বিশেষ প্রতিবেদক: সারা বাংলাদেশের ন্যায় সাতকানিয়াতেও সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সাতকানিয়ার ১৬টি ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে কেউ দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছে আবার কেউ দলীয় প্রতীক পায়নি। যারা দলীয় প্রতীক পায়নি তাদের মধ্যে চরম চাপা ক্ষোভ আছেই। এই চাপা ক্ষোভের মাঝেও দলের হয়ে কাজ করতে হচ্ছে অনেকেই।আবার দলের বাইরে গিয়ে অনেকে নিবার্চন করছে স্বতন্ত্র প্রতীকে। তাদেরও জনপ্রিয়তা কম নেই এলাকায়। কিন্তু সেই ভাব প্রকাশ করার মতো পরিবেশ নেই।
সাতকানিয়ার সবচেয়ে বির্তকিত নিবাচন মনে করছেন থানার ১ নং চরতী ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে এলাকার মানুষেরতো আছেই বাইরের মানুষেরও আগ্রহ উদ্দীপন অনেক বেশী। উপজেলা কিংবা জেলা থেকে প্রার্থীর নাম পর্যন্ত পাঠানো হয়নি। দলীয় ফোরামে থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার চৌধুরীকে নৌকা প্রতীক বরাদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিভাবে নৌকা সেই রুহুল্লাহ চৌধুরীর কাছে এলে এ নিয়ে নানা জল্পনা আর কল্পনার শেষ নেই।
তাই আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি রুহুল্লাহ চৌধুরীর মুখোমুখি হয়েছিল। আপনার বাবা জামাতের বড় নেতা ছিল। আপনি জামাতের নেতার ছেলে আর আপনি নির্বাচন করেছেন নৌকা থেকে এতে আপনার প্রতিক্রিয়া কি ? জবাবে রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমার বাবা জামাত কিন্তু আমিতো জামাত নই। বাংলাদেশ যখন জন্ম হয়েছে তার পরে স্বাধীন বাংলাদেশে আমার জন্ম। আমি যে, আওয়ামী লীগ করতে পারবো না সেটাতো বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা নেই। আর আমি যে আওয়ামী লীগ করতে পারবো না সেটাতো আওয়ামী লীগের সংবিধানে লেখা নেই। এখানে আর্দশের বিষয়। যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আর্দশ মেনে চলবে সেই আওয়ামী লীগ। আমিও তাই।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আপনি এলাকার উন্নয়নের জন্য কিকি কাজে করবেন জানতে চাইলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, যদি আল্লাহ রহমত করেন, মানুষ আমাকে ভালবেসে ভোট দেয় তাহলে আমি বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সকল প্রকল্প এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন করবো। একটি স্থায়ী উন্নয়নের জন্য এলাকা এমন কিছু প্রকল্প হাতে নেব যা এলাকার মানুষের আজীবন কাজে আসবে। সেই রকম কিছু প্রকল্প আমি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছি।
সেই প্রকল্পের কয়েকটির বিবরণ দিতে বললে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, প্রথম হলো কৃষি উন্নয়ন। মাছ ও চাষ বাংলাদেশের গ্রামের ঐতিহ্যবাসী বিষয়, তাই আমার এলাকায় কয়েকটি সুইচগেইট নির্মাণ করলে এলাকার কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদনও হবে। কৃষি চাষের খরচ কমিয়ে আনাসহ নানা ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চায় গ্রাম হওে আত্ম উন্নয়নের চাবিকাঠি। এখানে আমার এলাকার মা বোনদেও পুষ্টির চাহিদা যোগান দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি এলাকায় হবে ফলজ বৃক্ষ। বাড়ীতে বাড়ীতে হবে টেডিশনাল গার্ডেন বা বাগান। বসত ভিটা কর্তৃক যে উৎপাদন হবে তা থেকে পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে আমার মা বোনের শাক সবজি বিক্রি করতে পারবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, আপনি কিভাবে এই নৌকার সম্মান রক্ষা করবেন বিষয়ে জানতে চাইলে জবাবে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, আমি তৃণমুল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাসহ এলাকার সকল প্রবীণদের সাথে নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরী করে কার্যক্রম করবো। এর আগেও আল্লামা ফজল্ললাহ ফাউন্ডেশন থেকে যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেছি তা এলাকার মানুষের সাথে এবং এলাকার মানুষেকেই বিতরণ করেছি।
রুহুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, আমি ১ নং চরতী ইউনিয়নে একটি স্থায়ী কল্যাণমুখী উন্নয়ন করতে চায়। কারণ আমার অভিভাবক মাননীয় সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাস উদ্দিন নদভী উনি একজন উন্নয়ন বান্ধবও শিক্ষিত মানুষ। বাংলাদেশে অনেক সাতকানিয়া থেকে নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু নৌকা মার্কার সাংসদ নদভী মহোদয়ের মতো উন্নয়ন কেউ করতে পারেনি।
আপনি কি নিজ থেকে নির্বাচন করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন নাকি অন্য কেউ আপনাকে সাহস দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, আসলে এত বড় কর্মযজ্ঞ করার মতো সাহস আমার নেই। আমার অনুপ্রেরণা হলো আমার অভিভাবক মাননীয় সাংসদ ও আমার আপা রিজিয়া রেজা চৌধুরী।
চরতীর মানুষরের উন্নয়নের জন্য উনারা কি প্রতিশ্রুতি আপনাকে দিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, যদি চরতী মানুষ আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে, দ্বীপ চরতীর সাথে খতির হাটের একটি ব্রীজ হবে। চরতী’র কৃষি উন্নয়নের জন্য তিনটি খালে তিনটি সুইজ গেইটসহ মৎস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করবে। সাধারণ মানুষের সেবার জন্য ওয়ার্ড ভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পচিালনা করা হবে।
ইতোমধ্যে মাননীয় সাংসদ সাতকানিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী চরতীতেই উন্নয়ন করেছেন। করোনার মধ্যেও ৩২৭ (তিনশত সাতাশ) কোটির টাকার কাজ একনেকে বরাদ্ধ হয়েছে। চরতীর নদী ভাঙ্গণ রোধকল্পে নদীর দু’পাশে পাথর বসানো হয়েছে।



