স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৬ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টিতে হারালো বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় বাংলাদেশ হেরেছিল ৮ উইকেটে।
আজ টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ১৫৬ রান করে ইংল্যান্ড। তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতে মাঠ ছাড়ে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন শান্ত। মাত্র ৩০ বলে এই রান করেন তিনি।
এ ছড়া তৌহিদ হৃদয় ২৪ ও রনি তালুকদার ২১ রান করেন। শান্ত-হৃদয়ের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। মাত্র ৩৯ বলে ৬৫ রান আসে এই জুটি থেকে। এরপর সাকিব-আফিফের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে। দুজনের জুটি থেকে আসে ৩৪ বলে ৪৬ রান। সাকিব ৩৪ ও আফিফ ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন উড-আর্চার-মঈন-রশিদ।
জয়ের পথে বাংলাদেশ
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ের পথে বাংলাদেশ। ২৪ বলে প্রয়োজন ১৯ রান। সাকিব-আফিফ এখন ব্যাট করছেন। দুজনের জুটি থেকে আসে ২৬ রান।
ফিফটির পর শান্তর বিদায়
উডের বল বুঝতেই পারেননি দুর্দান্ত খেলতে থাকা শান্ত। ব্যাক অব লেন্থের বলে পরাস্ত হন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সরাসরি আঘাত হানেন উইকেটে। ৮টি চারে ৩০ বলে ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। ক্রিজে দুই নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব-শান্ত।
২৭ বলে শান্তর ফিফটি, হৃদয়ের বিদায়
মঈন আলীকে লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ২৭ বলে পেয়ে যান ফিফটির দেখা। তার হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে চারের মার ছিল ৮টি। হৃদয়ের ফিফটির পরেই সাজঘরে ফেরেন তৌহিদ হৃদয়। টাইমিং গড়বড় করে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন। বাউন্ডারি থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ ধরেন মঈন আলী। ১৭ বলে ২৪ রান করেন হৃদয়।
হৃদয়ের ছক্কায় ৬৩ বলে বাংলাদেশের ১০০
এক হাঁটু গেঁড়ে মিড অনে আদিল রশিদকে গ্যালারিতে আছড়ে ফেললেন তৌহিদ হৃদয়। ১০.৩ ওভারে বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় শতরান। আরেক প্রান্তে দুর্দান্ত খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের জুটি থেকে ৩৭ বলে ৬৪ রান আসে।
পাওয়ার প্লের পর শান্ত ঝড়, হাঁকালেন টানা চারটি চার
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৫৪ রান তোলে। এরপর শুরু হয় শান্ত ঝড়। মার্ক উডকে সপ্তম ওভারের প্রথম চার বলে টানা চারটি চার হাঁকান শান্ত। মিড অনে ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে শুরু, শেষও করেন মিড অনে দারুণ চারে। অন্যপ্রান্তে অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়ও খেলছেন সাবলীলভাবে। দুজনের জুটি থেকে ১৯ বলে ৩৯ রান আসে।
রনির পর লিটনের বিদায়
ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থ ছিলেন লিটন দাস। তিন ম্যাচে মাত্র সাত। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে দিয়েছেন বার্তা। ক্রিজে সেট হতে সময় নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। আর্চারের বলে পুল করতে গিয়ে ধরা পড়েন ওকসের হাতে। ১০ বলে ১২ রান করেন তিনি।
দারুণ শুরুর পর রনির বিদায়
আদিল রশিদের প্রথম বল পায়ে লাগে রনির। পরের বল আর ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। সরাসরি বোল্ড। ৮ বছর পর দলে ফেরা এই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। ৩ ওভারে বাংলাদেশ ৩২ রান করে। তাতে রনির অবদান ২১। ১৪ বলে এই রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী শান্ত।
ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং, ১৫৬ রানে ইংলিশদের থামালো বাংলাদেশ
শেষ চার ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়েছে বাংলাদেশি বোলাররা। এ সময় সফরকারীরা হারিয়েছে ৩ উইকেট। তাতে ইংল্যান্ড বড় স্কোরের পথে থেকেও করতে পারেনি। ৬ উইকেট হারিয়ে তারা ১৫৬ রান করে। তিন পেসার দুর্দান্ত বোলিং করেন শেষ দিকে। তাসকিন-হাসান ২৬ রান করে দেন। হাসান সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন। তাসকিন নেন ১টি। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন সাকিব-নাসুম-মোস্তাফিজ। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন বাটলার। তিনি জীবন পেয়েছিলেন ২০ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রান করা সল্টও জীবন পান ১৯ রানে। ২০ রান আসে ডাকেটের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরের মুখ দেখেননি।
মোস্তাফিজ-হাসানের আঘাতে পরপর আউট ডাকেট-বাটলার
ষোলোতম ওভারের শেষ বল। মোস্তাফিজুর রহমানের নিচুতে ভেতরে ঢোকা বলে পুল করতে চেয়েছিলেন ডাকেট। বল ব্যাট ফাঁকি দিয়ে স্ট্যাম্প উপরে ফেলে। ১৩ বলে ২০ রান করেন তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলেই হাসান ফেরান ঝড় তোলা বাটলারকে। এর আগে হাসানকে ছক্কা মেরে ফিফটি করেছিলেন বাটলার এবারও উড়িয়ে মারলেন লং অনে। কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় বাউন্ডারি পার হওয়ার আগে ধরা পড়ে যান শান্তর হাতে। ২০ রানে জীবন পাওয়া বাটলার আউট হন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
ফিফটির পর বাটলার ঝড়
২০ রানে সাকিবের হাতে মিড অনে জীবন পেয়েছিলেন। সেটি ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন ইংলিশ অধিনয়ক জস বাটলার। হাসান মাহমুদকে ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৩২ বলে ফিফটি করেন বাটলার। তার ফিফটির ইনিংস সাজানো ছিল তিনটি করে চার-ছক্কায়। পরের বলেও আরও একটি ছয় হাঁকান তিনি। এতে পূর্ণ হয় ইংল্যান্ডের দলীয় ১০০। ফিফটির পর ঝড় তুলছেন বাটলার।
নাসুমের পর সাকিবের আঘাত
নিজের বলে নিজে ক্যাচ মিস করে জীবন দিয়েছিলেন ফিল সল্টকে। সেই সল্টকে দশম ওভারের শেষ বলে ফেরান নাসুমই। একই ওভারে এক ছক্কা এক চারের মারের পর সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন নাসুম। রিভিউ নিয়েছিলেন কিন্তু কাজ হয়নি। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৩৮ রান। নাসুমের এক ওভার পরেই আঘাত হানেন সাকিব। লং অনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মালান ধরা পড়েন শান্তর হাতে। ৭ বলে ৪ রান করেন তিনি।
নাসুমের এক ওভারেই দুই ক্যাচ মিস, ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত শুরু
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাসুম আহমেদের প্রথম বল। সল্ট সোজাসুজি নাসুমের দিকেই খেলেন। বল আঙুলে লেগে মাটিতে স্পর্শ করে। সল্ট ১৯ রানে জীবন পান। পরের বলে সিংগেল নিয়ে স্ট্রাইক দেন বাটলারকে। এক বল ডট দিয়ে বাটলার মিড অনে আকাশে তুলে দেন। কিন্তু সাকিব ধরতে পারেননি। বাটলার জীবন পান ২০ রানে। শুরু থেকেই দুজনে মেরে খেলার চেষ্টা করছেন। পাওয়ার প্লেতে তোলেন ৫১ রান।
টস
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ
তিন পেসার নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। অভিষেক হচ্ছে তৌহিদ হৃদয়ের। আর ৮ বছর পর দলে ফেরা রনি একাদশেও জায়গা করে নিয়েছেন। প্রায় দেড় বছর পর খেলছেন শামীম পাটোয়ারী।
একদাশে যারা
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), রনি তালুকদার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাশ, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।




