নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত। এক ধারার নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আরেকটি ধারা রয়েছে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে। সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে ঘিরে চলে এই ধারার নেতাকর্মীর কার্যক্রম। তবে নিজের গ্রুপ থাকার কথা অস্বীকার করেন উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
দলটির নেতাকর্মীরা বলেন, নওফেল গ্রুপের অন্যতম একজন হলেন মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু। সে কারণে দীর্ঘদিন থেকে নাছিরের সঙ্গে বাচ্চুর বিভেদ ও দূরত্ব। বলা যায়, ‘দা-কুমড়া’ সম্পর্ক। এদিকে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) আসনে উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন মহিউদ্দিন বাচ্চু। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অবাক করে বাচ্চুর এই নির্বাচনী প্রচারে ‘প্রধান’ হয়ে উঠেছেন আ জ ম নাছির! বাচ্চুকে নিয়ে প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। বিষয়টি দলে ও দলের বাইরে অনেকের নজর কেড়েছে, চলছে নানামুখী আলোচনা।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গত ১৭ জুলাই উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে ছিলেন আ জ ম নাছির। এর পর প্রচারে নামেন তারা। এর আগে নগরীর জঙ্গী শাহ মাজার জিয়ারত করার পাশাপাশি খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল হয়। সেখানেও একসঙ্গে ছিলেন দু’জন।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও আংশিক চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদকে নিয়েও একইভাবে কাজ করেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির। নোমান অবশ্য আ জ ম নাছিরের কট্টর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
পুরোনো বিরোধের জেরে আ জ ম নাছির উপনির্বাচনে মহিউদ্দিন বাচ্চুর পক্ষে কাজ করবেন কিনা, তা নিয়ে কিছুদিন আগেও দলের মধ্যে ছিল জল্পনা। তবে সেই সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণ করে চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপনির্বাচনে বাচ্চুর পক্ষে দিনরাত খাটছেন নাছির।
এ বিষয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রার্থী কে কিংবা ব্যক্তি কে– সেটা বড় কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, তাঁর জন্য কাজ করা দলের সব নেতাকর্মীর দায়িত্ব। যে আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে, সেটি নগরীর আওতাধীন। তাই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। আ জ ম নাছির বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দলের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুকে জয়ী করে আনাই এখন প্রধান কাজ।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ১৪ দল চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়ক খোরশেদ আলম সুজন অবশ্য বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাই দলের নেতাকর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। এ থেকে হয়তো মনোমালিন্য হয়। তবে এটাকে বড় কোনো বিরোধ বলা যাবে না।
সংসদ সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ডা. আফছারুল আমীনের মৃত্যুতে চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন আফছারুল। আগামী ৩০ জুলাই এ আসনে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। প্রচার-প্রচারণা চললেও এলাকায় নির্বাচনের তেমন আমেজ নেই। যদিও নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী আমেজ তৈরির চেষ্টা করছেন। ওয়াসা মোড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রধান কার্যালয় করা হয়েছে। সেখান থেকে ট্রাকে করে নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই প্রচারে বেরিয়ে পড়ছেন।




