সাতকানিয়া প্রতিনিধি: সাতকানিয়ার নলুয়া ও বাজালিয়া ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় এক শিশুসহ দুইজনের মত্যু হয়েছে। সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আজ সোমবার (০৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টার দিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া ইউনিয়নে এবং সকাল ১০টার দিকে বাজালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- তাসিফ (১২) ও আব্দুর শুক্কুর (৩৫)। তাসিফের বাবার নাম জসিম উদ্দিন। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আব্দুর শুক্কুর স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী তাপস কান্তি দত্তের অনুসারী।
এর আগে সকালে সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় খাগরিয়া ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রগুলো হলো- খাগরিয়া গনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্র।
এদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু তালেব মন্ডল। তবে বাজালিয়া ইউনিয়নে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান বিন মাজেদ বলেন, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনাটি কেন্দ্রের মধ্যে ঘটেনি।
অন্যদিকে সংঘাতের শঙ্কা নিয়ে শুরু হওয়া সাতকানিয়া উপজেলার ১৬ ইউপিতে নির্বাচনী সহিংসতায় ১১ জন আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গুলিবিদ্ধ, ছুরিকাঘাত ও লাঠির আঘাতে আহত ১১ জনকে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত তাসিফের চাচা মিজানুর রহমান বলেন, কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। একপক্ষ তাসিফকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তাসিফের চাচা মিজানুর রহমান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী।
অন্যদিকে, বাজালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাপস কান্তি দত্তের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ চৌধুরীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে শুক্কুর গুলিবিদ্ধ হলে তাকে স্থানীয় কেরানীহাট মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
কেরানীহাট মা ও শিশু হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. রাকিব উদ্দিন বলেন, সকাল ১১টার দিকে শুক্কুর নামে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গুলিবিদ্ধ ছিলেন তিনি। শুক্কুরের সঙ্গে থাকা লোকজনকে দেখে মনে হয়েছে, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় এক পক্ষ আরেক পক্ষের দিকে অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবির সদস্য উপস্থিত হন সেখানে। তাদের উপস্থিতিতেও গোলাগুলি চলছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গনিপাড়া কেন্দ্রে উপস্থিত হন পুলিশ সুপার রশিদুল হক। পরে র্যাবও সেখানে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্র দুটিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। দুই পক্ষে মারামারি শুরু হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুটি গুলি করে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে সহিংসতাপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। গতকাল সোমবার দুপুরে পশ্চিম আমিলাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর সহিংসতাপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভোটারদের ভোট দিতে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে।
প্রসঙ্গত, সপ্তম ধাপে সাতকানিয়া ইউনিয়ন, ছদাহা, পুরানগড়, বাজালিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, কেঁওচিয়া, ঢেমশা, মাদার্শা, আমিলাইশ, কাঞ্চনা, নলুয়া, খাগরিয়া, চরতি, পশ্চিম ঢেমশা ও সোনাকানিয়া ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।



