নিজস্ব প্রতিবেদক: অবিশ্বাস্যভাবে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন আনোয়ারা উপজেলার ২নং বারশত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ। রাজনীতি ও ব্যবসাকে পুঁজি করে, ব্যবহার করে তিনি এই অঢেল সম্পদের মালিক হন বলে জানা গেছে।

এক সময় তার কিছুই ছিলনা। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় তিনি কিভাবে এতোসব সম্পদ আর টাকার মালিক বনে গেলেন এই নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই অনেকের। দশ বছর আগেও তার বলতে গেলে তেমন কিছুই ছিল না। চট্টগ্রাম শহরে আসলে থাকতেন আদালতের পুর্ব পাশের রাস্তার বিপরিতে হোটেল সম্রাটে। আবাসিক হোটেলটির মালিক মনসুর নামক এক ব্যক্তির। তার বাড়িও পারকি দুধ কুমরা এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে। সম্পদ বলতে তেমন কিছু না থাকলেও তার পুঁজি ছিল তিনি ছাত্রলীগ করতেন। ছিলেন একাংশের সাধারণ সম্পাদকের পদেও। শুনা গিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন সাবেক ইউসিবির চেয়ারম্যান প্রয়াত জাফর আহমদ চৌধুরী প্রফেসর ডাঃ নাসির উদ্দীন মাহমুদসহ অনেকের সেল্টার পেতেন এই কাইয়ুম শাহ।

আনোয়ারায় তখন উক্ত গ্রুপের নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন সামশুদ্দীন আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান আবুল মনসুর চৌধুরী। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধুরী। দাপুটে এই ছাত্রলীগ নেতা মাত্র দশ বছরের মাথায় এখন হয়ে গেছেন গাড়ি, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কাড়ি কাড়ি টাকা, অঢেল সহায় সম্পদের মালিক। আনোয়ারায় আরও অনেকে কোটিপতি ও সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। যা তদন্ত করা হলে জানা যাবে সম্পদের আসল উৎস জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র।

অত্যাধুনিক “লুসাই পার্ক” পারকি বিচের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র, হোটেল দেয়াং (রেস্টুরেন্ট), যা দক্ষিণ চট্টগ্রামে আছে কিনা সন্দেহ। আনোয়ারা হাসপাতালের সামনে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, রোগ নিরুপনী কেন্দ্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টিভি ফ্রিজের দোকান, শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি, নির্মানাধীন কমিউনিটি সেন্টার, একক ডিস ব্যবসা, দামী গাড়িসহ আরো কতো অর্জন শেষ নেই তার। লুসাই পার্ক’র পর বাকি আছে শিল্প পার্ক করার জানিয়েছেন একটি সুত্র।

শুনা গেছে, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও নাকি তার প্লট এবং ফ্ল্যাট আছে। আছে দামী গাড়িও। আনোয়ারার ভেতরসহ চট্টগ্রামের সব জায়গায় তিনি ঘুরে বেড়ান এই দামী গাড়িতে চড়ে। প্রয়োজন হলে তিনি উক্ত গাড়ি নিয়ে ঢাকায়ও চলে যান বলে জানা গেছে।

দুবাইও পাড়ি দেন ঘন ঘন। দশ বছরের আগেকার কাইয়ুম আর এখানকার বর্তমানের কাইয়ুমকে আপনি চিনতে পারবেন না। তিনি পুরোপুরি বদলে গেছেন। এক সময়ের শান্ত মেজাজের এই ছেলেটি বর্তমানে হয়ে গেছেন একেবারে কড়া। তিনি সারাক্ষণ গম্ভীরভাব নিয়ে থাকেন কথা বলেন একেবারে কম। সালিশ বিচার নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তাকে। পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি জনগনের চেয়ারম্যান সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। বলে থাকেন তার বলতে গেলে কিছুই নেই। এমনকি বউ বাচ্চার খরচ সামাল দিতেও নাকি কষ্ট হয় তার।

