রাঙামাটি প্রতিনিধি: একজন মুমুর্ষ রোগী যখন রক্তের জন্য বিছানায় মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে, তখন উম্মেষের সদস্যরা সে রোগীকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যায়। এ ধরণের শত শত উদাহরণ তৈরি হয়েছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু যুব পুরস্কারে ভুষিত হয়েছে উন্মেষ। এ অর্জন সংগঠনটির একার নয়, পুরো পার্বত্যবাসীর। পাহাড়ের সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উন্মেষ’ এর এক দশক পূর্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বক্তারা।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটি শহরের মোনঘর শিশু সদনের মাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করে সেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটি। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।
বক্তারা বলেন, মানবতার পাশে থাকে উন্মেষ। উন্মেষ না থাকলে যেন মানবতা হারিয়ে যাবে। তাই উন্মেষ যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য সবাইকে উন্মেষের পাশে থাকতে হবে।
নিখিল কুমার চাকমা বলেন, ‘উন্মেষ মানবতার কল্যাণে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা সবার পক্ষে সম্ভব নয়’। পুরো পরিবার সব সময় উন্মেষের সাথে থাকবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন তিনি।
উন্মেষের সভাপতি বিটন চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রন জ্যোতি চাকমা, মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝিমিত চাকমা।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, মোনঘর শিশু সদনের নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার চাকমা, পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা, মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশির চাকমা, উন্নয়ন কর্মী টুকু তালুকদার, ডাক্তার পরশ খীসা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গৌরিকা চাকমা, উন্মেষ’র উপদেষ্টা স্নেহাশীষ চাকমা. উন্মেষ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পরম চাকমা।
২০১২ সালে কয়েকজন ছাত্র মিলে প্রতিষ্ঠা করেন উন্মেষ। শুরুতে রক্ত গ্রুপ নির্ণয়, মানুষকে রক্তদানসহ মানবিক কাজ করে। ধীরে ধীরে এ মানবকি কাজ পার্বত্যঅঞ্চল ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উম্মেষের তথ্যমতে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার মানুষের রক্ত গ্রুপ নির্নয় করেছে উন্মেষ।



