দি ক্রাইম ডেস্ক: কিশোর গ্যাং বলতে ২০-২২ বছর কিংবা তার কম বয়সের কয়েকজন সংঘবদ্ধ কিশোরকে বোঝায়, যারা নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কিশোর গ্যাং কালচার বর্তমানে শুধু শহরের গলিতেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ভয়াল চিত্র দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলেও। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তথ্যমতে গত দুই বছরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রায় ৩৪ জন নিহত হয়েছে! আহত হওয়ার ঘটনা অসংখ্য।

চুরি, ছিনতাই কিংবা হত্যার মতো ঘটনাও এদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে মারামারি, প্রতিপক্ষের সঙ্গে রক্তপাত, মাদক গ্রহণ ও পাচার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্য অস্থিরতা তৈরি সবই সংগঠিত হচ্ছে তাদের মাধ্যমে। বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে কথিত ‘বড়ভাই’। আর তাদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং! খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেম্পো স্টেশন নিয়ন্ত্রণ, বিল্ডিং তৈরির নির্মাণসামগ্রী নিতে বাধ্য করা, ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। বাদ যাচ্ছে না অস্ত্র, মাদক ব্যবসাও। যার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামের ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ গ্রামের আর দশটি স্কুল থেকে অনেকটা ভিন্ন! শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য আছে বিশাল বড় মাঠ, বিদ্যালয়ের সামনে ফুলের বাগান আর সারি সারি গাছ, মনোমুগ্ধকর এই স্কুলেই কিছুদিন আগে ঘটে গেল হূদয়বিদারক এক ঘটনা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণির কয়েকজন বিপদগামী শিক্ষার্থীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় একই স্কুলেরই দশম শ্রেণির দুজন মেধাবী ছাত্র।

এই ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়, জন্ম দেয় হাজারো প্রশ্ন! যে বয়সে আমরা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পড়াশোনা, খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম; বাবা-মা কিংবা স্কুলের শিক্ষকদের আমরা শ্রদ্ধা বা সম্মানের জায়গা থেকে ভয় পেতাম—অথচ আজকে দেখছি, অনেক সন্তানই বাবা-মাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিচ্ছে না। এসব বিপদগামী কিশোরের বড় অভিভাবক হয়ে যাচ্ছে ‘বড়ভাই’! যেসব ভাই এসব কিশোরকে ধাবিত করছে অন্ধকার জগতে। এসব বিপথগামী কিশোরের হাতে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তাদের বেপরোয়া কাজে বাধা দিলে যে কারো পরিণতি হচ্ছে ভয়াবহ।

সচেতন মহল কিংবা অভিভাবকরা বর্তমানে কিশোর গ্যাং নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। নিজেদের কোমলমতি সন্তানদের ভবিষ্যত্ নিয়ে সন্দিহান—তাদের এই পথ থেকে দূরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সমাজ প্রযুক্তিনির্ভর। তবে প্রযুক্তির ভালো দিক আমাদের যেমন উন্নতি সাধন করছে, তেমনি প্রযুক্তির খারাপ দিক ক্ষতি সাধনও করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার সব থেকে বেশি হচ্ছে কিশোরদের মাধ্যমে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গেমস, টিকটক লাইকি কিংবা ডিপ ফেকের মতো অ্যাপস বড় ভূমিকা রাখছে। টিকটকের নামে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ও মেয়েদের অশালীন ভিডিও তৈরি করে পুলিশের কাছে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তত্পর থাকলেও, থেমে নেই তাদের কর্মকা্ল! টেলিভিশন বা পত্রিকার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া এসব কিশোর গ্যাংয়ের অপতত্পরতার খবর দেখতে পাই! এদের প্রতিরোধ করতে না পারলে মহামারি দুর্যোগের মতো দেখা দেবে অদূর ভবিষ্যতে। বিপথগামী এসব গ্যাংকে শুধু প্রতিরোধ করলেই হবে না, এদের মূল ধারায় সুস্থ জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনাও এক বড় চ্যালেঞ্জ!

