দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ হালিশহর থেকে বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
মিথিলা নামের ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জিডি তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণ না দিলে মেয়েকে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মিথিলার পরিবার জানায়, কলেজের ইউনিফর্ম পরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরে পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ৫ লাখ টাকা দাবি করা হলেও কোথায় গিয়ে টাকা দিতে হবে, তা জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানায় পরিবার।
ভুক্তভোগীর ভাই হৃদয় বলেন, মিথিলা নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বন্দর থানায় একটি জিডি করেন। জিডি করার পর তার মোবাইল ফোনে ব্রিলিয়ান্ট অ্যাপস নামে একটি ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসে। ওই কল থেকে জিডি তুলে নিতে বলা হয় এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
হৃদয় বলেন, ‘জিডি করার পরও অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে জিডি তুলে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি আমি নিখোঁজ জিডির তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
মিথিলার বাবা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘কলেজের ইউনিফর্ম পরে মেয়েটা ঘর থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাইনি। অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও তারা কোথায় নিয়ে গিয়ে এসব টাকা দিতে হবে, সেটি জানায়নি।’
নাসির উদ্দীন আরও বলেন, তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। কয়েক দফা ফোন করে মেয়েকে নানাভাবে হয়রানি এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
মিথিলার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে নগরীর দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় থাকেন তিনি। নিখোঁজের ঘটনায় বন্দর থানায় জিডি করার পর পুলিশ মিথিলার সন্ধানে কাজ শুরু করেছে।
নিখোঁজের ঘটনায় করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাশার সাজিদ জানান, ‘সম্ভাব্য সব ক্লু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে ভুক্তভোগীকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে তার পরিবারের কাছে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে করা কলটির ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মিথিলাকে উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের জিডি হওয়ার পরপরই পুলিশ কাজ শুরু করেছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব বিষয় এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।




