সাতকানিয়া প্রতিনিধি: সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকা থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে মো. মিনহাজ উদ্দীন (১৬) নামে এক কিশোরকে অপহরণের ৩০দিন অতিবাহিত হলেও এখনও উদ্ধার করা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই কিশোরের মা।
পুলিশের নিকট অভিযোগ দেওয়ার ৮দিন অতিবাহিত ও ৩ দফায় ৩২হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও নিজ সন্তানকে উদ্ধার করতে কোন ভরসা না পাওয়ায় তার মা খুরশিদা বেগম বাদী হয়ে গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবার টাকার বদলে মিনহাজকে পাইকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীর নিকট জিম্মি রেখে চলে এসেছে অন্য ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। সাতকানিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছিটুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাতকানিয়া থানায় ২০ ফেব্রুয়ারি মিনহাজ উদ্দীনের মা খুরশিদা বেগম বাদী হয়ে দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিগত ৩মাস আগে চট্টগ্রাম নগরীর টেরিবাজার থেকে চাকরি ছেড়ে সাতকানিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছিটুয়াপাড়া এলাকার মৃত সামশুল আলমের ছেলে মিনহাজ উদ্দীন নিজ বাড়ি চলে আসে। বেকার মিনহাজ একটি চাকরির জন্য একই ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী রোজমর পাড়ার বদিউল আলম প্রকাশ বদির ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫) কে বলেন।
২৮ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার চাকরি দেওয়ার কথা বলে মিনহাজকে তার ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘর থেকে যাওয়ার পর মিনহাজকে প্রায় সময় তার মা ও বোন ফোন করলে সে বলে, আনোয়ারের সাথে সে চাকরি করছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে মিনহাজ তার বোন ফরিদা জেসমিনের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলে, আনোয়ার তাকে কক্সবাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নিকট রেখে চলে গিয়েছে। এরপর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মিনহাজকে আটক করে ৩লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে বলে তার বোনকে মোবাইল ফোনে জানায়।
এ ব্যাপারে মিনহাজ উদ্দীনের বড় বোন ফরিদা জেসমিন এ প্রতিবেদককে জানান, টাকা দিলে আমার ভাইকে ছেড়ে দিবে, এ বিষয়টি জানতে পেরে আমি ও আমার মা আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে মিনহাজ কোথায় জিজ্ঞাসা করলে পরিবারের কেউ কোন সদোত্তর দিতে পারেনি। এক পর্যায়ে আনোয়ার ও তার স্ত্রী মিনহাজকে এনে দিবে বলে জানায়। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি তারা পালিয়ে গেছে। ফরিদা জেসমিন আরো জানান, চাকরি থেকে বাড়ি আসার পর আমার ভাই মিনহাজ আনোয়ারের সাথে চলাফেরা করত। আনোয়ারের সাথে চাকরিতে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে চলে যাওয়ার পর ভাইকে ফোন করলে সে কোথায় আছে, সে জায়গার নাম বলত না। কারণ আনোয়ার তাকে ওয়াদা করিয়েছে কাউকে না বলতে। পরে আনোয়ারের বাড়ি গিয়ে তাকে পায়নি। সে সময় তার স্ত্রী আমাকে বলে, থানা থেকে অভিযোগ তুলে নিলে, মিনহাজকে এনে দিবে।
ফরিদা জেসমিন আরো জানান, আমার ভাইয়ের মোবাইল থেকে খোরশেদ নামে এক ব্যক্তি আমাকে মোবাইলে ফোন করে ৩লাখ ২৫হাজার টাকা দাবী করে। পরে অনেক অনুরোধ করলে ১লাখ টাকায় রাজি হয়। পরে ১টি বিকাশ নাম্বারে (নং-০১৮১৮-২৮১৩৩৬) তিন দফায় ৩২ হাজার টাকা দিয়েছি। আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে আরো ১হাজার টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। বাকী টাকাগুলো দিতে না পারায় আমার ভাইকে এখনও ছেড়ে দেয়নি। এ ঘটনায় আমার মা বাদী হয়ে আজ
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আদালতে আনোয়ার ও তার স্ত্রীকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে বিকাশ নাম্বারে টাকা নেয়া খোরশেদ ও এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আনোয়ারের ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে বার বার কল দিলেও মোবাইলগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাতকানিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছিটুয়া পাড়া ও রোজমর পাড়ায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে এ প্রতিবেদককে একাধিক ব্যক্তি জানান, মূলত আনোয়ার যে পাইকার থেকে ইয়াবা ক্রয় করে সেখানে টাকা দিতে না পেরে কিশোর মিনহাজকে আনোয়ার ইয়াবা ব্যবসায়ী নিকট জিম্মি রেখে চলে এসেছে। মূলত ওই পাইকারীকে ইয়াবা কিনে টাকা না দেয়ায় মিনহাজকে এখনও ছেড়ে দেয়নি।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মিনহাজসহ ৩জন মিলে টেকনাফ যায়। সেখানে মিনহাজকে রেখে অন্যরা চলে আসে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে শুনা যায়, ইয়াবার টাকার জিম্মি হিসেবে মিনহাজকে রেখে আসা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমি এর আদালতে দায়েরকৃত এ মামলার আইনজীবী এডভোকেট মো.শাহেদুল ইসলাম সত্য বাণীকে বলেন,সাতকানিয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড এলাকার মিনহাজ উদ্দিন নামে এক কিশোর অপহরণের দায়ে তার মা খুরশীদা বেগম বাদী হয়ে আজ সোমবার সকালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় রোজমরপাড়ার বদিউল আলম প্রকাশ বদির ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী হাবিবা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দায়িত্ব দিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক নাজমুল হক বলেন, মিনহাজসহ ২জন মিলে ইয়াবা আনতে যায়। একজন ইয়াবা নিয়ে চলে এসেছে, আর অন্যজন টাকার জন্য মিনহাজকে পাইকারীর নিকট জিম্মি রেখে চলে আসে। টাকা নিয়ে না যাওয়ায় মিনহাজকে ওই ইয়াবাচক্র এখনও ছাড়েনি।
এ প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হক আরো বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে যেতে পারে না। মামলা করলে অভিযান করা যেত। তবুও তাদের মোবাইল কল লিস্ট এনে দিয়েছিলাম। পরে তারা যোগাযোগ করেনি।



