*প্রকৃত দলিলকে জাল উল্লেখ করে ফাঁসাতে চেয়েছিল নুর মোহাম্মদ

আহমদ কবির: নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় প্রবাসী জহুরুল আলম সিআইডির তদন্তে নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১বছর ৪মাস তদন্তের পর অপরাধ বিষয়ক তদন্ত সংস্থা সিআইডি গত মঙ্গলবার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

বাদী নুর মোহাম্মদের আসল দলিলকে জাল দলিল উল্লেখ করে মামলা দিয়ে আপন ভগ্নিপতি জহুরুল আলমকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবদুল করিম। বাদী পক্ষ জাল দলিল প্রমান করতে পারলে আসামীদের যাবজ্জীবন সাজা হতেন।

জহুরুল আলম দি ক্রাইমকে বলেন, মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রুপকার হচ্ছেন কথিত বাদীর সৎ মামা মোঃ হাছান ওরফে হাছান আলী ও শশুর কামাল হোসেন। এই কামাল হোসেনকে মিথ্যা মামলার মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত আগামী ৭ আগষ্ট হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কামাল হোসেন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১২মার্চ মাসে মোঃ ইলিয়াছ শেখ, জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ ইসলামকে আসামী করে বোয়ালখালী থানায় একটি মামলা নং- ৬(০৩)২৩ ইং দায়ের করেন।

কামাল হোসেনের দায়েরকৃত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় একই বছরের ১৮ অক্টোবর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নাজমুন নাহার এর আদালত থেকে তিন আসামী খালাস পান। নুর মোহাম্মদ, শ্বশুর কামাল হোসেন ও মোঃ হাছান ওরফে হাছান আলী সাধারণ মানুষের সহায় সম্পত্তি দখলে নিতে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গায়েল করতে জমির খতিয়ান জাল দলিল তৈরী ও নানা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করে থাকেন বলে জানিয়েছেন জহুরুল আলম। যার জলন্ত উদাহরণ ও হয়রানীর শিকার তিনি নিজেই বলে উল্লেখ করেন।

কামাল হোসেন নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গার ফুলছড়ি পাড়ার জানমনি ভিলায়,হাছান আলী আগ্রাবাদ পাঠানটুলি পান্না পাড়া ও নুর মোহাম্মদ আনোয়ারা উপজেলার বারশত বখতেয়ার পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা পরস্পর আত্মীয় বলে জানা গেছে।

আদালত সুত্রে জানা যায় , বিগত ২০২৩সালের ২৫মার্চ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট,১ম আদালত চট্টগ্রামে নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে দলিল লেখকসহ তিনজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নং-১১৬/২৩। আদালত বাদীর মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি চট্টগ্রামকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। মামলাটি আদালত থেকে সিআইডি অফিসে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় এসআই আবদুল করিমকে।

বাদী নুর মোহাম্মদ মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার পিতা মাতা অক্ষর জ্ঞান সমপন্ন ছিলেন এবং তাহারা নিজ হাতে সর্বদা দস্তখত করিতেন। তাহারা কোন সময় টিপসহি দিতেন না। বাদী মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন যে, বিগত ২০০৩ সালের ২০ এপ্রিল ১নং আসামী জহুরুল আলম ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে দাঁড় করিয়ে বাদীর পিতা মাতার স্বাক্ষরের স্থলে বাদীর পিতা মাতার টিপসহি জাল করিয়াছে। যা ১৩৩২/০৩ নং-জাল দলিল সৃজন করিয়াছে।

বাদী এজাহারে বলেন, গত ২০২৩ সালের ৫মার্চ ১নং আসামী বাদীর বাড়িতে আসিয়া বাদীকে তপশীলোক্ত জাল দলিলের জায়গার দখল ছাড়িয়া দিতে বলেন। ছাড়িয়া না দিলে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। ফলে ১নং আসামী ও সকল আসামীগণ একত্রে ও একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দন্ড বিধি ৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬/১০৯/৩৪ ধারার অপরাধ করিয়াছে।

