নিজস্ব প্রতিনিধি: কোন প্রকার অনুমতি, অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়াই বান্দরবানের লামা উপজেলায় শুরু হয়েছে ৪১টি ইটভাটার ইটপ্রস্তুত কার্যক্রম। ইতিমধ্যে সবকয়টি ভাটায় পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, জ্বালানি হিসাবে বনের কাঠ মজুদ করা হয়েছে। ৪১টি ভাটার চুল্লীতে ইতিমধ্যে আগুন দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের নামমাত্র অভিযান চালু থাকলেও অনুমতি ছাড়া ইটভাটাগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুসারে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন, অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি গ্রহণ না করার আইন থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। বর্ষা ঋতুর পরপরই পাহাড়ে সবুজ প্রকৃতি সাজতে শুরু হলেও সেই পাহাড়ের বুকে আঘাত শুরু করেছে ইটভাটার মালিকরা।
লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ৩০টি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৭টি, গজালিয়া ইউনিয়নে ২টি, সরই ইউনিয়নে ১টি ও লামা পৌরসভায় ১টি ইটভাটায় মাটির জন্য সাবাড় করা হচ্ছে অসংখ্য সবুজ পাহাড় ও ফসলী জমি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উন্নয়নের জন্য ইটভাটা প্রয়োজন। তবে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ইট ভাটার কারণে পাহাড়ের প্রকৃতির সীমাহীন ক্ষতি হচ্ছে অভিযোগ পরিবেশবাদীদের। এমনকি উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের পাগলীরছড়া থেকে শিবাতলী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩০টি ইটভাটা।
গত ২০২২ সালে এখানে ২৮টি ইটভাটা থাকলেও এ বছর পাগলীরছড়া এলাকায় বিএমডবি এবং ফাদুরছড়া এলাকায় সেভেনবিএম নামে নতুন করে আরো দু’টি ইটভাটা সৃষ্টি হয়েছে। বান্দরবানের লামার ফাইকংয়ে ইট লম্বক ও ভাবে স্থাশন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের যথাযগ প্রয়োগ না হওয়ায় এক শ্রেণির অধিক মুনাফা লোভী ব্যাবসায়ী প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশেষ করে লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায়, পাহাড় কোটে ও ফসলি জমিতে ইট ভাটায় নেই কোন সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধূলায় জনসাস্থ্য হুমকির মুখে। এছাড়াও হারিয়ে যাচ্ছে জীব- বৈচিত্রা, বিনষ্ট হচ্ছে আমাদের চির চেনা সবুজ প্রকৃতি ও পরিবেশ। কিছু সংবাদপত্রে এনিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে লামা উপজেলায় দ্বিতীয় ইটভাটা জোন হিসাবে গড়ে উঠেছে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা কাঁঠালছড়া এলাকাটি। প্রশাসনের নজনদারীর মধ্যেও এ বছর “বিএনবি” নামে আরো ১টি নতুন ভাটা তৈরি হয়েছে। এই ইউনিয়নে মোট ৭টি ইটভাটা রয়েছে। যাদের ভাটা পরিচালনার বৈধ কোন কাগজপত্র নেই।
লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক বেলাল জানিয়েছেন, লামা বন বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলার সবকয়টি ব্রিকফিল্ডকে ইট প্রস্তুত কালিন সময়ে ইট পোড়ানো কাজে জ্বালানী হিসাবে কাঠ না পোড়ানোর জন্য ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ এর বিধি ৬ মোতাবেক নোটিশ দেয়া হয়েছে। কেউ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে সহকারী বন সংরক্ষক সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ৪ হাজার ২ শত ঘনফুট অবৈধ জ্বালানী কাঠ জব্দ করা হয়েছে।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মো. ফখর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, লামায় সরকারি অনুমোদিত কোন ইটভাটা নেই। কয়েকদফা অভিযান চালানো হয়েছে। শীঘ্রই আরো বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোন অবৈধ ইটভাটা থাকবেনা।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তনু কুমার দাশ বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান, লামা থানা ও লামা ফায়ার সার্ভিসকে সাথে নিয়ে ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। সামনেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।




