রিয় অনুভূতিলাভ, প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া শুরু হয়েছিল।

বাংলাদেশে ঠিক কত মানুষ মাদকাসক্ত তার সঠিক কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে ধারণা করা হয়, এ সংখ্যা কম-বেশি ৯০ লাখ। তবে এটা ঠিক মাদকসেবীদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৫ জন নারী। নারী আসক্তদের ৯০ ভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। বাকিদের বয়স ৩৫-৪৫ বছরের মধ্যে। তবে উদ্বেগের কারণ হলো আমাদের দেশে মহিলাদের মধ্যেও মাদক সেবনের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইয়াবাকে। ইয়াবা গ্রহণের ফলে মাদকাসক্তদের কিডনি, লিভার ও ফুসফুস চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদকাসক্তির পেছনে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো হলো সমবয়সিদের চাপ, মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব, আর্থসামাজিক অস্থিরতা, মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক কলহ, চিকিৎসাসৃষ্ট মাদকাসক্তি, কৌতূহল ইত্যাদি।

মাদকদ্রব্যের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনামূল্যে রোগীদের থাকা, খাওয়া, ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিশেষ কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

মীর হোসেন মোল্লা: মাদকদ্রব্য আমাদের জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, আর্থসামাজিকতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও বর্তমানে এদেশের যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি এবং এর ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া প্রকট হয়ে উঠেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে অবৈধ মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তির গভীর যোগসূত্র রয়েছে। যুব সমাজ আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতেই রচিত হবে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মাদক আমাদের যুব সমাজের একটি অংশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে আমাদের সামাজিকতা, নৈতিকতা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।’ মনুষ্যসমাজে মাদকের আদি ব্যবহার শুরু হয়েছিল মনুষ্যজীবন প্রবাহের শুরু থেকেই। আদিম মানুষেরা বন্য প্রাণী শিকার করতে গিয়ে, কিংবা গোত্রে গোত্রে সংঘাত থেকে আঘাত এবং জখম-উদ্ভূত কষ্ট ও যন্ত্রণা লাঘবের জন্য, কিংবা বিভিন্ন শারীরিক পীড়া ও বিকার নিরাময়ের জন্য হাতের কাছে যা কিছু পেয়েছে তাই ব্যবহার করেছে। এভাবে বিভিন্ন প্রয়োজনে বারবার বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করতে করতে এক সময় বিশেষ কাজে বিশেষ জিনিসের কার্যকরিতা লক্ষ করে মানুষ পরবর্তীতে অনুরূপ কাজে এর ব্যবহার শিখেছে, যাকে আমরা এখন ওষুধ হিসেবে অভিহিত করি। কালক্রমে ওষুধরূপী এসব মাদকের আনন্দদায়ক, বেদনানাশক, প্রশান্তিদায়ক, ঘুমদায়ক, অতীন্দ্রিয় অনুভূতিদায়ক, ইন্দ্রজাল সৃষ্টিকারক গুণাবলির জন্য এগুলো বিনোদন, যাদু-টোনা, ধর্ম সাধনা, অতীন্দ্রিয় অনুভূতিলাভ, প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া শুরু হয়েছিল।

বাংলাদেশে ঠিক কত মানুষ মাদকাসক্ত তার সঠিক কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে ধারণা করা হয়, এ সংখ্যা কম-বেশি ৯০ লাখ। তবে এটা ঠিক মাদকসেবীদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৫ জন নারী। নারী আসক্তদের ৯০ ভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। বাকিদের বয়স ৩৫-৪৫ বছরের মধ্যে। তবে উদ্বেগের কারণ হলো আমাদের দেশে মহিলাদের মধ্যেও মাদক সেবনের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইয়াবাকে। ইয়াবা গ্রহণের ফলে মাদকাসক্তদের কিডনি, লিভার ও ফুসফুস চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদকাসক্তির পেছনে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো হলো সমবয়সিদের চাপ, মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব, আর্থসামাজিক অস্থিরতা, মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক কলহ, চিকিৎসাসৃষ্ট মাদকাসক্তি, কৌতূহল ইত্যাদি।

মাদকদ্রব্যের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনামূল্যে রোগীদের থাকা, খাওয়া, ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিশেষ কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।