ইসরায়েলের সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর নতুন পার্লামেন্টের প্রথম দিনেই বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এই রাজনৈতিক জোটে দেশটির আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত রয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই স্পিকার পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বিরোধীরা।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো পক্ষই। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম যৌথভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে। সরকার গঠনে নেসেটে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থনের প্রয়োজন হওয়ায় কোনো দলই সরাসরি সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। ফলে গাদি আইজেনকট কিংবা নেতানিয়াহু—যাঁর পক্ষেই সরকার গঠন সম্ভব হোক না কেন, আরব দলগুলোর সমর্থন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আইজেনকটের জোট আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিলে সহজেই সরকার গঠন করতে পারবে।
জোট সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোর দর কষাকষি ও হিসাব-নিকাশ চলছে। এর মধ্যেই গত শুক্রবার চ্যানেল ১২-এর একটি অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান বিরোধীদের কৌশলের কথা জানান। তিনি বলেন, নেসেট সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর বিরোধী শিবিরের প্রথম কাজই হবে নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। স্পিকার নির্বাচনের পরপরই পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর প্রধান নির্বাচন করা হবে। বিরোধীদের মতে, হেরে যাওয়ার পর নেতানিয়াহু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছেন।
বর্তমান স্পিকার আমির ওহানা ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি নিশ্চিত করেছেন যে ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরাতে বিরোধীদের মধ্যে ইতিমধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। এই পদে কাকে মনোনীত করা হতে পারে সে বিষয়ে সেরি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে নতুন স্পিকার করা হতে পারে। বিরোধী দল ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ, ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু এবং আরব জোট জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম একজোট হলে অতি সহজেই স্পিকার ওহানাকে ভোটের মাধ্যমে পদচ্যুত করতে পারবে।