তদন্ত শুরুঃ

সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার সুত্রটি জানান, আদালত থেকে চাঞ্চল্যকর মামলাটি সিআইডি অফিসে আসার পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তভার ন্যাস্ত করা হয় এসআই আবদুল করিমকে। তিনি মামলাটি হাতে পাওয়ার পর আদালত, আদালতের রেকর্ড শাখা এবং সর্বশেষ আনোয়ারা সদর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে সংরক্ষিত, যেখানে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে দলিলের বালামবহি সিআইডি অফিসে তলব করা হয়। ২০০৩ সালের ২০ এপ্রিলে জহুরুল আলমের নামে সম্পাদিত ১৩৩২/০৩ নং দলিল ও মামলার বাদীর নামে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সম্পাদিত হেবানামা ২৭০৯ নং দলিল জব্দ করা হয়। বাদীর মাতা ছকিনা খাতুন স্বামী মৃত বাচা মিয়া দু’জনকেই দলিলে টিপসহি দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি দিয়েছেন। যা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর যথাযত ভাবে প্রমানিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দি ক্রাইমকে বলেছেন, বিতর্কিত দলিল নং-১৩৩২/০৩ এর মুলকপিতে থাকা দাতার টিপের সাথে হেবার ঘোষনাপত্র দলিল নং-২৭০৯/২০, থাম বহিতে থাকা প্রমান্য টিপসহির তুলনামূলক পরীক্ষা করিয়ে মতামত প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতের ক্ষমতাপত্র সংগ্রহ পুর্বক বিশেষ পুলিশ সুপার(ফরেনসিক),সিআইডি বরাবরে আবেদন করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিআইডি চট্টগ্রামের ফরেনসিক ল্যাবের আংগুলাংক বিশারদ মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন, উপ-পুলিশ পরিদর্শক ও আংগুলাংক বিশারদ পরীক্ষা করে দলিলের মুলকপিতে থাকা দাতার টিপের সাথে হেবার ঘোষনাপত্র দলিল নং-২৭০৯ এর থাম বহিতে থাকা প্রমান্য টিপসহি একই ব্যক্তির মর্মে সিআইডি’র আংগুলাংক বিশারদ মিল খুজে পেয়েছেন বলে মতামত প্রদান করেছেন।

সিআইডির আংগুলাংক বিশারদের মতামত পর্যালোচনায় জানা যায়, এই মামলার অভিযোগে উল্লেখিত দলিল নং- ১৩৩২/০৩ মুলে তপশীলোক্ত সম্পত্তি অত্র মামলার বাদীর পিতা বাঁচা মিয়া ও মাতা ছকিনা খাতুনদ্বয় মামলার বিবাদী মোঃ জহুরুল আলম এর বরাবরে তপশীলোক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন মর্মে প্রমানিত হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা যা বলেছেনঃ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবদুল করিম দি ক্রাইমকে বলেছেন, আমার সার্বিক তদন্তে সাক্ষ্য প্রমানে সিআইডির আংগুলাংক বিশারদের মতামত পর্যালোচনায় এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় অত্র মামলার বিদাদী মোঃ জহুরুল আলম দলিল লেখক জামাল হোসেন ও মীর আহমদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখিত পেনাল কোড ৩৪/১০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬ ধারার অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায় নাই মর্মে বিজ্ঞ আদালতে অত্র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় বলে তিনি জানান। মামলার বাদী পক্ষ চাইলেও এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের নারাজি আবেদন আদালতে গ্রহণ যোগ্য হবেনা বলে আইন বিশেষজ্ঞরা অভিমতে জানিয়েছেন।

এই মামলার অন্যতম আসামী জহুরুল আলম অভিযোগ করে বলেছেন, নুর মোহাম্মদ, শ্বশুর কামাল হোসেন সৎ মামা মোঃ হাছান ওরফে হাছান আলী আমার নামে আরও একটি জাল দলিল নং- ১৩৩২/০২ তৈরী করে জমি দখলে নিতে ও আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল। এই তিনজন হচ্ছে জাল দলিলের অন্যতম কারিগর। আমি এই দলিলের বিরুদ্ধে মামলার পর আদালত সিআইডি চট্টগ্রামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যা এখন তদন্তের শেষ পর্যায়ে বলে জানান তদন্তকারী অফিসার শেখ আতাউর রহমান।

উল্লেখ্য, নুর মোহাম্মদ সিআর মামলা নং- ৩৭১/২৩, সিআর মামলা নং-৫৩৪/২৩ ইং মামলায় পৃথক দু’বার জেল হাজতে গেছেন। অপর সিআর মামলা নং- ১৫৩/২৩ইং মামলায় হাইকোট থেকে ছয় সপ্তাহ’র জন্য জামিন লাভ করেছেন। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে আদালতে আত্মসমর্পন করতে। এদিকে সিআর ৫৩৪/২৩ মামলায় বাদী পক্ষকে টাকার দেয়ার শর্তে অঙ্গীকার নামা দিয়ে অন্তবর্র্তিকালিন জামিন দিয়েছেন আদালত। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আবার জেলহাজতে যেতে হবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র।

