কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বীরনোয়াকান্দি এলাকার মাছের পোনার বাজার জমে ওঠেছে। আগাম বর্ষা আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবছর পোনার উৎপাদন ও বিক্রি উভয়ই বেড়েছে। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয় বৃষ্টির পানিতে ভরে যাওয়ায় এখন মাছ চাষের উপযুক্ত সময়। তাই বাজারে পোনার বেচাবিক্রির ধুম পড়েছে। এতে খুশি এই অঞ্চলের পোনা উৎপাদনকারী, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সবাই।
জানা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এ বাজার। চলে সকাল ৮টা পর্যন্ত। দুই ঘণ্টার বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকার পোনা বিক্রি হয়। হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় এখান থেকে পোনা যায়।
সরেজমিনে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠেছে বীরনোয়াকান্দি চৌরাস্তার মোড় থেকে বিশাল এলাকা। এসময় গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ক্রেতা মো. মাসুম জানান, এ বাজারে ভালো জাতের মাছের পোনা পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছর এখান থেকে পছন্দের পোনা সংগ্রহ করি। তবে এবছর পোনার দাম একটু চড়া।
পোনা উৎপাদক উপজেলার বনগ্রামের ইমাম হোসেন বলেন, খাবারের দাম বেশি থাকায় এবছর পোনার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ৫টি পুকুরে পোনা চাষ শুরু করি। সব মিলিয়ে বর্তমান বাজার দরে উৎপাদিত পোনা বিক্রি থেকে ৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। তিনি লাভজনক এ খাতের সম্প্রসারণে সরকারিভাবে ঋণদানের আহ্বান জানান।
বাজারের আড়তদার আব্দুর রহমান বলেন, ২০ বছর ধরে চলে আসা এ বাজারে নিলাম ডাকের মাধ্যমে কেজি দরে পোনা বিক্রি করা হয়। সোমবার সকালে পোনা যে দরে বিক্রি হচ্ছে, তা হলো রুই, কাতলা ও ক্রশ বাউশ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সরপুঁটি ও ঘাসকার্প প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল, পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বিগহেড, সিলভারকার্প ও অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছ আকারভেদে ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, মাছের পোনা উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মৎস্য চাষিদের মাছের পোনা উৎপাদন, সংগ্রহ ও চাষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি।




