বিশেষ প্রতিনিধিঃ নগরীর আকবরশাহ্ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজায় পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের মালিকানাধীন জমির দেওয়ানি আইনে স্বত্ব প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধে একাধিক পক্ষকে বিবাদী করে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদলত অপর মামলা নং ১২৪/৯৭ ও ১৫/২০২০ বিচারাধীন।

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ান ফর ওমেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের তত্ববাধায়ক পরিচয়ে রাউজান নিবাসী ভুমিদস্যু ঝিকু বড়ুয়া নামের এক ব্যাক্তি অজ্ঞাত ১৫/২০ জন দখলবাজের সমন্বয়ে প্রতিনিয়ত মন্দির এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে মর্মে অভিযোগ করছে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম কর্তৃপক্ষের সেবায়েত ও আশ্রম পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তারা।

আশ্রমের ট্রাস্টি সুজিত চৌধুরী দি ক্রাইমকে জানান, এশিয়ান ফর ওমেন ইউনিভার্সিটির জন্য এল, এ মামলা নং ০৫/২০১০-২০১১ মুলে মাত্র তিন একরের কিছু বেশি জায়গা অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। অথচ ঝিকু বড়ুয়া গংরা আশ্রমের মালিকানাধীন প্রায় ৫০ একর জায়গা জোরপূর্বক দখল করার পাঁয়তারা করছে।

দালিলিক প্রাপ্ত তথ্যমতে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ তীর্থস্থান প্রভাবশালী দখলবাজ ও স্ববিরোধী স্বার্থন্বেষী মহলের ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থের ষড়যন্ত্রে (বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির) পথে নগরীর উত্তর পাহাড়তলী মৌজায় সাবেক থানা ডবলমুরিং বর্তমানে আকবরশাহ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার অন্তর্গত এলাকায় ৩১ মার্চ ১৯৩৮ ইং সনে প্রকাশ্য নিলামে S/C No- 209 মুলে কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত গোয়ঠুলি মৌজা নিবাসী উপেন্দ্র মিত্রের পুত্র দিনেশ চন্দ্র মিত্র নিলাম খরিদা মূলে প্রাপ্ত হইয়া ২০ জুন ১৯৩৮ ইং তারিখে ২১২৯ নং দানপত্র দলিল মুলে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের পক্ষে সেবায়েত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ তীর্থ বরাবরে হস্তান্তর পুর্বক আরএস জরিপের ৮১৭/১ নং খতিয়ানের ২২৫/২১২ দাগের আন্দর ১৩৩ একরের অধিক পাহাড়ি সম্পত্তি প্রাপ্ত হইয়া সেবায়ত সচ্চিদানন্দ তীর্থ প্রতিষ্ঠিত পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, মহাদেব মন্দির ও কৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠায় সাধু সণ্যাসীদের সাধনার্থে সনাতনীদের তীর্থস্থানের মর্যদা লাভ করেন।

১৯৬৯ সালের রাম নবমী উপলক্ষে সচ্চিদানন্দ তীর্থ ও তাঁর পুত্রতুল্য একান্ত জৈষ্ঠ শিষ্য শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ তীর্থ ভারতে তীর্থ ভ্রমণে গেলে সেবায়েত সচ্চিদানন্দ তীর্থ মায়াপুর আশ্রমে দেহত্যাগ করেন। শংকরানন্দ তীর্থ দেশে ফিরে এসে সেবায়েত সচ্চিদানন্দ তীর্থের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঝাউতলা এলাকার বিহারীরা পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগিতায় মন্দির ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে তিনটা মন্দির ধ্বংসস্তুুপে পরিণত হয়।তখন থেকে বসবাস অনুপোযোগী হওয়ায় আশ্রমের বাৎসরিক উৎসব ব্যাতিত সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পুনরায় দূর্গা মন্দির, শিব মন্দির ও কৃষ্ণ মন্দির স্থাপিত করে যথাযথ আশ্রমের কার্যক্রম শুরু করিলে ১৯৯০ সালে ভারতের রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আবারো মন্দিরগুলো ভাংচুর লুটপাট করে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তিতে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শ্রীমৎ স্বামী স্বচ্চিদানন্দ তীর্থের শীষ্যগণের সমন্বয়ে মন্দির পুঃনস্থাপন করে ধর্মীয় পুজা অর্চণা চালু করা হয়।