*প্রকৃত দলিলকে জাল উল্লেখ করে ফাঁসাতে চেয়েছিল নুর মোহাম্মদ

আহমদ কবির: নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় প্রবাসী জহুরুল আলম সিআইডির তদন্তে নির্দোষ প্রমানিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১বছর ৪মাস তদন্তের পর অপরাধ বিষয়ক তদন্ত সংস্থা সিআইডি গত মঙ্গলবার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

বাদী নুর মোহাম্মদের আসল দলিলকে জাল দলিল উল্লেখ করে মামলা দিয়ে আপন ভগ্নিপতি জহুরুল আলমকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবদুল করিম। বাদী পক্ষ জাল দলিল প্রমান করতে পারলে আসামীদের যাবজ্জীবন সাজা হতেন।

জহুরুল আলম দি ক্রাইমকে বলেন, মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার রুপকার হচ্ছেন কথিত বাদীর সৎ মামা মোঃ হাছান ওরফে হাছান আলী ও শশুর কামাল হোসেন। এই কামাল হোসেনকে মিথ্যা মামলার মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত আগামী ৭ আগষ্ট হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

কামাল হোসেন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১২মার্চ মাসে মোঃ ইলিয়াছ শেখ, জাহাঙ্গীর আলম ও মোঃ ইসলামকে আসামী করে বোয়ালখালী থানায় একটি মামলা নং- ৬(০৩)২৩ ইং দায়ের করেন।

কামাল হোসেনের দায়েরকৃত মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় একই বছরের ১৮ অক্টোবর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নাজমুন নাহার এর আদালত থেকে তিন আসামী খালাস পান। নুর মোহাম্মদ, শ্বশুর কামাল হোসেন ও মোঃ হাছান ওরফে হাছান আলী সাধারণ মানুষের সহায় সম্পত্তি দখলে নিতে এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গায়েল করতে জমির খতিয়ান জাল দলিল তৈরী ও নানা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করে থাকেন বলে জানিয়েছেন জহুরুল আলম। যার জলন্ত উদাহরণ ও হয়রানীর শিকার তিনি নিজেই বলে উল্লেখ করেন।

কামাল হোসেন নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গার ফুলছড়ি পাড়ার জানমনি ভিলায়,হাছান আলী আগ্রাবাদ পাঠানটুলি পান্না পাড়া ও নুর মোহাম্মদ আনোয়ারা উপজেলার বারশত বখতেয়ার পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা পরস্পর আত্মীয় বলে জানা গেছে।

আদালত সুত্রে জানা যায় , বিগত ২০২৩সালের ২৫মার্চ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট,১ম আদালত চট্টগ্রামে নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে দলিল লেখকসহ তিনজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নং-১১৬/২৩। আদালত বাদীর মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি চট্টগ্রামকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। মামলাটি আদালত থেকে সিআইডি অফিসে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় এসআই আবদুল করিমকে।

বাদী নুর মোহাম্মদ মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার পিতা মাতা অক্ষর জ্ঞান সমপন্ন ছিলেন এবং তাহারা নিজ হাতে সর্বদা দস্তখত করিতেন। তাহারা কোন সময় টিপসহি দিতেন না। বাদী মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন যে, বিগত ২০০৩ সালের ২০ এপ্রিল ১নং আসামী জহুরুল আলম ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে দাঁড় করিয়ে বাদীর পিতা মাতার স্বাক্ষরের স্থলে বাদীর পিতা মাতার টিপসহি জাল করিয়াছে। যা ১৩৩২/০৩ নং-জাল দলিল সৃজন করিয়াছে।

বাদী এজাহারে বলেন, গত ২০২৩ সালের ৫মার্চ ১নং আসামী বাদীর বাড়িতে আসিয়া বাদীকে তপশীলোক্ত জাল দলিলের জায়গার দখল ছাড়িয়া দিতে বলেন। ছাড়িয়া না দিলে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। ফলে ১নং আসামী ও সকল আসামীগণ একত্রে ও একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দন্ড বিধি ৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬/১০৯/৩৪ ধারার অপরাধ করিয়াছে।

