বিজন কুমার বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এক কেজি লবণের উৎপাদন খরচ ৮ টাকা ৭৫ পয়সা। চাষি বিক্রি করছেন ৬ টাকায়। মধ্যস্বত্বভোগীর কাছ থেকে মিলমালিকরা কিনছেন ৮ আট ৫০ পয়সায়। প্রক্রিয়ার পর উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ২৪-২৫ টাকা। প্রতি কেজি লবণ খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অথচ গত বছর চাষি লবণ বেচেছেন ১০ টাকা প্রতি কেজি। এ বছর দাম কমার পেছনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রতিবছর ডিসেম্বরে শুরু হয় লবণ আহরণ। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তা চলে এপ্রিল পর্যন্ত। এবার মৌসুমের শুরু থেকে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে লবণ চাষিদের।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের পরিদর্শক ইদ্রিস আলী জানান, দেশে পরিশোধিত লবণের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টন। এ বছর অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬ লাখ ১০ হাজার টন।

এদিকে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হলেও মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় লবণ। গত বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়। অথচ গত বছর উৎপাদিত চার লাখ টন লবণ গুদামজাত করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে চাহিদার অর্ধেক লবণ গৃহস্থালি ও খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। অবশিষ্ট লবণ চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল, কাগজ, সাবান, ডিটারজেন্ট ও রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কাজে লাগে।দেশের দুই জেলায় লবণ উৎপাদন হয়। কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, সদর, ঈদগাঁও ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। এ দুই জেলায় অন্তত ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রায় ৬৫ হাজার চাষি এর সঙ্গে জড়িত।

চাষি, ব্যবসায়ী ও বিসিক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে মাঠ পর্যায়ে লবণ সংগ্রহ করে বিভিন্ন মিলকারখানা মালিকের কাছে বেচে মধ্যস্বত্বভোগীরা। মিল মালিকদের প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন এলাকা থেকে লবণ সংগ্রহ করে। মূলত এই মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম বাড়ায়-কমায়। আবার তাদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে লবণ বাজারজাতকারী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বড় মাপের মিল মালিকরা। দুই পক্ষের মর্জির ওপর নির্ভর করে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কত পড়বে। তাদের কবলে পড়ে ক্ষতির শিকার হন চাষিরা।

চকরিয়ার রামপুরের চাষি মৌলভি মো. সেলিম জানান, আগে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি এবার গত বছরের চেয়ে বড় পরিসরে লবণ চাষ করেন। কিন্তু বেচতে গিয়ে রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে এবার লবণের দরপতন ঘটিয়েছেন। তারা আমাদের পেটে লাথি দিয়ে পকেট ভারি করছেন। তাই কিছু লবণ আহরণের পর বন্ধ করে দিয়েছি। লাভ না হোক, এত লোকসান দিলে কীভাবে চলবে? আমার মতো অন্য চাষিরা লবণ আহরণ কমিয়ে দিয়েছেন। ঋণ পরিশোধে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ আহরণ করছেন।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঈদমনি গ্রামে লবণ চাষি মো. আলমগীর হোসেন, আবদুল কাদের, হেফাজ উদ্দিন ও আবদুর রহিম জানান, তারা গরু বিক্রি করে সাড়ে পাঁচ একর জমি বর্গা নিয়ে লবণ চাষ করেন। গত শুক্রবার তারা প্রায় ১৭৪ মণ লবণ বিক্রি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, এর অর্ধেক পাবেন জমি মালিক। বাকি অর্ধেক পাবেন চার চাষি। এবার তারা প্রতি মণ লবণ বিক্রী করেন ২৪০ টাকা। অথচ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে কমবেশি ৩০০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি মণ লবণে চাষিদের গচ্চা দিতে হচ্ছে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এ প্রতিবেদকের কাছে লবণ চাষে লাভ-লোকসানের চিত্র তুলে ধরেন চকরিয়ার লবণ চাষি মো. আলমগীর হোসেন। তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখে পানি টলমল করছিল।