বিএনপি নেতা হাসান চেয়ারম্যাকে পরাজিত করে প্রথমবার চেয়ারম্যান হন তিনি। পরের বার হয়েছেন দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়ে। আনোয়ারার বড় বড় প্রকল্পের কাজ করেন সিন্ডিকেট করে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ পারকি বিচের কাজও করছেন সাব ঠিকাদার হয়ে।

অনেকের মন্তব্য, তিনি হয়তো অল্প দিনে পেয়ে গেছেন আলাদিনের চেরাগ। অনেকে বলছেন তিনি হয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীরের মতো সম্পদ এর মালিক। ব্যবসার আড়ালে আলোচিত এই চেয়ারম্যান এর আরও কি ব্যবসা আছে তা খতিয়ে দেখতে পারেন সরকারের এজেন্সিগুলো আর দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান। তার এতোসব অর্জনের মাঝে তিনি সরকারকে কতো টাকার টেক্স দেন নাকি চেয়ারম্যান এবং সরকারী দলের নেতার দাপটে কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি একাধারে জনপ্রতিনিধি সরকারী দলের নেতা ব্যবসায়ীক যোগ্যতা অর্জন করায় প্রায় সময় থাকেন উগ্র মেজাজে। তিনি দেখান বড় মাপের একজন মানুষ। কাউকে তোয়াক্কা করার প্রয়াজন কি? এসব চরিত্র আসায় অনেকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এলাকার ডিস ব্যবসাও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রনে। ছোট ভাই অহিদ তার এই ডিস ব্যবসা দেখেন বলে জানা গেছে। সিন্ডিকেট করে কয়েকজন মিলে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন। কোটিপতি এই চেয়ারম্যান এখন হিসাব দেওয়ার ভয়ে আছেন। এই ভয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় গোপনে টাকা লগ্নী করছেন বলে জানা গেছে।

॥স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানায়, এমএ কাইয়ুম শাহ’র বাড়ি পারকির দুধ কুমরা গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম আবদুস ছবুর। নিম্ম মধ্যবৃত্ত পরিবারে তার জম্ম। ছাত্র অবস্থায় তিনি ছাত্র লীগ করতেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সামশু-মনসুর গ্রুপ ছাত্রলীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক হন। সভাপতি ছিলেন বুরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ। পরে দুজনই উক্ত গ্রুপ ত্যাগ করেন। মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু গ্রুপে যোগ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হন কাইয়ুম শাহ। মুরাদ হয়ে যান আখতারুজ্জান চৌধুরী বাবু এমপির একান্ত সহকারী। তবে এই কাইয়ুম শাহ উপজেলা আওয়ামী লীগের বড়সড় কোন পদে নেই সদস্য পদে আছেন বলে জানা গেছে। তার ভাগ্য বদলানো শুরু হয় বসুনদ্ধরা গ্রুপ আসার পর। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরীর পাশের মাঝের চরে বেসরকারী শিল্প গ্রুপ বসুনদ্ধরার কারখানা প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। পরে সরকার উক্ত জমি বিদ্যুৎ কারখানার জন্য অধিগ্রহণ করেন।

