নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ১১৫৬টি রফতানির কনটেইনার বোঝাই এমভি হাইয়ান সিটি জাহাজ পুনরায় সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এর আগে বন্দরের বহির্নোঙরে আরেকটি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ এই ১৭২ মিটার লম্বা জাহাজটি প্রায় দুই মাসের মাধায় মেরামতের পর আজ মঙ্গলবার এটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বন্দরের শক্তিশালী টাগবোট কান্ডারী ১ এবং কান্ডারী ৬ এর সহায়তায় জাহাজটি কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেল অতিক্রম করে। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী জাহাজটির নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের অভিজ্ঞ পাইলট আবু সাইদ মো. কামরুল আলম। বেলা দেড়টার দিকে তিনি বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজের নিজস্ব পাইলটের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, ২০০ কোটি টাকা দামের হাইয়ান সিটি জাহাজটিতে রফতানি কনটেইনারগুলোর মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। জাহাজটি উদ্ধার, মেরামত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে ৮০০ কোটি টাকার রফতানি পণ্য যেমন রক্ষা পেয়েছে তেমনি জাহাজটি ডুবে গেলে বড় আর্থিক লোকসান ছাড়াও মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা।
চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে প্রথম জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটির বাইরে জোয়ার-ভাটা নির্ভর কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে একটি বেসরকারি জেটিতে কনটেইনার আনলোড করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বন্দরের ১টি ১৬ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ফর্ক লিফট, ৮টি স্প্রেডার, ৪টি ট্রেইলার, বার্থ অপারেটরের লজিস্টিকস সাপোর্টসহ যন্ত্রপাতির বহর ওই জেটিতে পাঠানো হয়েছিল। জাহাজটি মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ গোলাম সরওয়ার। ১৯৯৮ সালের জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নিয়ে যিনি ‘প্রান্তিক’ নামে একটি নৌ-প্রকৌশল ও নৌযান উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, একটি বড় জাহাজ বহির্নোঙরে মারাত্মক দুর্ঘটনার পর টো করে এনে মেরামতের পর পুনরায় বিদেশ পাঠানো নিঃসন্দেহে আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ। এ কাজে সরকারি, বেসরকারি অনেক সংস্থা, প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করেছে। সবার প্রতি আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমাদের এ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সাফল্যে মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের সুনাম বাড়বে।
জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল বন্দর ত্যাগ করার সময় কুতুবদিয়ার কাছে এমটি ওরিয়ন এক্সপ্রেস জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল জাহাজটির। এ সময় হাইয়ান সিটির পোর্ট সাইডে কার্গো হোল্ডে ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকে ৭ ডিগ্রি কাত হয়ে যায়। পানি ঢোকায় ড্রাফট বেড়ে ১০ দশমিক ৭ মিটারে দাঁড়ায়। উপক্রম হয় ডুবে যাওয়ার। বিশেষ উদ্যোগে জাহাজটি কুতুবদিয়া এলাকায় নোঙর করা হয়। গত ৪ মে বন্দরের টাগ কান্ডারী ১, ৬, ১০, ১১, লুসাই, জরিপ-১১, বর্ষণ, প্রান্তিক সরোয়ার, মুরিং বোট সন্দ্বীপের সহযোগিতায় জাহাজটি নিরাপদে বার্থিং করানো হয় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি সংলগ্ন কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে। এর আগে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে কনটেইনার খালাসের কাস্টম পারমিট নেওয়া হয়। জেটির ফোরশোরে ১০ দশমিক ৭ মিটার ড্রাফটের উপযোগী ড্রেজিং করানো হয়।



