স্পোর্টস ডেস্ক: ৩০তম ওভারে সাইফ হাসানের করা বল বেরিয়ে যাচ্ছিল অফ সাইড দিয়ে। ক্রিজে থাকা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সেট ব্যাটসম্যান প্রান্তিক নওরোজ নাবিল খোঁচা দিয়ে বসেন। বোলার সাইফ, উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানসহ শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের ক্রিকেটাররা আউটের জোরালো আবেদন করেন। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। শেখ জামালের নিশ্চিত আবেদন এতোটাই জোরালো ছিল যে, সাইফ মাঠেই হাঁটু মুড়ে বসে পরেন।
কিন্তু ওদিকে ব্যাটসম্যান নাবিল দারুণ স্পোর্টসম্যানশিপের পরিচয় দেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে আউট হয়েছেন জেনে নিজেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যান। হাঁটা ধরেন ড্রেসিংরুমের পথে। ফিফটি পাওয়া এ ব্যাটসম্যানের এমন স্পোর্টসম্যানশিপে প্রতিপক্ষের ফিল্ডার তাকে গিয়ে অভিবাদনও জানান। নাবিল চলে যাওয়ার পর শেখ জামাল ক্রিকেটারদের আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার লিগের ম্যাচে রোববার (৭ মে) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘটনাটি ঘটেছে। নাবিল সাজঘরে ফেরেন ৭৫ রান করে। আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় চাইলে তিনি ক্রিজে থাকতে পারতেন।
ওই ওভারেই অফস্পিনার সাইফ নাবিল ও দিপুর ১৩৬ রানের জুটি ভাঙেন। দীপুকে মিড উইকেট সীমানায় তালুবন্দি করান। এক বল পর নাবিল উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। আম্পায়ার আউট না দিলেও যুব বিশ্বকাপজয়ী নাবিল বড় মনের পরিচয় দিয়ে ওয়াক অফ করে মাঠ ছাড়েন।
ঢাকা লিগে যেখানে আউট হওয়া না হওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক লেগে থেকে সেখানে নাবিল অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নিশ্চিতভাবে। শেখ জামাল আগে ব্যাটিং করে ২৭৭ রানের লক্ষ্য দেয়। ১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাবিল ও দিপু জুটি বেঁধেছিলেন।
ক্রিকেটে এমন স্পোর্টসম্যানশিপের ঘটনা আগেও ঘটেছে। শচীন টেন্ডুলকার, অ্যাডাম গিলক্রিস্টরা বিশ্বকাপ মঞ্চে এমন স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়েছেন। যেদিন আম্পায়ার তাদের নট আউট দিয়েছিলেন। কিন্তু আউট হয়েছেন জেনে নিজেই ক্রিজ ছেড়ে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন।



