রাঙ্গামাটি প্রতিনাধি: অতি বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির পর এবার রাঙ্গামাটিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি রাঙ্গামাটির মানিকছড়ি সাপছড়ি, কুতুকছড়ি ও কাউখালীর আশেপাশে ইউনিয়নগুলোর নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়ি এলাকার বেইলি ব্রীজসহ কিছু সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কের চলাচলের সাধারণ যাত্রী ও এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
আর কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) সকালে রাঙ্গামাটির ২১টি স্থানে ছোট বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম, ঘাগড়া-বড়ইছড়ি-বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ২১টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কেঙ্গেলছড়ি এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে গত কয়েক দিনের থেমে থেমে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কাউখালী উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে কাউখালী উপজেলা সদরে অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হ্যাপী দাস জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের থেমে থেমে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কাউখালী উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে কয়েকটি এলাকা বন্যায় পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রে তারা অবস্থান করছেন। এছাড়া নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রাঙ্গামাটির মানিকছড়ি সাপছড়ির নিম্মাঞ্চল এলাকা। এতে করে অনেক এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকায় পানিবন্দিরা মারাত্মক দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে।




