নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাসাধারণ দিশাহারা। মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা তুলে ধরছেন নানা অজুহাত। চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ তাদের স্বল্প উপার্জনের টাকায় কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ডলার সংকটে ব্যাংকগুলোতে এলসি সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কথা। তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বুকিং রেট বেড়ে যাওয়ার কথাও জানান। কিন্তু বুকিং রেট আন্তর্জাতিক বাজারে যখন কমে যায়, সেই কথা তারা জানাতে চান না। একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, পণ্যের বুকিং রেট আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিনই ওঠানামা করে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে এসব নানা অজুহাত ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ টন চাল ও গম এসেছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। পাইপলাইনে খাদ্যশস্যের আরো চালান আসার অপেক্ষায় রয়েছে। বন্দরে সরকারি পণ্য আসার সঙ্গে সঙ্গেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামে।

ভুক্তভোগী ক্রেতাসাধারণ জানান, বাজারের শাকসবজি বিক্রেতারাও আজকাল ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত তোলে। আগে এসব বিক্রেতাদের মুখে মুখে ছিল জ্বালানি তেলের মুল্যবৃদ্ধির কথা। গ্রাম থেকে, আড়ত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে আনার সময় ঘাটে ঘাটে ট্যাক্স ও চাঁদাবাজির কথা ব্যবসায়ীরা এখন আর বলতে চান না। আটা প্রতি কেজি প্যাকেটের মূল্য খুচরা বাজারে ৭০ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেই যে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১ লাখ টন গম এসেছে একথা ব্যবসায়ীরা বলতে চান না। অথচ তাদের অজুহাতের তালিকায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা ঘন ঘনই উঠে আসে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চলতি নভেম্বর মাসের শুরুতেই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। নতুন করে মূল্য বেড়ে যায় পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। আবার বলেন, ব্যাংকগুলো এলসি খোলার সুযোগ সংকুচিত করে দিয়েছে। কিন্তু আগের রেটে আমদানি করা পেঁয়াজ-রসুনের দাম কেনো বাড়বে—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দিতে চান না।

দেখা গেছে, নভেম্বরের শুরুতে উল্লেখিত অজুহাতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চিনি প্রতি মণের মূল্য ১ হাজার ১৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬৮০ টাকা করা হয়েছে। মসুর ডাল প্রতি কেজিতে ২ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ৯২ টাকায়। ভারতীয় গম প্রতি মণে ৮০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি করে বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। পেঁয়াজ কেজিতে ১২ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৪৮ টাকায়। ভারতীয় শুকনো মরিচ কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৬০ টাকায়। নভেম্বরের শুরুতেই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পাম অয়েলের দাম ২৫০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকায়। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষে উল্লেখিত অজুহাতে চাক্তাই ও পাহাড়তলী চালের আড়তে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জিরাশাইল সিদ্ধ, নাজিরশাইল সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ, মিনিকেট আতপ, কাটারিভোগ আতপ, বেতি চাল আতপ মোটা সিদ্ধ চালের দাম প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) চট্টগ্রাম চাপ্টারের প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা যে অজুহাত দেখাচ্ছেন তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা আগে জ্বালানির মূল্য ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত দেখাত। এখন দেখাচ্ছে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধ, এলসি খুলতে না পারার অজুহাত। এটা আসলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা। তবে সরকার ১ কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে এবং খোলা বাজারে ওএমএসের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল ও তেল বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সমস্যা রয়েছে অনেক জায়গায়। মিলাররা এবং কারখানার মালিকরা বলছেন তারা গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন ডলার সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক এলসি খুলতে দিচ্ছে না। এদিকে রাজস্ব বোর্ড ফিনিশড গুডসের ওপর ডিউটি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি বলেছি, ফিনিশড গুডসের ওপর ডিউটি কমিয়ে দিতে। যেহেতু বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, তাই সবাইকে পরিকল্পনা করে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হয়ে চলতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাসাধারণ দিশাহারা। মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা তুলে ধরছেন নানা অজুহাত। চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষ তাদের স্বল্প উপার্জনের টাকায় কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ডলার সংকটে ব্যাংকগুলোতে এলসি সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কথা। তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বুকিং রেট বেড়ে যাওয়ার কথাও জানান। কিন্তু বুকিং রেট আন্তর্জাতিক বাজারে যখন কমে যায়, সেই কথা তারা জানাতে চান না। একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, পণ্যের বুকিং রেট আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিনই ওঠানামা করে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে এসব নানা অজুহাত ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া কিছু নয়। তিনি বলেন, গত এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ টন চাল ও গম এসেছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। পাইপলাইনে খাদ্যশস্যের আরো চালান আসার অপেক্ষায় রয়েছে। বন্দরে সরকারি পণ্য আসার সঙ্গে সঙ্গেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামে।