বংশপরম্পরা শিষ্যগণের আহ্বানে দানপত্র দলিলে উল্লেখিত শর্তানুসারে সনাতনী শাস্ত্রীয় বিধাননুযায়ী আশ্রমের সেবায়েত মনোনীত হয়ে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের তপশীলোক্ত ভু-সম্পত্তি শাসন সংরক্ষণকল্পে আশ্রমের মালিকানাধীন ভু-সম্পত্তির রেকর্ডীয় ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তিকল্পে প্রচলিত আইনে বিচারিক কার্যক্রমে আইনগত প্রয়োজনে ১৫ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে শিষ্যগণের এক বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতভাবে দালিলিকভাবে শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ তীর্থ সেবায়েত নিয়োগ লাভ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৫ সাল হইতে পর্যায়ক্রমে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, কালি মন্দির ও শিব মন্দিরগুলোতে দৈনন্দিন পুজা ও সাপ্তাহিক প্রতি শুক্রবার বিশেষ প্রার্থনা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজা, কালি পুজা, শিব চতুর্দশী পুজা, মনষা পুজা উদযাপিত হচ্ছে।

ভুমিদস্যুদের চক্রান্তের নীল নক্সানুযায়ী পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের মালিকানাধীন ভু-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথিত জয়নাব বেগম গং সৃষ্ট ভিত্তিহীন বিরোধীয় স্বত্ত্ব প্রচারের অপর মামলা নং ১২৪/৯৭ অবগত হইয়া এক নাম্বার বিবাদী হিসেবে পক্ষ ভুক্তির আবেদন করিলে মাননীয় আদালত শুনানিন্তে অত্র পক্ষভুক্তির আবেদন গ্রহনে আদেশ প্রদান করেন এবং বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শক্রমে বিএস রেকর্ড সংশোধন ও সৃজিত জাল দলিল বাতিলে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত অপর মামলা নং-৪৫৬/১২ দায়ের করেন।

ধর্মীয় সকল কার্যাদি, আশ্রমের ভু-সম্পত্তি শাসন সংরক্ষণ ও বিরোধীয় দেওয়ানি মামলা চলমান অবস্থায় শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ তীর্থ ১১ মে ২০১৯ সালে দেহত্যাগ করিলে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদ, সেবায়তের শিষ্য ও ভক্তগনের সমন্বয়ে ১৭ মে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রয়াত সেবায়ত শংকরানন্দ তীর্থের জৈষ্ঠ্য শিষ্য শ্রী দুলাল কান্তি নাথ প্রকাশ গীরিজ সাধু সেবায়েত নিযুক্ত হয়ে নিম্ন এবং উচ্চ আদালতে চলমান মামলায় সেবায়েত হিসেবে পক্ষভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গীরিজ সাধু দায়িত্ব গ্রহন পরবর্তী পুর্বের সেবায়েতের নিয়ামানুসারে সুচারুভাবে মন্দিরের দৈনন্দিন ও বাৎসরিক পুজা, পরিচালনা পরিষদ গঠন, আশ্রমের ভু-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনা অবস্থায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং দেহত্যাগ করায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদ পুর্বের নিয়ামানুসারে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় আয়োজিত শীষ্য ও ভক্তগনের সমন্বয়ে স্মরণ সভা শেষে এক বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গীরিজ সাধুর একান্ত অনুগত শিষ্য সুমন দাশ ( শ্রীমৎ সুন্দর কৃষ্ণ দাস ঠাকুর মহারাজ) কে সেবায়ত নিযুক্ত করে পুর্ববর্তী সেবায়েতদ্বয়ের ন্যায় সকল কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সুমন দাশ ( শ্রীমৎ সুন্দর কৃষ্ণ দাস ঠাকুর মহারাজ) দায়িত্তপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত অপর মামলা নং ৪৫৬/১২ স্থানান্তরিত বর্তমান (পরিবেশ আদালত) মামলা নং ১৫/২০ বাদী হিসেবে পক্ষভুক্তি ও দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত অপর মামলা নং- ১২৪/৯৭ প্রথম বিবাদী হিসেবে আবেদন করিলে মাননীয় আদলত আবেন শুনানিতে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত সমূহ বিবেচনায় নিয়ে আশ্রমের সেবায়ত হিসেবে আদেশ মঞ্জুরে মামলার কার্যক্রমে বাদীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সেবায়েত সুমন দাস (শ্রীমৎ সুন্দর কৃষ্ণ দাস ঠাকুর মহারাজ) শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ তীর্থের পরমপরা উত্তসূরী হিসেবে দৈনন্দিন, সাপ্তাহিক এবং বাৎসরিক উৎসবদীসহ সকল কার্যাদি পরিচালনারত আছেন বলে জানা যায়।

