নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ ইকবাল হোসেন (সিএ) এর চাকুরীতে যোগদানের ১২ বছরে অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও নিজ এলাকার জনগণকে জিম্মি করে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা সাধারণ মানুষের উপরে নির্যাতন করে আসছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ গ্রামে মহল্লার মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানসহ প্রায় ৬টি কমিটির সভাপতির পদ নিজে ধরে রাখা যা তার হস্তক্ষেপের পর আর কেউ কমিটিতে আসতে পারেনি। যার কারণ হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ তসরুফ করে অন্যায় ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করা। আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি তার সন্তান না পড়াইয়া জোর পূর্বক শুধু নাম রেখে অন্যায়ভাবে ও অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখলে রেখেছে এবং স্কুলের পুরাতন ভবন নামে মাত্র মূল্য ধরে ভবন ভেঙ্গে বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন ও সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করছে । ফলেগ্রামবাসীর হাতে তিন বার শারীরিক লাঞ্চনার স্বীকার হয়েছে।
এছাড়াও নিজ পরিবারের সম্পত্তি নিজ স্ত্রীর নামে লিখে দিয়ে নিজের ভাইদের হাতে শাররীক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। নিজ গ্রামে তৎকালীন ৬নং ওয়ার্ডের শফিক মেম্বারের চেকে স্বাক্ষর জাল করলে শফিক মেম্বার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলে পরে বিষয়টি মিমাংসা হয়। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান কাইয়ুম খসরু সাহেদ থাকাকালীন নিজ গ্রাম আমপাল থেকে গভীর রাতে জুয়ার বোর্ডসহ ইকবাল হোসেন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে থানা হাজতে যায়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ছাড়া পায়। ইকবাল হোসেনের প্রতিষ্ঠিত কথিত বাগান বাড়ীতে ১টি টিনের ঘর তৈরী করে ৪টি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। যার মাধ্যমে সরকারি অর্থ তসরুফ হচ্ছে। যেমন একে আজাদ পাবলিক লাইব্রেরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণমিক্ষা কার্যক্রম উল্লেখিত টিনের ঘরে পরিচালনাসহ ব্র্যাকের শিখন কেন্দ্র।
জানা গেছে, উপজেলায় চাকুরী নেওয়ার পর ইকবাল হোসেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে গ্রামে প্রায় ১০০টির মত মামলা সংগঠিত করে।চোর-ডাকাত ও খুনীদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে মদ ও জুয়ার আসর বসায়। পাশাপাশি সমাজের মানুষকে মারধর করাসহ নারী কেলেঙ্কারীতেও নেতৃত্ব দেয় ও নিজেও উল্লেখিত বিষয়গুলিতে সরাসরি জড়িত (ডোপটেস্ট ও ডিএনএ টেস্ট করলে ইকবাল হোসেনের মধ্যে অপকর্মের আলামত পাওয়া যাবে)। তার ও তার বাহিনীকে মদের টাকা না দিলে গ্রামে কোন কাজ করা সম্ভব হয় না। গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মালাগাজীর বাড়ীর আলমের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাদাবাজী করে।সকল স্থানীয় নির্বাচনে টাকা বিতরণ ও নেতৃত্ব প্রদান সরাসরি দিয়ে থাকেন। যা সমাজের মানুষ চিন্তা করে সে কি সরকারি চাকুরী করে, না রাজনীতি করে, না ঠিকাদারী করে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আসলে সে কি করে?
স্থানীয়রা জানান, ইকবাল হোসেন কথিত বাগান বাড়ীতে রাস্তা দখল করে রাস্তার উপর প্রাচীর দিয়ে ও দোকানপাট তৈরী করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। চাকুরীতে যোগদান থেকে একটানা ১২ বছর একই টেবিলে চাকুরী করছেন। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে প্রমোশনও নিয়েছেন। তাকে কেউ বদলী করতে পারে না। এমনকি সে মানুষের সামনে বলে তাকে বদলী করার ক্ষমতা কারো নেই।
তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বিবরণ
মুরাদনগর উপজেলা সদরে ৫ শতাংশের প্লট (আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকার বেশি), ঢাকার গুলশান জোনে দুটি ফ্ল্যাট, কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে বাগানবাড়ীতে ডুপ্লেক্স ভবন যার ব্যায় আনুমানিক ৩ কোটি টাকা, নামে বেনামে নিজ গ্রামসহ কোটি টাকার জমি।