ভুক্তভোগী ক্রেতাসাধারণ জানান, বাজারের শাকসবজি বিক্রেতারাও আজকাল ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত তোলে। আগে এসব বিক্রেতাদের মুখে মুখে ছিল জ্বালানি তেলের মুল্যবৃদ্ধির কথা। গ্রাম থেকে, আড়ত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে আনার সময় ঘাটে ঘাটে ট্যাক্স ও চাঁদাবাজির কথা ব্যবসায়ীরা এখন আর বলতে চান না। আটা প্রতি কেজি প্যাকেটের মূল্য খুচরা বাজারে ৭০ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেই যে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১ লাখ টন গম এসেছে একথা ব্যবসায়ীরা বলতে চান না। অথচ তাদের অজুহাতের তালিকায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা ঘন ঘনই উঠে আসে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চলতি নভেম্বর মাসের শুরুতেই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। নতুন করে মূল্য বেড়ে যায় পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। আবার বলেন, ব্যাংকগুলো এলসি খোলার সুযোগ সংকুচিত করে দিয়েছে। কিন্তু আগের রেটে আমদানি করা পেঁয়াজ-রসুনের দাম কেনো বাড়বে—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দিতে চান না।

দেখা গেছে, নভেম্বরের শুরুতে উল্লেখিত অজুহাতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে চিনি প্রতি মণের মূল্য ১ হাজার ১৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬৮০ টাকা করা হয়েছে। মসুর ডাল প্রতি কেজিতে ২ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ৯২ টাকায়। ভারতীয় গম প্রতি মণে ৮০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি করে বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। পেঁয়াজ কেজিতে ১২ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ৪৮ টাকায়। ভারতীয় শুকনো মরিচ কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৬০ টাকায়। নভেম্বরের শুরুতেই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পাম অয়েলের দাম ২৫০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকায়। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষে উল্লেখিত অজুহাতে চাক্তাই ও পাহাড়তলী চালের আড়তে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জিরাশাইল সিদ্ধ, নাজিরশাইল সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ, মিনিকেট আতপ, কাটারিভোগ আতপ, বেতি চাল আতপ মোটা সিদ্ধ চালের দাম প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) চট্টগ্রাম চাপ্টারের প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা যে অজুহাত দেখাচ্ছেন তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা আগে জ্বালানির মূল্য ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত দেখাত। এখন দেখাচ্ছে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধ, এলসি খুলতে না পারার অজুহাত। এটা আসলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা। তবে সরকার ১ কোটি পরিবারের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে এবং খোলা বাজারে ওএমএসের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল, ডাল ও তেল বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সমস্যা রয়েছে অনেক জায়গায়। মিলাররা এবং কারখানার মালিকরা বলছেন তারা গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন ডলার সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক এলসি খুলতে দিচ্ছে না। এদিকে রাজস্ব বোর্ড ফিনিশড গুডসের ওপর ডিউটি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি বলেছি, ফিনিশড গুডসের ওপর ডিউটি কমিয়ে দিতে। যেহেতু বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, তাই সবাইকে পরিকল্পনা করে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হয়ে চলতে হবে।