সেবায়েত এশিয়ান ফর ওমেন ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা পরিচয়ে ঝিকু বড়ুয়া প্রতিনিয়ত অজ্ঞাত নামা ১৫/২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে গত কয়েকমাস যাবৎ আশ্রমের জায়গা দখল করতে মন্দির এলাকায় বসবাসকারী ভক্তদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে, আবার কখনও টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে এতে আতঙ্কগ্রস্থ গুরুকূলবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।

পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদ সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্ম বড়, না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়? দেশের কোন আইনে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছে। তাও আবার অধিগ্রহন করছে ৩ একর, দখল করছে ৫০ একরের বেশি। আমারা ওমেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে এম এম আলী রোড অফিসে একাধিকবার বসেছি কোন সমাধান তারা দিতে পারেনি। সকলের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা পরিমাপ করতে বলেছি তাও করেনি। ঝিকু বড়ুয়া ওমেন ইউনিভার্সিটির নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে আশ্রমের জায়গা দখলের ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। এমনকি সে সীতাকুণ্ড শীতলপুর এলাকার একাধিক মামলার আসামী শচিন দে নামে পেশাদার ভুমি দখলবাজের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের মন্দির এবং বসবাসকারী ভক্তদের উচ্ছেদ করে পাহাড় কেটে প্লট ব্যবসা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।তাই মন্দিরের সম্পত্তি জবরদখলকারী ও ভুমিদস্যুদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করছি।

বিশেষ প্রতিনিধিঃ নগরীর আকবরশাহ্ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজায় পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের মালিকানাধীন জমির দেওয়ানি আইনে স্বত্ব প্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধে একাধিক পক্ষকে বিবাদী করে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদলত অপর মামলা নং ১২৪/৯৭ ও ১৫/২০২০ বিচারাধীন।

সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ান ফর ওমেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের তত্ববাধায়ক পরিচয়ে রাউজান নিবাসী ভুমিদস্যু ঝিকু বড়ুয়া নামের এক ব্যাক্তি অজ্ঞাত ১৫/২০ জন দখলবাজের সমন্বয়ে প্রতিনিয়ত মন্দির এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে মর্মে অভিযোগ করছে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম কর্তৃপক্ষের সেবায়েত ও আশ্রম পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তারা।

আশ্রমের ট্রাস্টি সুজিত চৌধুরী দি ক্রাইমকে জানান, এশিয়ান ফর ওমেন ইউনিভার্সিটির জন্য এল, এ মামলা নং ০৫/২০১০-২০১১ মুলে মাত্র তিন একরের কিছু বেশি জায়গা অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। অথচ ঝিকু বড়ুয়া গংরা আশ্রমের মালিকানাধীন প্রায় ৫০ একর জায়গা জোরপূর্বক দখল করার পাঁয়তারা করছে।

দালিলিক প্রাপ্ত তথ্যমতে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ তীর্থস্থান প্রভাবশালী দখলবাজ ও স্ববিরোধী স্বার্থন্বেষী মহলের ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থের ষড়যন্ত্রে (বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির) পথে নগরীর উত্তর পাহাড়তলী মৌজায় সাবেক থানা ডবলমুরিং বর্তমানে আকবরশাহ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার অন্তর্গত এলাকায় ৩১ মার্চ ১৯৩৮ ইং সনে প্রকাশ্য নিলামে S/C No- 209 মুলে কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত গোয়ঠুলি মৌজা নিবাসী উপেন্দ্র মিত্রের পুত্র দিনেশ চন্দ্র মিত্র নিলাম খরিদা মূলে প্রাপ্ত হইয়া ২০ জুন ১৯৩৮ ইং তারিখে ২১২৯ নং দানপত্র দলিল মুলে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের পক্ষে সেবায়েত শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ তীর্থ বরাবরে হস্তান্তর পুর্বক আরএস জরিপের ৮১৭/১ নং খতিয়ানের ২২৫/২১২ দাগের আন্দর ১৩৩ একরের অধিক পাহাড়ি সম্পত্তি প্রাপ্ত হইয়া সেবায়ত সচ্চিদানন্দ তীর্থ প্রতিষ্ঠিত পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, মহাদেব মন্দির ও কৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠায় সাধু সণ্যাসীদের সাধনার্থে সনাতনীদের তীর্থস্থানের মর্যদা লাভ করেন।