সুত্র আরো জানায়, ২০০৯সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আর পেছনে থাকাতে হয়নি। শুরু হয় ভাগ্যের জোয়ার। গড়া শুরু হয় একের পর এক নানা প্রতিষ্ঠান। সমুদ্র উপকূল পারকির চরে বিশাল জমির উপর প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন বিনোদন কেন্দ্র অত্যাধুনিক লুসাই পার্ক। হঠাৎ তিনি আলাদিনের চেরাগের মতো টাকার বস্তা পেয়ে যান, কোথায় কি করে পেলেন প্রশ্নের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের কাছে। একজন চেয়ারম্যানতো এতো টাকার মালিক হতে পারেন না। মাঝখানে শুনা গিয়েছিল তাকে নাকি সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধরে নিয়ে গেছেন। পরে সেটির বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিকভাবে রয়েছে তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই দুটোই নিয়ন্ত্রিত হয় পারকি বিচে বসে। উপকুলীয় পারকি ও গহিরা সমুদ্র উপকূল এলাকাটি চোরাচালান জোন হিসেবে সমাধিক পরিচিত। বেশ কিছুদিন আগে কয়েকশ’ কোটি টাকার বড় ধরনের একটি ইয়াবার চালান আটক করেন র‌্যাব সদস্যরা। ধরা পড়েন মোজাহের সওদাগর নামক কুখ্যাত চোরাকারবারি। তারপরও এই এলাকার চোরাচালান ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছেনা।

ইয়াবার এই চালানে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরেক চোরাকারবারি নুন জলিল আমেরিকায় পালিয়ে যান। তিনি এখনো দেশে আসেননি। দু’জনের বাড়ি গহিরা এলাকায়। তবে এই সমুদ্র উপকূলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট রয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় সময় মাদকসহ নানা নিষিদ্ধ পণ্য দেশে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ এর ০১৮১৬-৪৪৭৫৩০ নাম্বারে ফোন করা হলে তার সংযোগ বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি জাতীয় একটি দৈনিকে আনোয়ারার সমুদ্র উপকূলে চেরাচালান ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। অনেকে এই চোরাচালান ব্যবসায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। তবে ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও সিন্ডিকেটের এসব সদস্য থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ হচ্ছেনা উপকূলের মাদক ব্যবসা।

ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের কারণে স্থানীয় যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। শুধু উপকূলে নহে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের সবখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন অনেকের। এক্ষেত্রে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর আছেন ঘুমে।(পর্ব-এক)

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবিশ্বাস্যভাবে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন আনোয়ারা উপজেলার ২নং বারশত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ। রাজনীতি ও ব্যবসাকে পুঁজি করে, ব্যবহার করে তিনি এই অঢেল সম্পদের মালিক হন বলে জানা গেছে।

এক সময় তার কিছুই ছিলনা। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় তিনি কিভাবে এতোসব সম্পদ আর টাকার মালিক বনে গেলেন এই নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই অনেকের। দশ বছর আগেও তার বলতে গেলে তেমন কিছুই ছিল না। চট্টগ্রাম শহরে আসলে থাকতেন আদালতের পুর্ব পাশের রাস্তার বিপরিতে হোটেল সম্রাটে। আবাসিক হোটেলটির মালিক মনসুর নামক এক ব্যক্তির। তার বাড়িও পারকি দুধ কুমরা এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে। সম্পদ বলতে তেমন কিছু না থাকলেও তার পুঁজি ছিল তিনি ছাত্রলীগ করতেন। ছিলেন একাংশের সাধারণ সম্পাদকের পদেও। শুনা গিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন সাবেক ইউসিবির চেয়ারম্যান প্রয়াত জাফর আহমদ চৌধুরী প্রফেসর ডাঃ নাসির উদ্দীন মাহমুদসহ অনেকের সেল্টার পেতেন এই কাইয়ুম শাহ।

আনোয়ারায় তখন উক্ত গ্রুপের নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন সামশুদ্দীন আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান আবুল মনসুর চৌধুরী। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধুরী। দাপুটে এই ছাত্রলীগ নেতা মাত্র দশ বছরের মাথায় এখন হয়ে গেছেন গাড়ি, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কাড়ি কাড়ি টাকা, অঢেল সহায় সম্পদের মালিক। আনোয়ারায় আরও অনেকে কোটিপতি ও সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। যা তদন্ত করা হলে জানা যাবে সম্পদের আসল উৎস জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র।

