নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরীর আলোচিত সিআরবি’র জোড়া খুন মামলায় ৬৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জসিম উদ্দিন বিচার শুরুর এই আদেশ দিয়েছেন।
এই ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের মহানগর কৌঁসুলি (পিপি ) এড. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই মামলার চার্জ গঠনের জন্য আজকে তারিখ ধার্য ছিল। সে হিসেবে চার্জ গঠন হয়েছে। আগামী ৩ মে থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।
শুনানির সময় কাঠগড়ায় মামলার অভিযুক্ত আসামি যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপুসহ এজহারভুক্ত ৫২ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এ ঘটনায় ৬২ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। সে সময় আসামি পক্ষের নারাজী আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দেয়। ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই এই মামলায় নতুন করে দুজনকে যুক্ত করে ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মহানগর হাকিম আদালতে সম্পূরক চার্জশির্ট দাখিল করে।
সম্পূরক চার্জশিটে অভিযুক্ত ৬৪ আসামি হলেন, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও তার গ্রুপের যুবলীগ নেতা রিটু দাশ, প্রেমাশীষ মুৎসুদ্দী, অজিত বোস, মোহন তাঁতী, খোকন চন্দ্র তাঁতী, অমিত মুহুরী, অজিত দাশ, চান মিয়া, রাজু, রাকেশ, সুমন, টিটু দাশ, লাবলু ঘোষ, টিপু, আসলাম, ছোটন বড়ূয়া, সুমন চৌধুরী, শিবু দাশ চৌধুরী, শিমুল প্রসাদ পিন্টু, ফারুক, জসিম, মনির মিয়া, আনু মিয়া, ইউসুফ, জাহিদ, জহির, ফরিদ ও মনির।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন ও তার গ্রুপের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু, ছাত্রলীগ নেতা অমিত চক্রবর্তী শশি, মোহাম্মদ টিপু, ওসমান গণি দুলু, মনোয়ারুল আলম চৌধুরী, জাহেদ, আমিন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শরীফ আহমেদ, আমির হোসেন আমু, রায়হান আহমদ, কামরুল হাসান, নজরুল ইসলাম, রানা আহমেদ, মনিরুজ্জামান দিনার, হাসমত আলী রাসেল, সুজয়মান বড়ুয়া, জমির উদ্দিন, আবু জাফর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, রাজু মুন্সী, ফয়সাল আহমেদ, মিজানুর রহমান, জাফর, পিয়াল আইচ, তারেকুর রহমান, ইলিয়াছ, জাবেদ হোসেন, রুবেল চন্দ্র দাশ, নাজমুল হাসান, আশরাফুল হোসেন, মিলন, আশরাফুল আলম, রবিউল ইসলাম জিলানী, কিয়াস কুমার দাশ ও বিশ্বজিত দাশ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবি সাত রাস্তার মোড় (রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর) এলাকায় রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের কোটি টাকার দরপত্রের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীদের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঐ গোলাগুলি ও সংঘর্ষে সাজু পালিত (২৮) নামে এক যুবলীগ কর্মী ও মোহাম্মদ আরমান (৮) এক নিরীহ শিশু নিহত হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার এসআই মহিবুর রহমান বাদি হয়ে হয়ে বাবর-লিমনসহ ৮৭ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।