বিজন কুমার বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এক কেজি লবণের উৎপাদন খরচ ৮ টাকা ৭৫ পয়সা। চাষি বিক্রি করছেন ৬ টাকায়। মধ্যস্বত্বভোগীর কাছ থেকে মিলমালিকরা কিনছেন ৮ আট ৫০ পয়সায়। প্রক্রিয়ার পর উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ২৪-২৫ টাকা। প্রতি কেজি লবণ খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অথচ গত বছর চাষি লবণ বেচেছেন ১০ টাকা প্রতি কেজি। এ বছর দাম কমার পেছনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রতিবছর ডিসেম্বরে শুরু হয় লবণ আহরণ। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তা চলে এপ্রিল পর্যন্ত। এবার মৌসুমের শুরু থেকে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে লবণ চাষিদের।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের পরিদর্শক ইদ্রিস আলী জানান, দেশে পরিশোধিত লবণের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টন। এ বছর অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৬ লাখ ১০ হাজার টন।

এদিকে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হলেও মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় লবণ। গত বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়। অথচ গত বছর উৎপাদিত চার লাখ টন লবণ গুদামজাত করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে চাহিদার অর্ধেক লবণ গৃহস্থালি ও খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। অবশিষ্ট লবণ চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল, কাগজ, সাবান, ডিটারজেন্ট ও রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কাজে লাগে।দেশের দুই জেলায় লবণ উৎপাদন হয়। কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, সদর, ঈদগাঁও ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। এ দুই জেলায় অন্তত ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রায় ৬৫ হাজার চাষি এর সঙ্গে জড়িত।

চাষি, ব্যবসায়ী ও বিসিক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে মাঠ পর্যায়ে লবণ সংগ্রহ করে বিভিন্ন মিলকারখানা মালিকের কাছে বেচে মধ্যস্বত্বভোগীরা। মিল মালিকদের প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন এলাকা থেকে লবণ সংগ্রহ করে। মূলত এই মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম বাড়ায়-কমায়। আবার তাদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে লবণ বাজারজাতকারী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বড় মাপের মিল মালিকরা। দুই পক্ষের মর্জির ওপর নির্ভর করে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কত পড়বে। তাদের কবলে পড়ে ক্ষতির শিকার হন চাষিরা।

চকরিয়ার রামপুরের চাষি মৌলভি মো. সেলিম জানান, আগে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি এবার গত বছরের চেয়ে বড় পরিসরে লবণ চাষ করেন। কিন্তু বেচতে গিয়ে রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে এবার লবণের দরপতন ঘটিয়েছেন। তারা আমাদের পেটে লাথি দিয়ে পকেট ভারি করছেন। তাই কিছু লবণ আহরণের পর বন্ধ করে দিয়েছি। লাভ না হোক, এত লোকসান দিলে কীভাবে চলবে? আমার মতো অন্য চাষিরা লবণ আহরণ কমিয়ে দিয়েছেন। ঋণ পরিশোধে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ আহরণ করছেন।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঈদমনি গ্রামে লবণ চাষি মো. আলমগীর হোসেন, আবদুল কাদের, হেফাজ উদ্দিন ও আবদুর রহিম জানান, তারা গরু বিক্রি করে সাড়ে পাঁচ একর জমি বর্গা নিয়ে লবণ চাষ করেন। গত শুক্রবার তারা প্রায় ১৭৪ মণ লবণ বিক্রি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, এর অর্ধেক পাবেন জমি মালিক। বাকি অর্ধেক পাবেন চার চাষি। এবার তারা প্রতি মণ লবণ বিক্রী করেন ২৪০ টাকা। অথচ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে কমবেশি ৩০০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি মণ লবণে চাষিদের গচ্চা দিতে হচ্ছে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এ প্রতিবেদকের কাছে লবণ চাষে লাভ-লোকসানের চিত্র তুলে ধরেন চকরিয়ার লবণ চাষি মো. আলমগীর হোসেন। তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখে পানি টলমল করছিল।