খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সদরসহ জেলার মাটিরাংগা, দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়িতে টানা ভারী বর্ষণে নির্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অন্তত: চারশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রায় তিনদিন ধরে এ বর্ষণে পাহাড়ী ঢলে চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানিবন্দী হয়ে ভীষণ কষ্টে রয়েছেন শতাধিক পরিবার। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৪দিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়িতে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকশত পরিবার। গেল ২৪ঘণ্টা জেলায় ৬৫মিলি লিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার(২০ আগস্ট) সকাল থেকে চেঙ্গী নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। গোলাবড়ি, রাজ্যমনি পাড়া, বটতলী, দক্ষিন গোলাবাড়ি, মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, কালাডেবা, গঞ্জপাড়া, ঠাকুরছড়াসহ চেঙ্গী, ফেনী ও মাইনি নদীর পাড়ের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, কালাডেবা, রুইখই চৌধুরীপাড়া, মেহেদীবাগ, শান্তি নগর, গঞ্জপাড়া, শব্দমিয়া পাড়া, কমলছড়ি ও মাটিরাঙার তাইন্দং-এর নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী কয়েকশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
লতিবান ইউপি’র কুড়াদিয়াছড়ায় পানছড়ি মডেল টেকনিক্যাল স্কুল হএন্ড কলেজ ভবনে বন্যা পানি ঢুকে পড়লে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রচুর বই বিজে যায়। মহালছড়ি সরকারি কলেজ সংলগ্ন পানি ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসের ব্যবধানে তিনবার পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শহরতলী ও পৌর এলাকার নদী ও ছড়ার পাড়ের হাজার হাজার মানুষ।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী তাইন্দং এ আকস্মিক বন্যায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় দীঘিনালার মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালীর নদী পাড়ের কৃষি জমিতে পানি উঠতে শুরু করেছে। চেঙ্গী, মাইনি, নদী ও ছড়ার পাড়ে বসবাসকারী লোকজন আতঙ্কে দিন পাড় করছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। অনেক জায়গায় আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় লোকজনকে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম পারভীন খন্দকার জানিয়েছেন, পানিবন্দী লোকদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দে আনার এবং পাহার ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। সকালে জেলা সদরের শালবনে পাহাড় ধসে সড়কের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে। এতে বৈদ্যুতিক তারের উপর গাছ পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাহাড় ধসসহ যেকোন ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুুতির কথা বলছে, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক বিভাগ।
মাটিরাঙ্গার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত:
টানা বর্ষণে ফের প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। প্লাবিত হয়েছে মাটিরাঙ্গার তাইন্দংয়ের বাজারপাড়া, ডিপিপাড়ায় ও বাজারপাড়া। এতে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন অধিবাসীরা। এ নিয়ে গেল দুই মাসের ব্যবধানে তিনবার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শহরতলী ও পৌর এলাকার নদী ও ছড়ার পাড়ে বসবাসকারী লোকজন। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় দীঘিনালার মেরুং ও কবাখালীর নদী পাড়ের কৃষি জমিতে পানি ওঠতে শুরু করেছে। চেঙ্গী-মাইনী নদী ও ছড়ার পাড়ে বসবাসকারী লোকজন আতঙ্কে দিন পাড় করছেন। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এছাড়া খাগড়াছড়ির সদরের পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে মাটিরাঙ্গার তাইন্দং ও তবলছড়ির নিম্নাঞ্চল। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন তাইন্দংয়ের মাঝপাড়া, বাজার পাড়া ও আচালং ডিপি পাড়ার অধিবাসীরা। ফেনী নদী ও ছড়ার পাড়ে বসবাসকারী লোকজন আতঙ্কে দিন পাড় করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: আমির হোসেন বলেন, টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ফেনী নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে তাইন্দংয়ের তিন গ্রাম।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মো: ইশতিয়াক আহম্মেদ জানিয়েছেন, পানিবন্দি লোকদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে টানা ৪দিনের বর্ষণে ১৬দিনের ব্যবধানে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ৪র্থবার খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এতে শতশত পরিবার আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে। দীঘিনালা-লংগদু মূল সড়ক প্লাবিত হয়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে মেরুং ইউনিয়ন এর ছোবাহানপুর, চিটাগাংপাড়া, ১নং কলোনি, ৩নং কলোনি এলাকায় নিম্নাঞ্চল পানি ডুকে পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। দীঘিনালা সাজেক মূল সড়কে কবাখালী এলাকায় পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সাজেকের সাথে দীঘিনালা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র শত শত পরিবার আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও হাজার হাজার পরিবার পানি বন্দি অবস্থা রয়েছে।
দীঘিনালা-সাজেক মুলসড়কে কবাখালী এলাকার পাঁকা রাস্তায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার, কবাখালী, বোয়ালখালী ও মেরুং ও বাবুছড়া ইউনিয়নের ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলো ভারি বর্ষণে প্লাবিতসহ বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাড়তে পারে জন দুর্ভোগ। ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথকে ঘোষনা করা হয়েছে। টানা প্রবল বর্ষণে উপজেলার ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন কতৃক খোলা হয়েছে জরুরি সেবাকেন্দ্র ও মেরুং, কবাখালি, বোয়ালখালী, বাবুছড়া সহ চারটি ইউপিতে খোলা হয়েছে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র। এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ন এলাকার মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্র চলে আসছে।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান চাকমা বলেন কবাখালী ইউনিয়ন ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র বন্যায় কবলিত এলাকার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র পরিবার গুলোর মাঝে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে ১৬দিন ব্যবধানে ৪র্থ বারের মত উপজেলার বন্যায় দেখা দিয়েছে। উপজেলা ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য পাঁচিটি ইউপিতে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।




