*আবাসিক এলাকার সড়কে গেট, জনসাধারণের চলাচল নিয়ে প্রশ্ন
ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক: নগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকার সড়ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সিটি কর্পোরেশনের অর্থে নির্মাণ, সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এ সব সড়কের বেশ কিছু অংশে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক গেট। অভিযোগ রয়েছে, গেটগুলো নির্দিষ্ট সময়ে খোলা এবং আবার নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আবাসিক এলাকার বাইরের সাধারণ মানুষ এ সব সড়ক সবসময় ব্যবহার করতে পারেন না।
নগরবাসীর প্রশ্ন—যে সড়ক নগরের যোগাযোগব্যবস্থার অংশ এবং যার উন্নয়ন ও সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়, সেই সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল কি কোনো আবাসিক এলাকার নিজস্ব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ?
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, নগরের রাস্তা, নালা, খাল, ব্রিজ, কালভার্ট ও ফুটপাতের উন্নয়ন ও সংস্কারের দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সড়কের প্রবেশ পথে গেট বসানো হয়েছে। এসব গেটের কারণে আশপাশের এলাকার বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহন চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নগরের ব্যস্ত সময়ে এ সব আবাসিক সড়ক উন্মুক্ত থাকলে অনেক মানুষ প্রধান সড়ক এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—জনসাধারণের চলাচলের সড়কে গেট স্থাপন ও নির্দিষ্ট সময় পরপর গেট বন্ধ করে রাখার অনুমোদন কে দিয়েছে?
কোনো আবাসিক এলাকার নিজস্ব ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তা হলে বিষয়টি একরকম, কিন্তু রাস্তার মালিকানা যদি সিটি কর্পোরেশন বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সড়ক হয়, তাহলে সেখানে গেট স্থাপন, চলাচল সীমিত করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে রাস্তা বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না—তা যাচাই করা জরুরি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট আবাসিক এলাকার গেট বৈধ না অবৈধ ? এ সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাস্তার মালিকানা, অনুমোদিত নকশা, গেট স্থাপনের অনুমতি এবং রাস্তার ব্যবহার-সংক্রান্ত সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
নগরবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকার এসব সড়ক ও গেট নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে তদন্ত করা হোক। কোন রাস্তা সিটি কর্পোরেশনের, কোনটি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং কোন সড়কে গেট স্থাপনের অনুমোদন রয়েছে—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। যদি জনসাধারণের চলাচলের সড়কে অনুমোদন ছাড়া প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকলে গেট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে একদিকে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে জনসাধারণের চলাচল ও নগরের যানজট নিরসনের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে।
চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি আবাসিক এলাকার সড়কে স্থাপিত গেটের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যেসব সড়ক জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা, সেসব সড়ক যেন কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা আবাসিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যে সব আবাসিক সড়ক বাস্তবে বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব, সে গুলো নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা গেলে নগরের যানজট কমাতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—জনসাধারণের অর্থে নির্মিত ও সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ করা কোনো সড়ক কি একটি আবাসিক এলাকার নিজস্ব সম্পত্তির মতো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? নাকি নগরের সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার স্বার্থে এসব সড়কের ব্যবহার ও গেট স্থাপনের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন?