তদন্ত শুরুঃ

সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার সুত্রটি জানান, আদালত থেকে চাঞ্চল্যকর মামলাটি সিআইডি অফিসে আসার পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তভার ন্যাস্ত করা হয় এসআই আবদুল করিমকে। তিনি মামলাটি হাতে পাওয়ার পর আদালত, আদালতের রেকর্ড শাখা এবং সর্বশেষ আনোয়ারা সদর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে সংরক্ষিত, যেখানে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে দলিলের বালামবহি সিআইডি অফিসে তলব করা হয়। ২০০৩ সালের ২০ এপ্রিলে জহুরুল আলমের নামে সম্পাদিত ১৩৩২/০৩ নং দলিল ও মামলার বাদীর নামে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সম্পাদিত হেবানামা ২৭০৯ নং দলিল জব্দ করা হয়। বাদীর মাতা ছকিনা খাতুন স্বামী মৃত বাচা মিয়া দু’জনকেই দলিলে টিপসহি দিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি দিয়েছেন। যা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর যথাযত ভাবে প্রমানিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দি ক্রাইমকে বলেছেন, বিতর্কিত দলিল নং-১৩৩২/০৩ এর মুলকপিতে থাকা দাতার টিপের সাথে হেবার ঘোষনাপত্র দলিল নং-২৭০৯/২০, থাম বহিতে থাকা প্রমান্য টিপসহির তুলনামূলক পরীক্ষা করিয়ে মতামত প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতের ক্ষমতাপত্র সংগ্রহ পুর্বক বিশেষ পুলিশ সুপার(ফরেনসিক),সিআইডি বরাবরে আবেদন করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে সিআইডি চট্টগ্রামের ফরেনসিক ল্যাবের আংগুলাংক বিশারদ মোঃ মোফাজ্জল হোসাইন, উপ-পুলিশ পরিদর্শক ও আংগুলাংক বিশারদ পরীক্ষা করে দলিলের মুলকপিতে থাকা দাতার টিপের সাথে হেবার ঘোষনাপত্র দলিল নং-২৭০৯ এর থাম বহিতে থাকা প্রমান্য টিপসহি একই ব্যক্তির মর্মে সিআইডি’র আংগুলাংক বিশারদ মিল খুজে পেয়েছেন বলে মতামত প্রদান করেছেন।

সিআইডির আংগুলাংক বিশারদের মতামত পর্যালোচনায় জানা যায়, এই মামলার অভিযোগে উল্লেখিত দলিল নং- ১৩৩২/০৩ মুলে তপশীলোক্ত সম্পত্তি অত্র মামলার বাদীর পিতা বাঁচা মিয়া ও মাতা ছকিনা খাতুনদ্বয় মামলার বিবাদী মোঃ জহুরুল আলম এর বরাবরে তপশীলোক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন মর্মে প্রমানিত হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা যা বলেছেনঃ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবদুল করিম দি ক্রাইমকে বলেছেন, আমার সার্বিক তদন্তে সাক্ষ্য প্রমানে সিআইডির আংগুলাংক বিশারদের মতামত পর্যালোচনায় এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় অত্র মামলার বিদাদী মোঃ জহুরুল আলম দলিল লেখক জামাল হোসেন ও মীর আহমদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখিত পেনাল কোড ৩৪/১০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬ ধারার অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায় নাই মর্মে বিজ্ঞ আদালতে অত্র তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় বলে তিনি জানান। মামলার বাদী পক্ষ চাইলেও এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের নারাজি আবেদন আদালতে গ্রহণ যোগ্য হবেনা বলে আইন বিশেষজ্ঞরা অভিমতে জানিয়েছেন।

এই মামলার অন্যতম আসামী জহুরুল আলম অভিযোগ করে বলেছেন, নুর মোহাম্মদ, শ্বশুর কামাল হোসেন সৎ মামা মোঃ হাছান ওরফে হাছান আলী আমার নামে আরও একটি জাল দলিল নং- ১৩৩২/০২ তৈরী করে জমি দখলে নিতে ও আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল। এই তিনজন হচ্ছে জাল দলিলের অন্যতম কারিগর। আমি এই দলিলের বিরুদ্ধে মামলার পর আদালত সিআইডি চট্টগ্রামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যা এখন তদন্তের শেষ পর্যায়ে বলে জানান তদন্তকারী অফিসার শেখ আতাউর রহমান।

উল্লেখ্য, নুর মোহাম্মদ সিআর মামলা নং- ৩৭১/২৩, সিআর মামলা নং-৫৩৪/২৩ ইং মামলায় পৃথক দু’বার জেল হাজতে গেছেন। অপর সিআর মামলা নং- ১৫৩/২৩ইং মামলায় হাইকোট থেকে ছয় সপ্তাহ’র জন্য জামিন লাভ করেছেন। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে আদালতে আত্মসমর্পন করতে। এদিকে সিআর ৫৩৪/২৩ মামলায় বাদী পক্ষকে টাকার দেয়ার শর্তে অঙ্গীকার নামা দিয়ে অন্তবর্র্তিকালিন জামিন দিয়েছেন আদালত। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আবার জেলহাজতে যেতে হবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র।