১৯৬৯ সালের রাম নবমী উপলক্ষে সচ্চিদানন্দ তীর্থ ও তাঁর পুত্রতুল্য একান্ত জৈষ্ঠ শিষ্য শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ তীর্থ ভারতে তীর্থ ভ্রমণে গেলে সেবায়েত সচ্চিদানন্দ তীর্থ মায়াপুর আশ্রমে দেহত্যাগ করেন। শংকরানন্দ তীর্থ দেশে ফিরে এসে সেবায়েত সচ্চিদানন্দ তীর্থের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঝাউতলা এলাকার বিহারীরা পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগিতায় মন্দির ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে তিনটা মন্দির ধ্বংসস্তুুপে পরিণত হয়।তখন থেকে বসবাস অনুপোযোগী হওয়ায় আশ্রমের বাৎসরিক উৎসব ব্যাতিত সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পুনরায় দূর্গা মন্দির, শিব মন্দির ও কৃষ্ণ মন্দির স্থাপিত করে যথাযথ আশ্রমের কার্যক্রম শুরু করিলে ১৯৯০ সালে ভারতের রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আবারো মন্দিরগুলো ভাংচুর লুটপাট করে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তিতে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শ্রীমৎ স্বামী স্বচ্চিদানন্দ তীর্থের শীষ্যগণের সমন্বয়ে মন্দির পুঃনস্থাপন করে ধর্মীয় পুজা অর্চণা চালু করা হয়।

বংশপরম্পরা শিষ্যগণের আহ্বানে দানপত্র দলিলে উল্লেখিত শর্তানুসারে সনাতনী শাস্ত্রীয় বিধাননুযায়ী আশ্রমের সেবায়েত মনোনীত হয়ে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের তপশীলোক্ত ভু-সম্পত্তি শাসন সংরক্ষণকল্পে আশ্রমের মালিকানাধীন ভু-সম্পত্তির রেকর্ডীয় ও দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তিকল্পে প্রচলিত আইনে বিচারিক কার্যক্রমে আইনগত প্রয়োজনে ১৫ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে শিষ্যগণের এক বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতভাবে দালিলিকভাবে শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ তীর্থ সেবায়েত নিয়োগ লাভ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৫ সাল হইতে পর্যায়ক্রমে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, কালি মন্দির ও শিব মন্দিরগুলোতে দৈনন্দিন পুজা ও সাপ্তাহিক প্রতি শুক্রবার বিশেষ প্রার্থনা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজা, কালি পুজা, শিব চতুর্দশী পুজা, মনষা পুজা উদযাপিত হচ্ছে।

ভুমিদস্যুদের চক্রান্তের নীল নক্সানুযায়ী পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের মালিকানাধীন ভু-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথিত জয়নাব বেগম গং সৃষ্ট ভিত্তিহীন বিরোধীয় স্বত্ত্ব প্রচারের অপর মামলা নং ১২৪/৯৭ অবগত হইয়া এক নাম্বার বিবাদী হিসেবে পক্ষ ভুক্তির আবেদন করিলে মাননীয় আদালত শুনানিন্তে অত্র পক্ষভুক্তির আবেদন গ্রহনে আদেশ প্রদান করেন এবং বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শক্রমে বিএস রেকর্ড সংশোধন ও সৃজিত জাল দলিল বাতিলে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত অপর মামলা নং-৪৫৬/১২ দায়ের করেন।

