নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে উৎপাদিত ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়া মহানগরীর অনেক ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় ও অলিগলির দোকান গুলোতে এবং চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন মফস্বল এলাকাসহ ৩ পার্বত্য জেলায় এসব ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়া দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন এবং দেখার যেন কেউ নেই।
মহানগরীর চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ,আসাদগঞ্জ,কোরবানিগঞ্জ, রাজাখালী,চরচাক্তাই জুড়ে বেশ কয়েকটি ভেজাল মরিচ-মোসল্লা গুড়ার কারখানা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে আরো নিত্য নতুন কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। তাদের উৎপাদিত ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়া মহানগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারের বিভিন্ন অলিগলি, পাহাড়তলী-সিডিএ মার্কেট এলাকা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, সাবানঘাটা, ঘাসিয়াপাড়া, চকবাজার,পশ্চিম মাদারবাড়ি,পূর্ব মাদারবাড়ি,আলকরণ,পাঠানটুলি কাপুরিয়াপাড়া,বাকলিয়া,ডিসি রোড,খলিফাপট্টি, বউবাজার পাথরঘাটাসহ নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অলিগলির দোকান গুলোতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও পুরো চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা সমুহের বিভিন্ন মফস্বল এলাকা এবং রাঙ্গামাটি,বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়ও অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক এসব ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়া সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়ায় নষ্ট মরিচের সাথে গুইট্যা মরিচ,কেমিক্যাল ও কাপড়ের লাল রং মিশিয়ে গুড়া মরিচ তৈরি হয়। মোসল্লার গুড়ার নামে পচা ধইন্যা,ধানের তুস,এক প্রকারের শুকনো পাতা, কেমিক্যাল ও কাপড়ের রং মিশিয়ে মোসল্লার গুড়া তৈরি হয়।হলুদের গুড়ার ক্ষেত্রে সামান্য নষ্ট হলুদ,পঁচা ডাল,কাপড়ের হলুদ রং মিশিয়ে হলুদের গুড়ি তৈরি হয়।
এভাবে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ যাদের বিভিন্ন ব্রান্ডের প্যাকেটজাত মোসল্লা কেনার সক্ষমতা নেই তারাই প্রতিনিয়ত টকছে,প্রতারিত হচ্ছে ও মরিচ-মোসল্লার গুড়ার নামে রোজ এসব বিষ খাচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানেও থামছে না মরিচ-মোসল্লার নামে ভেজালের কারবার। এসব ভেজাল ও অপরাধমুলক কর্মকান্ড বন্ধ না হওয়ার কারণ হচ্ছে, নগর গোয়েন্দা বিভাগের নামে জনৈক এ.এস.আই ঢাকায় বসে সিভিল লোক দিয়ে সিএমপি’র উত্তর ও দক্ষিণ জোনে বিভিন্ন ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়ার মিল থেকে সিভিল লোক নিয়োগ করে নিয়মিত ৫/৭ হাজার টাকা করে মাসোহারা আদায় করছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও তিনি উত্তর ও দক্ষিণ জোনে চোরাকারবারী,পাইকারি হারে বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসা,চোরাকারবারী, চোরাকারবারীদের অবৈধ মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী,গার্মেন্টসের অবৈধ তৈরি পোষাক ও কাপড় ব্যবসায়ী,হুন্ডি ব্যবসায়ী,অবৈধ পাইকার পলিথিন ব্যবসায়ী ও পলিথিনের দানা ব্যবসায়ী,ভেজাল মরিচ- মোসল্লা গুড়া ব্যবসায়ী,চট্টগ্রামের বৈধ অবৈধ মদের বার,সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত লিকার শপ,অবৈধ বিদেশী মদ বিক্রেতাসহ বিভিন্ন খাত ঘিরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিভিল লোক রেখে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়াসহ নানা অভিযোগে তাকে সিএমপি থেকে ঢাকায় বদলী করা হয়। এখনো তিনি ঢাকা থেকে সিএমপি’তে বদলী হয়ে আসার জন্যে মরিয়া হয়ে জোড় তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তার হাতে রয়েছে টেলিটক সিমসহ গ্রাম থেকে সহজ-সরল মানুষের নামে নিবন্ধিত বিভিন্ন কোম্পানীর বেশ কয়েকটি মোবাইল সিম। ঐ সিমের মাধ্যমে তিনি তার নিয়োজিত লোক ও অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন।তিনি কখনো কখনো পুলিশের বড় কর্তা সেজেও এসব অপরাধীদের ফোনে ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে তার নিয়োজিত সিভিল লোকের মাধ্যমে টাকা আদায় করেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা-ফাড়ির ক্যাশিয়ার পরিচয়েও কিছু চাঁদাবাজও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
চাক্তাই ময়দার মিল ও ফায়ার ব্রিগেটের সন্নিকটে মোস্তাক,হারুণ,রশীদ ও রনি বাবুর মোট ৪টি মিল।চাক্তাই মিয়াখান সওদাগরের পোলের কাছে বাচ্চুর ১টি মিল, খাতুনগঞ্জ পোড়াভিটা এলাকায় হারুন ও নুরুল আলম সওদাগরের ছেলের ২টি মিল,খাতুনগঞ্জ ইসলাম কলোনীতে সোর্স আব্দুল হাই এর মিল,চাক্তাই লামার বাজার এলাকায় আরিফের মিলসহ আরো অনেক মিল আছে।
চাক্তাই,খাতুনগঞ্জ,আসাদগঞ্জ,কোরবানিগঞ্জ, রাজাখালী,চরচাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ এলাকা ঘিরে এরকম ২০/২৫টিরও অধিক ভেজাল মরিচ-মোসল্লার গুড়া উৎপাদনের মিল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপনে তারা তাদের এ ভেজাল ব্যবসা চালিয়ে আসছে। গত ২০ জানুয়ারী কোতোয়ালি থানার খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল হলুদ-মরিচ- মসলার গুঁড়া ও ধানের কুঁড়াসহ ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
ভেজাল হলুদ-মরিচ-ধনিয়ার গুঁড়া তৈরির উপকরণ হিসেবে লাল রঙের কেমিক্যাল ৮৫০ গ্রাম, হলুদ রঙের কেমিক্যাল ৩৫০ গ্রাম, খয়েরি রঙের কেমিক্যাল ২০ গ্রাম ও ৮০০ গ্রাম কয়লা উদ্ধার করা হয়। কারখানাটি থেকে ৭টি প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা ৩৩৩ কেজি ভেজাল হলুদের গুঁড়া, ৪টি প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা ১৫৭ কেজি ভেজাল মরিচের গুঁড়া, ২টি প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা ৮০ কেজি ভেজাল ধনিয়ার গুঁড়া উদ্ধার করা হয় । যা বিক্রির জন্য কারখানায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল।



