বগুড়া প্রতিনিধি: ঢাকায় নিয়ে যাওয়া মালপত্র আবারও বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আসা তিনটি কাভার্ডভ্যানবোঝাই মালপত্র বুঝে নেন স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিল। গতকাল সোমবার এসব মালপত্র নামানো হয়।
ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিল বলেন, ‘ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সব মালপত্র আবারও ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে। ১৭ স্টাফের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই আবারও যোগ দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এ কয়েকদিনে মাঠের অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি না দেওয়ার কারণে এমন হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার। তবে এখানে যেহেতু খেলা চলছে, আগামী ১৩ তারিখের আগে মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না।’ স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঈদের পর বিসিবির পক্ষ থেকে এখানে একটি টিম পরিদর্শনে আসবে। পরিদর্শন শেষে স্টেডিয়াম সংস্কার কাজের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ মাঠ একসময় ফুটবল স্টেডিয়াম ছিল। ২০০৪ সালে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মালিকানাধীন স্টেডিয়ামটিকে প্রথমে বিসিবি ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ভেন্যুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৭ স্টাফ নিয়োগ দেয়। ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি আইসিসি ওই স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করে। পরে আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি পায় মাঠটি। তবে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের পর ওই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিবর্তে জাতীয় লীগের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে সেখানে স্থানীয় পর্যায়ের খেলা চলতে থাকে।
এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার কারণে জাতীয় লীগের খেলা পরিচালনার সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিসিবি গত ২ মার্চ শহীদ চান্দু ক্রিকেট ভেন্যু বাতিলের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ওই ভেন্যু থেকে ম্যানেজারসহ ১৭ স্টাফকে অন্যত্র বদলি করে। এমনকি সরঞ্জামও সরিয়ে নেয়। এতে ক্রিকেটপ্রেমীরা বিক্ষুব্ধ হন। ৩৮ দিন পর স্টেডিয়াম বিসিবির ভেন্যু হিসেবে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।