ধর্মীয় সকল কার্যাদি, আশ্রমের ভু-সম্পত্তি শাসন সংরক্ষণ ও বিরোধীয় দেওয়ানি মামলা চলমান অবস্থায় শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ তীর্থ ১১ মে ২০১৯ সালে দেহত্যাগ করিলে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদ, সেবায়তের শিষ্য ও ভক্তগনের সমন্বয়ে ১৭ মে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রয়াত সেবায়ত শংকরানন্দ তীর্থের জৈষ্ঠ্য শিষ্য শ্রী দুলাল কান্তি নাথ প্রকাশ গীরিজ সাধু সেবায়েত নিযুক্ত হয়ে নিম্ন এবং উচ্চ আদালতে চলমান মামলায় সেবায়েত হিসেবে পক্ষভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গীরিজ সাধু দায়িত্ব গ্রহন পরবর্তী পুর্বের সেবায়েতের নিয়ামানুসারে সুচারুভাবে মন্দিরের দৈনন্দিন ও বাৎসরিক পুজা, পরিচালনা পরিষদ গঠন, আশ্রমের ভু-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনা অবস্থায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং দেহত্যাগ করায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদ পুর্বের নিয়ামানুসারে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় আয়োজিত শীষ্য ও ভক্তগনের সমন্বয়ে স্মরণ সভা শেষে এক বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গীরিজ সাধুর একান্ত অনুগত শিষ্য সুমন দাশ ( শ্রীমৎ সুন্দর কৃষ্ণ দাস ঠাকুর মহারাজ) কে সেবায়ত নিযুক্ত করে পুর্ববর্তী সেবায়েতদ্বয়ের ন্যায় সকল কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সুমন দাশ ( শ্রীমৎ সুন্দর কৃষ্ণ দাস ঠাকুর মহারাজ) দায়িত্তপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত অপর মামলা নং ৪৫৬/১২ স্থানান্তরিত বর্তমান (পরিবেশ আদালত) মামলা নং ১৫/২০ বাদী হিসেবে পক্ষভুক্তি ও দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত অপর মামলা নং- ১২৪/৯৭ প্রথম বিবাদী হিসেবে আবেদন করিলে মাননীয় আদলত আবেন শুনানিতে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত সমূহ বিবেচনায় নিয়ে আশ্রমের সেবায়ত হিসেবে আদেশ মঞ্জুরে মামলার কার্যক্রমে বাদীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সেবায়েত সুমন দাস (শ্রীমৎ সুন্দর কৃষ্ণ দাস ঠাকুর মহারাজ) শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ তীর্থের পরমপরা উত্তসূরী হিসেবে দৈনন্দিন, সাপ্তাহিক এবং বাৎসরিক উৎসবদীসহ সকল কার্যাদি পরিচালনারত আছেন বলে জানা যায়।

সেবায়েত এশিয়ান ফর ওমেন ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা পরিচয়ে ঝিকু বড়ুয়া প্রতিনিয়ত অজ্ঞাত নামা ১৫/২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে গত কয়েকমাস যাবৎ আশ্রমের জায়গা দখল করতে মন্দির এলাকায় বসবাসকারী ভক্তদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে, আবার কখনও টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে এতে আতঙ্কগ্রস্থ গুরুকূলবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।

পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রম পরিচালনা পরিষদ সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্ম বড়, না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বড়? দেশের কোন আইনে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করেছে। তাও আবার অধিগ্রহন করছে ৩ একর, দখল করছে ৫০ একরের বেশি। আমারা ওমেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে এম এম আলী রোড অফিসে একাধিকবার বসেছি কোন সমাধান তারা দিতে পারেনি। সকলের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা পরিমাপ করতে বলেছি তাও করেনি। ঝিকু বড়ুয়া ওমেন ইউনিভার্সিটির নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে আশ্রমের জায়গা দখলের ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। এমনকি সে সীতাকুণ্ড শীতলপুর এলাকার একাধিক মামলার আসামী শচিন দে নামে পেশাদার ভুমি দখলবাজের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে পুর্ববঙ্গ গুরুকূল ব্রহ্মচর্য্য আশ্রমের মন্দির এবং বসবাসকারী ভক্তদের উচ্ছেদ করে পাহাড় কেটে প্লট ব্যবসা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।তাই মন্দিরের সম্পত্তি জবরদখলকারী ও ভুমিদস্যুদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করছি।