সোমবার দুপুরে হাবিব নগর চা-বাগানের ম্যানেজার হুমায়ূন কবীর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এমন বৈরী আবহাওয়ার সম্মুখীন হইনি কোনো দিন’। বাগান সংশ্লিষ্টরা বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থিত ঘূর্ণিঝড় ‘অশিন’ এর গতির ওপর লক্ষ রাখছেন। তারা বলেন, এটি আঘাত করার পর যদি বৃষ্টি নামে। এদিকে বৃষ্টির অভাবে সিলেটের প্রধান ফসল বোরো উৎপাদন নিয়েও চাষিরা শঙ্কিত। বৃষ্টির জন্য রবিবার সিলেটের বৃহৎ হাওর ‘হাকালুকি হাওর’ পাড়ে—বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে দেশে চা উৎপাদনে, রেকর্ড ভঙ্গ করে গত বছর ১০০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়। এবার সেই রেকর্ড অতিক্রম করে আরেকটি রেকর্ড করার ইচ্ছা ছিল বাগানসংশ্লিষ্টদের। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এই সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে বাগানগুলো খরার পতিত হতে পারে, এমন মন্তব্য চা-বাগান শ্রমিকদের।
নর্থ-সিলেট ভ্যালি টি অ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান নোমান হায়দার চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, যেখানে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কেজি চা-পাতা তোলা হতো সেখানে ৩০০ কেজি চা-পাতা তোলা হচ্ছে। আবহাওয়া উষ্ণ থাকায় ‘রেড স্পাইডারের’ আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। নর্থ সিলেট ভ্যালির ২০টি চা-বাগানসহ মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জসহ সব কটি বাগান বৃষ্টির অপেক্ষায়। তিনি বলেন, দেশের চা-বাগানের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সরকারকে আরো ভাবতে হবে। উল্লেখ্য, গত বছর সিলেটের খান বাগানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার কেজি। কিন্তু তা অতিক্রম করে চা উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৩৮ হাজার কেজির বেশি। এবার এই বাগানে ৫ লাখ ৬০ হাজার কেজি উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সুত্র: ইত্তেফাক।



