কোটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের ন্যায় ব্যক্তিগতভাবে আমারও নৈতিক সমর্থন ছিল এবং আজও আছে। কোটা বিষয়ে একটা যৌক্তিক সমাধান হয়েছে সেজন্য আমি অনেক খুশি। কিন্তু সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝি অথবা তৃতীয় পক্ষের নেগেটিভ কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছে বা ঘটছে।
আমরা সকল শহীদদের ও আন্দোলনকারীদের বীর হিসেবে আখ্যায়িত করতে চাই।তাদের জন্য আমরা গর্বিত। কিন্তু তারা যেন কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে নিজেদের সন্মান ও গৌরব নষ্ট না করেন সেদিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা আশাবাদী সমাধানের সহজ পথ এখনো রয়েছে। উভয়পক্ষকে আলোচনায় বসবার উদাত্ত আহ্বান করছি। মনে রাখতে হবে আমরা সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছি। এটা নষ্ট হলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তাহলে কোটা নিয়ে যে আন্দোলন করা হল সেটার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
তোমরা সরকারের পদত্যাগ দাবী করছো। সেটা হলে কারা উপকারভোগী হবে। সেই উপকারভোগীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ, চরিত্র, নৈতিকতা সব কিছু বিচার বিশ্লেষণের ও সময় এসেছে তোমাদের। ৭১ এ ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৬০ হাজার মা বোনদের সম্ভ্রমহানীর ঘটনা আজও আমাদের পীড়া দেয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের মুল্যবোধ উপেক্ষা করে কাউকে কি তোমরা ক্ষমতায় দেখতে চাও?
ছাত্র আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোন বিশেষ দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়া নয়। এ বিষয়ে তোমরা বারবার দীপ্ত কন্ঠে দেশবাসীকে স্পষ্টভাবে পরিষ্কার করেছো। তাহলে চলমান আন্দোলন কোন দিকে এগুচ্ছে কারা সুবিধা ভোগ করতে পারে। এসব গতি প্রকৃতির উপর তোমাদের খেয়াল রাখতে হবে। না হলে তোমাদের আন্দোলনের কারণে দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অথবা বিগত দিনের কোন অকল্যাণকর সরকার আবারও ক্ষমতায় আসলে যদি দেশের সমৃদ্ধি মুখ থুবড়ে পড়ে তবে তোমরা বীরের মর্যাদা কিন্তু হারিয়ে ফেলবে। তোমাদের অর্জনগুলো ম্লান হবে। আজ সময় এসেছে সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার।
দেশবাসী তোমাদের আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে চাই। তোমাদের অর্জনগুলোকে চির অম্লান করে বুকে ধরে রাখতে চাই। সেই শ্রদ্ধা, সন্মান ও গৌরবের জায়গা তোমাদেরই ধরে রাখতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তোমাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে কেউ যেন হালুয়া রুটির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে উল্লাসে মেতে না উঠে সেই আস্থার জায়গা তোমাদেরই তৈরি করতে হবে।
সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান,আপনারাও সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করুন। আলোচনার পথ বন্ধ করবেন না। দেশের স্বার্থে অশুভ গোষ্ঠী বা শক্তির যেন উত্থান না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন। যত দ্রুত সম্ভব আন্দোলনকারীদের নিয়ে আলোচনায় বসুন। সমস্যা এত বেশি জটিল নয়। বরং সহজ পথগুলোকে জটিল করা হয়েছে। কিছু ক্রটি বিচ্যুতি ভুল বুঝাবুঝি ছিল। এখন আর সেগুলো ভেবে লাভ নেই।তারা আমাদেরই সন্তান। আলোচনায় বসলে তারা আমাদের নিশ্চয়ই উপেক্ষা করতে পারবে না।
সরকারের কেউ যদি দোষী হয়, কোন বাহিনীর কেউ যদি অতি উৎসাহী হয়ে অঘটন ঘটান তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনলে দেশ রসাতলে যাবে না। পাশাপাশি যারা নাশকতা করেছে অথবা ছদ্মবেশে হত্যা করেছে সঠিক নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের ও বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ছাত্রদের গণভবনের দরজা খোলা আছে জানিয়েছেন।
অতএব আলোচনায় বসুন দেশের স্বার্থে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চির অম্লান রাখবার স্বার্থে।জনগণ সেটাই চাই। আপনাদের সে পথে আসবার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।




