কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের আওতায় বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডসহ ১২টি জেলার ৬৪টি শাখা থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭৫টি মামলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বুধবার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুরে তার বাড়িতে গেলে দেখা যায় ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ, সপরিবারে পলাতক রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সময় কর্মরত অফিস সহায়ক মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে আনিসুর রহমান বিশ্বাস ২০০৬ সালে বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে এনজিও চালু করেন। এরপর বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসে সমিতির সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। এনজিওর সদস্যরা লাখে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মাসিক লভ্যাংশের আশায় লাখ লাখ টাকা লগ্নি করতে থাকেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে। এভাবেই বাংলাদেশের ১২টি জেলায় বিভিন্ন নামে ৬৪টি এনজিওর শাখা তৈরি করা হয়। ৬৪টি শাখায় ১৫৩ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে একাধিক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার কথা বলে। এসব কর্মীদের দিয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে লগ্নি করানো হয়।

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ বিশ্বাস দুজনের দুটি প্রাইভেটকার ছাড়াও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আরও তিনটি প্রাইভেটকার কেনা হয়। কুমারখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ছয়টি টিভি-ফ্রিজ ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের শোরুম চালু করা হয়। এসব শোরুমে মালামাল পরিবহণের জন্য দুটি কাভার্ড ভ্যান কেনা হয়। গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মাহাবুবউল আলম হানিফের বাড়িসংলগ্ন ৭ তলা ভবন, ৪ শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সঙ্গে ১৯ শতাংশ মূল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চারটি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবনযাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই। ২০২২ সালে সারা দেশে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য মালঞ্চ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ নামের এমআরএ সনদ ৪৫ লাখ টাকায় কেনেন।

২০২৩ সালের শুরুতেই ধস নামে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের। সদস্যরা বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাদের লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টালবাহানা। একাধিকবার সময় দিয়েও টাকা ফেরত না দিলে সদস্যদের চাপে আলাউদ্দিন নগরের বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের মূল অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় এনজিও কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সদরপুরে আনিসুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শত শত সদস্য।

ভুক্তভোগী সরোয়ার আলম জানান, বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে তার জমা আছে ৬০ লাখ টাকা। তিনি ও তার আত্মীয়স্বজন সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে লগ্নি করানো হয়। আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ১৯ লাখ টাকা লগ্নি করা ছিলা। কোনোভাবেই তিনি তার টাকা উদ্ধার করতে পারেননি। আনিসসহ সবাই গা-ঢাকা দেওয়ায় গ্রাহকরা ইতোমধ্যেই ১৭৫টি মামলা করেছেন আদালতে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, বিশ্বাস ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও গ্রাহকদের টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছে এ তথ্য পেয়েছি। এ ব্যাপারে গ্রাহকরা মামলাও করেছেন। আদালত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের আওতায় বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডসহ ১২টি জেলার ৬৪টি শাখা থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭৫টি মামলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বুধবার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুরে তার বাড়িতে গেলে দেখা যায় ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ, সপরিবারে পলাতক রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সময় কর্মরত অফিস সহায়ক মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে আনিসুর রহমান বিশ্বাস ২০০৬ সালে বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে এনজিও চালু করেন। এরপর বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসে সমিতির সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। এনজিওর সদস্যরা লাখে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মাসিক লভ্যাংশের আশায় লাখ লাখ টাকা লগ্নি করতে থাকেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে। এভাবেই বাংলাদেশের ১২টি জেলায় বিভিন্ন নামে ৬৪টি এনজিওর শাখা তৈরি করা হয়। ৬৪টি শাখায় ১৫৩ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে একাধিক ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার কথা বলে। এসব কর্মীদের দিয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে লগ্নি করানো হয়।

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ বিশ্বাস দুজনের দুটি প্রাইভেটকার ছাড়াও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আরও তিনটি প্রাইভেটকার কেনা হয়। কুমারখালীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ছয়টি টিভি-ফ্রিজ ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের শোরুম চালু করা হয়। এসব শোরুমে মালামাল পরিবহণের জন্য দুটি কাভার্ড ভ্যান কেনা হয়। গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মাহাবুবউল আলম হানিফের বাড়িসংলগ্ন ৭ তলা ভবন, ৪ শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সঙ্গে ১৯ শতাংশ মূল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চারটি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবনযাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই। ২০২২ সালে সারা দেশে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য মালঞ্চ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ নামের এমআরএ সনদ ৪৫ লাখ টাকায় কেনেন।

২০২৩ সালের শুরুতেই ধস নামে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের। সদস্যরা বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাদের লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টালবাহানা। একাধিকবার সময় দিয়েও টাকা ফেরত না দিলে সদস্যদের চাপে আলাউদ্দিন নগরের বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের মূল অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় এনজিও কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বরে টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সদরপুরে আনিসুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শত শত সদস্য।

ভুক্তভোগী সরোয়ার আলম জানান, বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে তার জমা আছে ৬০ লাখ টাকা। তিনি ও তার আত্মীয়স্বজন সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে লগ্নি করানো হয়। আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ১৯ লাখ টাকা লগ্নি করা ছিলা। কোনোভাবেই তিনি তার টাকা উদ্ধার করতে পারেননি। আনিসসহ সবাই গা-ঢাকা দেওয়ায় গ্রাহকরা ইতোমধ্যেই ১৭৫টি মামলা করেছেন আদালতে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, বিশ্বাস ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও গ্রাহকদের টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছে এ তথ্য পেয়েছি। এ ব্যাপারে গ্রাহকরা মামলাও করেছেন। আদালত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।