বিনোদন প্রতিবেদক: ‘আমার জীবনে ‘পরাণ’ ছবিটি বিশেষ কিছু। আমার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে নিজের পছন্দের ২ বা ৩ টি ছবি। সেই ছবিগুলোর মধ্যে ‘পরাণ’ অবশ্যই প্রথম সারিতে থাকবে। এক নতুন ভিন্ন মিম কে দর্শক দেখতে পাবে’ – সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পরাণ’ ছবি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন বিদ্যা সিনহা মিম!
অবাক হয়েছিলাম প্রায় ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৩টি ছবি তার নিজের প্রিয়। হিসাব করে দেখলাম, এতবছরের ক্যারিয়ারে মিমের মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা মাত্র ১৭ টি। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ এর বিজয়িনী বিদ্যা সিনহা মিম এর চলচ্চিত্রে পদচারণা কিংবদন্তি নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ এর ‘আমার আছে জল’ দিয়ে। ঝুলিতে আছে ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ এর মতন সুপারহিট ছবি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন ‘জোনাকির আলো’ ছবি দিয়ে। কাজ করেছেন শাকিব খান থেকে শুরু করে ওপার বাংলার প্রসেনজিৎ, জিৎ, সোহম দের সাথেও।

তবুও, কোথাও যেন ঠিকমতো ক্লিক করতে পারেননি মিম। এমনও হয়েছে দূর্বল গল্পে কাজ করেছেন মিম কিন্তু তার অভিনয় প্রশংসিত। মাঝে চিত্রনাট্য বাছাই এ অন্যমনস্ক ছিলেন। মিম যখন ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় তখন তাকে কাজ করতে দেয়া হয়নি সেভাবে। এমনও হয়েছে চুক্তিবদ্ধ ছবি থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। শুনতে হয়েছে অসংখ্য রিজেকশন যার কারণগুলো অজানা! মিমের এসব ব্যর্থতার দায়ভার তার নিজের হোক বা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তাকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারাটা, কিন্তু আফসোসের বিষয় এই যে এমন সু-অভিনেত্রীর থেকে আরো বেশি কাজ আমরা দর্শকরা পাইনি!

রায়হান রাফী পরিচালিত ‘পরাণ’ এর গল্পটাই আবর্তিত হয়েছে ‘অনন্যা’রূপী মিম কে ঘিরে। অনন্যা যে সদ্য যৌবনে পা দিয়েছে। ছোট্ট বিষয় নিয়ে যার বায়না, আড়ি কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করলে খায় বাবার ঝাড়ি! অষ্টাদশী কন্যারা যেমন বোকাসোকা হয়, প্রেমের সম্পর্কে উৎসাহী হয়, সঠিক কিংবা ভুলের বাছবিচার করতে জানে না, ‘অনন্যা’ চরিত্রটি ঠিক তেমনি। অনন্যার মধ্যে বাচ্চামো রয়েছে, ঢং করে কথা বলার প্রবণতা আছে, যার ভূল সিদ্ধান্তে নষ্ট হয় অনেকেরই জীবন।
‘অনন্যা’ চরিত্রটি অনেকটাই গ্রে-শেডের। আজকাল এমন দ্বৈত সত্তার চরিত্র করতে চায় না বেশিরভাগ অভিনেত্রী। তার উপর মেকআপ ছাড়া তো করবেই না। নো-মেকআপ লুকে মিম ‘অনন্যা’ চরিত্রটিকে যেভাবে ডিফাইন করেছেন তা দেখে সত্যিই মনে হয়েছে সে যেন পাশের বাড়ির মেয়ে। ‘অনন্যা’ চরিত্রের অনেক আপস এন্ড ডাউন ছিল কিন্তু মিম পুরো কাজটা সাবলীল ভাবে করে বুঝিয়ে দিলেন তিনি কতটা দূর্দান্ত অভিনেত্রী। এমনকি দুই নায়কের সাথে প্রথমবার জুটি বেঁধে কাজ করলেন মিম৷ শরিফুল রাজ ও ইয়াশ রোহান, দুজনের সাথেই তার রসায়ন দর্শক বেশ পছন্দ করেছে।
বিদ্যা সিনহা মিম এর মধ্যে গ্ল্যামার যেমন আছে তেমনি দারুণ অ্যাক্টিং স্কিল ও রয়েছে। কিন্তু, আমাদের নির্মাতারা সবসময় মিম কে গ্ল্যামার অবতারে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। সেই জায়গায় রাফি অনন্যা চরিত্রটাই উপস্থাপন করেছেন বিধায় মিম কে ‘পরাণ’ এ এতোটা ভালো লেগেছে। মিম আর্ট ও কমার্শিয়াল দু’ধরনের ছবিতেই নিজেকে মানিয়ে ও গুছিয়ে নেন, অভিনয়েও রয়েছে ভিন্নতা। নির্মাতারা তাকে নিয়ে নতুন করে ভাববেন, এই মিম কে ভালোমতো কাজে লাগাবেন….. এটা প্রত্যাশা।

সামনে মিমের বেশকিছু প্রজেক্ট রয়েছে যা নিয়ে পরাণে আশা বাঁধা যায়। ‘পরাণ’ ছবিতে অনন্যা চরিত্র দিয়ে মিম যেভাবে দর্শকের হৃদয়ে দাগ কাটলেন সামনেও সেই ধারা বজায় রাখবেন আশা করি! আরো বছর তিনেক পর অন্য কোনো সাক্ষাৎকারে যেন মিমের নিজের প্রিয় ছবির সংখ্যা দ্বিগুণ হয় এটা শুনতে পারি!
Post Views: 271




