ঢাকা ব্যুরো: ডলারের কারসাজি রোধে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোতে অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অর্থ পাচারে জড়িত সন্দেহে ২৮টি মানি চেঞ্জারের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক হিসাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডলার বেচাকেনায় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ২৩৫টি মানি চেঞ্জার বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিলেও দেশের বাজারে ৭০০-র বেশি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। এ পর্যন্ত ১০০-এর বেশি মানি চেঞ্জার পরিদর্শন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে ডলার কেনাবেচায় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শোকজ করা হয়। আর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্হগিত করা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে বলা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানে দিনশেষে ২৫ হাজার ডলারের বেশি থাকলে তা ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে ডলার বেচাকেনা, কত ডলার বেচাকেনা তার তথ্য নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দিতে হয়। কিন্তু যথাযথ তদারকি না করায় অনেক মানি চেঞ্জার এসব নিয়ম মানছে না। অনেকেই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া বর্তমানে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই এর সুযোগ নিচ্ছে। ব্যাংকসহ মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো অস্বাভাবিক মুনাফা করে যাচ্ছে। এসব অনিয়ম রোধে ইতিমধ্যে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে কারণ দর্শানো নোটিশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা অর্থ পাচার করছে কি না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখতে ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।




