নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, পাঠক-লেখক, সংগঠকদের মিলনস্থল চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার চেরাগী পাহাড়ে বেড়েছে বখাটের উৎপাত। উঠতি বয়সী তরুণরা প্রতিদিন এখানে এসে সকাল থেকে রাত অবধি দিচ্ছে আড্ডা, ঘটছে মারামারি। এদের সাথে মাঝে মাঝে তরুণীও দেখা যায়।এই সংস্কৃতি চর্চার মিলনস্থল চেরাগী পাহাড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ নেতা আসকার বিন তারেক খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নিহতের পিতা এসএম তারেক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে শোভন দেব (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কোতোলী থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, কলেজছাত্র তারেক খুনের ঘটনায় তার পিতা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারেক খুনের ঘটনায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে শোভন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চেরাগী পাহাড় এলাকায় জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাব্বির সাদিকের অনুসারীদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারিতে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আসকার বিন তারেক গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিসক মৃত ঘোষণা করেন। আসকার বিন তারেক জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার ফেসবুক আইডিতেও তা দেওয়া আছে। তারেক বিএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, চেরাগী পাহাড় এলাকায় রয়েছে পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়। পাশাপাশি আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্ট, প্রকাশনা সংস্থা, ছাপাখানা, হকার সমিতির কার্যালয়। চেরাগীর মোড় ঘিরে করে গড়ে উঠেছে ব্যান্ড দল, ব্যাংক-বীমা, অ্যাডফার্ম, স্টেশনারি ও ফুলের দোকান। কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এখানে আসতে হয়। কিন্তু বখাটেদের কারণে তাদের চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। রাস্তার ওপর মোটরসাইকেল রেখে সৃষ্টি করা হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর হামলে পড়ে বখাটে তরুণদের দল। প্রকাশ্যে চলে মাদকসেবনও। সবকিছুই এক কিশোর গ্যাংয়ের লিডারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চেরাগী মোড়ের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, উঠতি বয়সী কতিপয় ছেলে মোটরসাইকেলে এসে দোকানগুলোর সামনে ভিড় করে। তারা উচ্চস্বরে কথা বলে এবং অনেক সময় ‘ফাও’ খেয়ে চলে যায়। খাবারের টাকা চাইলে তাদের হাতে নাজেহাল হতে হয়। ছুরি দেখিয়ে মারার ভয় দেখায়। চেরাগী ক্যান্ডি ও অন্যান্য দোকানে এর আগে ভাংচুরও হয়েছে। অনেক সময় আসা-যাওয়ার পথে নারীদের উত্যক্ত করে এসব বখাটেরা। পুলিশের অভিযানে কয়েক বছর আগে এখানে টং দোকান থেকে দেশিয় অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। মাঝে-মধ্যে টহল পুলিশ অভিযান চালালেও ঘুরেফিরে বখাটেরা আবারও দখলে নেয় চেরাগী পাহাড় এলাকা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ছোট ভাই-বড় ভাইদের দ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন ওই কলেজ ছাত্র। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। যারা আহত হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।