কিশোরদের বিপথগামী হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের উদাসীনতা সব থেকে বড় কারণ। এছাড়াও ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষার অভাব কিশোরদের ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারে। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন কিংবা প্রযুক্তির উন্নতি সাধন হয়তো থেমে থাকবে না, তাই এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আমাদের বিকল্প পথও তৈরি করতে হবে।

দি ক্রাইম ডেস্ক: কিশোর গ্যাং বলতে ২০-২২ বছর কিংবা তার কম বয়সের কয়েকজন সংঘবদ্ধ কিশোরকে বোঝায়, যারা নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। কিশোর গ্যাং কালচার বর্তমানে শুধু শহরের গলিতেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ভয়াল চিত্র দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলেও। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তথ্যমতে গত দুই বছরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রায় ৩৪ জন নিহত হয়েছে! আহত হওয়ার ঘটনা অসংখ্য।

চুরি, ছিনতাই কিংবা হত্যার মতো ঘটনাও এদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে মারামারি, প্রতিপক্ষের সঙ্গে রক্তপাত, মাদক গ্রহণ ও পাচার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্য অস্থিরতা তৈরি সবই সংগঠিত হচ্ছে তাদের মাধ্যমে। বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে কথিত ‘বড়ভাই’। আর তাদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং! খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেম্পো স্টেশন নিয়ন্ত্রণ, বিল্ডিং তৈরির নির্মাণসামগ্রী নিতে বাধ্য করা, ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। বাদ যাচ্ছে না অস্ত্র, মাদক ব্যবসাও। যার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামের ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ গ্রামের আর দশটি স্কুল থেকে অনেকটা ভিন্ন! শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য আছে বিশাল বড় মাঠ, বিদ্যালয়ের সামনে ফুলের বাগান আর সারি সারি গাছ, মনোমুগ্ধকর এই স্কুলেই কিছুদিন আগে ঘটে গেল হূদয়বিদারক এক ঘটনা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণির কয়েকজন বিপদগামী শিক্ষার্থীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় একই স্কুলেরই দশম শ্রেণির দুজন মেধাবী ছাত্র।

এই ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়, জন্ম দেয় হাজারো প্রশ্ন! যে বয়সে আমরা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পড়াশোনা, খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম; বাবা-মা কিংবা স্কুলের শিক্ষকদের আমরা শ্রদ্ধা বা সম্মানের জায়গা থেকে ভয় পেতাম—অথচ আজকে দেখছি, অনেক সন্তানই বাবা-মাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিচ্ছে না। এসব বিপদগামী কিশোরের বড় অভিভাবক হয়ে যাচ্ছে ‘বড়ভাই’! যেসব ভাই এসব কিশোরকে ধাবিত করছে অন্ধকার জগতে। এসব বিপথগামী কিশোরের হাতে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তাদের বেপরোয়া কাজে বাধা দিলে যে কারো পরিণতি হচ্ছে ভয়াবহ।

সচেতন মহল কিংবা অভিভাবকরা বর্তমানে কিশোর গ্যাং নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। নিজেদের কোমলমতি সন্তানদের ভবিষ্যত্ নিয়ে সন্দিহান—তাদের এই পথ থেকে দূরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সমাজ প্রযুক্তিনির্ভর। তবে প্রযুক্তির ভালো দিক আমাদের যেমন উন্নতি সাধন করছে, তেমনি প্রযুক্তির খারাপ দিক ক্ষতি সাধনও করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার সব থেকে বেশি হচ্ছে কিশোরদের মাধ্যমে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গেমস, টিকটক লাইকি কিংবা ডিপ ফেকের মতো অ্যাপস বড় ভূমিকা রাখছে। টিকটকের নামে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ও মেয়েদের অশালীন ভিডিও তৈরি করে পুলিশের কাছে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তত্পর থাকলেও, থেমে নেই তাদের কর্মকা্ল! টেলিভিশন বা পত্রিকার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া এসব কিশোর গ্যাংয়ের অপতত্পরতার খবর দেখতে পাই! এদের প্রতিরোধ করতে না পারলে মহামারি দুর্যোগের মতো দেখা দেবে অদূর ভবিষ্যতে। বিপথগামী এসব গ্যাংকে শুধু প্রতিরোধ করলেই হবে না, এদের মূল ধারায় সুস্থ জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনাও এক বড় চ্যালেঞ্জ!

কিশোরদের বিপথগামী হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের উদাসীনতা সব থেকে বড় কারণ। এছাড়াও ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষার অভাব কিশোরদের ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারে। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন কিংবা প্রযুক্তির উন্নতি সাধন হয়তো থেমে থাকবে না, তাই এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আমাদের বিকল্প পথও তৈরি করতে হবে।