অত্যাধুনিক “লুসাই পার্ক” পারকি বিচের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র, হোটেল দেয়াং (রেস্টুরেন্ট), যা দক্ষিণ চট্টগ্রামে আছে কিনা সন্দেহ। আনোয়ারা হাসপাতালের সামনে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, রোগ নিরুপনী কেন্দ্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টিভি ফ্রিজের দোকান, শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি, নির্মানাধীন কমিউনিটি সেন্টার, একক ডিস ব্যবসা, দামী গাড়িসহ আরো কতো অর্জন শেষ নেই তার। লুসাই পার্ক’র পর বাকি আছে শিল্প পার্ক করার জানিয়েছেন একটি সুত্র।

শুনা গেছে, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও নাকি তার প্লট এবং ফ্ল্যাট আছে। আছে দামী গাড়িও। আনোয়ারার ভেতরসহ চট্টগ্রামের সব জায়গায় তিনি ঘুরে বেড়ান এই দামী গাড়িতে চড়ে। প্রয়োজন হলে তিনি উক্ত গাড়ি নিয়ে ঢাকায়ও চলে যান বলে জানা গেছে।

দুবাইও পাড়ি দেন ঘন ঘন। দশ বছরের আগেকার কাইয়ুম আর এখানকার বর্তমানের কাইয়ুমকে আপনি চিনতে পারবেন না। তিনি পুরোপুরি বদলে গেছেন। এক সময়ের শান্ত মেজাজের এই ছেলেটি বর্তমানে হয়ে গেছেন একেবারে কড়া। তিনি সারাক্ষণ গম্ভীরভাব নিয়ে থাকেন কথা বলেন একেবারে কম। সালিশ বিচার নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তাকে। পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি জনগনের চেয়ারম্যান সমাজ সেবক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। বলে থাকেন তার বলতে গেলে কিছুই নেই। এমনকি বউ বাচ্চার খরচ সামাল দিতেও নাকি কষ্ট হয় তার।

বিএনপি নেতা হাসান চেয়ারম্যাকে পরাজিত করে প্রথমবার চেয়ারম্যান হন তিনি। পরের বার হয়েছেন দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়ে। আনোয়ারার বড় বড় প্রকল্পের কাজ করেন সিন্ডিকেট করে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ পারকি বিচের কাজও করছেন সাব ঠিকাদার হয়ে।

অনেকের মন্তব্য, তিনি হয়তো অল্প দিনে পেয়ে গেছেন আলাদিনের চেরাগ। অনেকে বলছেন তিনি হয়েছেন সাবেক আইজিপি বেনজীরের মতো সম্পদ এর মালিক। ব্যবসার আড়ালে আলোচিত এই চেয়ারম্যান এর আরও কি ব্যবসা আছে তা খতিয়ে দেখতে পারেন সরকারের এজেন্সিগুলো আর দুদকের মতো প্রতিষ্ঠান। তার এতোসব অর্জনের মাঝে তিনি সরকারকে কতো টাকার টেক্স দেন নাকি চেয়ারম্যান এবং সরকারী দলের নেতার দাপটে কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি একাধারে জনপ্রতিনিধি সরকারী দলের নেতা ব্যবসায়ীক যোগ্যতা অর্জন করায় প্রায় সময় থাকেন উগ্র মেজাজে। তিনি দেখান বড় মাপের একজন মানুষ। কাউকে তোয়াক্কা করার প্রয়াজন কি? এসব চরিত্র আসায় অনেকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এলাকার ডিস ব্যবসাও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রনে। ছোট ভাই অহিদ তার এই ডিস ব্যবসা দেখেন বলে জানা গেছে। সিন্ডিকেট করে কয়েকজন মিলে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন। কোটিপতি এই চেয়ারম্যান এখন হিসাব দেওয়ার ভয়ে আছেন। এই ভয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় গোপনে টাকা লগ্নী করছেন বলে জানা গেছে।

॥স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সুত্রগুলো জানায়, এমএ কাইয়ুম শাহ’র বাড়ি পারকির দুধ কুমরা গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম আবদুস ছবুর। নিম্ম মধ্যবৃত্ত পরিবারে তার জম্ম। ছাত্র অবস্থায় তিনি ছাত্র লীগ করতেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা সামশু-মনসুর গ্রুপ ছাত্রলীগ একাংশের সাধারণ সম্পাদক হন। সভাপতি ছিলেন বুরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ। পরে দুজনই উক্ত গ্রুপ ত্যাগ করেন। মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু গ্রুপে যোগ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হন কাইয়ুম শাহ। মুরাদ হয়ে যান আখতারুজ্জান চৌধুরী বাবু এমপির একান্ত সহকারী। তবে এই কাইয়ুম শাহ উপজেলা আওয়ামী লীগের বড়সড় কোন পদে নেই সদস্য পদে আছেন বলে জানা গেছে। তার ভাগ্য বদলানো শুরু হয় বসুনদ্ধরা গ্রুপ আসার পর। চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরীর পাশের মাঝের চরে বেসরকারী শিল্প গ্রুপ বসুনদ্ধরার কারখানা প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। পরে সরকার উক্ত জমি বিদ্যুৎ কারখানার জন্য অধিগ্রহণ করেন।

সুত্র আরো জানায়, ২০০৯সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আর পেছনে থাকাতে হয়নি। শুরু হয় ভাগ্যের জোয়ার। গড়া শুরু হয় একের পর এক নানা প্রতিষ্ঠান। সমুদ্র উপকূল পারকির চরে বিশাল জমির উপর প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন বিনোদন কেন্দ্র অত্যাধুনিক লুসাই পার্ক। হঠাৎ তিনি আলাদিনের চেরাগের মতো টাকার বস্তা পেয়ে যান, কোথায় কি করে পেলেন প্রশ্নের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের কাছে। একজন চেয়ারম্যানতো এতো টাকার মালিক হতে পারেন না। মাঝখানে শুনা গিয়েছিল তাকে নাকি সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধরে নিয়ে গেছেন। পরে সেটির বিশ্বাসযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, ব্যবসায়ীক ও রাজনৈতিকভাবে রয়েছে তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই দুটোই নিয়ন্ত্রিত হয় পারকি বিচে বসে। উপকুলীয় পারকি ও গহিরা সমুদ্র উপকূল এলাকাটি চোরাচালান জোন হিসেবে সমাধিক পরিচিত। বেশ কিছুদিন আগে কয়েকশ’ কোটি টাকার বড় ধরনের একটি ইয়াবার চালান আটক করেন র‌্যাব সদস্যরা। ধরা পড়েন মোজাহের সওদাগর নামক কুখ্যাত চোরাকারবারি। তারপরও এই এলাকার চোরাচালান ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছেনা।

ইয়াবার এই চালানে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আরেক চোরাকারবারি নুন জলিল আমেরিকায় পালিয়ে যান। তিনি এখনো দেশে আসেননি। দু’জনের বাড়ি গহিরা এলাকায়। তবে এই সমুদ্র উপকূলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের একটি চোরাচালান সিন্ডিকেট রয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় সময় মাদকসহ নানা নিষিদ্ধ পণ্য দেশে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম শাহ এর ০১৮১৬-৪৪৭৫৩০ নাম্বারে ফোন করা হলে তার সংযোগ বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি জাতীয় একটি দৈনিকে আনোয়ারার সমুদ্র উপকূলে চেরাচালান ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। অনেকে এই চোরাচালান ব্যবসায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। তবে ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও সিন্ডিকেটের এসব সদস্য থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে বন্ধ হচ্ছেনা উপকূলের মাদক ব্যবসা।

ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের কারণে স্থানীয় যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। শুধু উপকূলে নহে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের সবখানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ সচেতন অনেকের। এক্ষেত্রে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর আছেন ঘুমে।(পর্ব-এক)