খন রঞ্জন রায় : প্রকৃতিকে মানুষের বাসযোগ্য রাখতে হলে পৃথিবী নামক এই গ্রহতে জীববৈচিত্র্যের পূর্ণ-পরিপূর্ণ বিন্যাস সুসমরূপে সম্প্রীতির বন্ধনে চলমান রাখতে হবে। পৃথিবীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য মানবজাতির অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের অনিবার্য নিয়ামক শক্তি।
মানবজাতির শান্তিময় অবস্থান ও সাবলীল প্রসারের এপিঠ-ওপিঠ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। বিশ্বাস নয় জ্ঞানের ঘনীভূত শিক্ষার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্যের স্বাভাবিক সাবলীলতার অবনতি ঠেকাতে হবে। মূলত মনুষ্য-সংঘটিত ব্যবহার ব্যভিচারে জীববৈচিত্র্যের নিপুন প্রসার ব্যহত হয়। মানবকল্যাণের অনস্বীকার্য অনিবার্য এই বৈচিত্র্যময় পৃথিবী কান্নার সর্বনাশে দ্বগ্ধ হচ্ছে। বৈচিত্র্যময় এই জীবকূলের স্বাভাবিক জীবনাচার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবজাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। মানব সভ্যতার ইতিহাসের চাকা নির্মম শাণিত বাচনে পরিণত হবে।
প্রতিটি মানুষের দেহ-মনের উন্নয়নে, গোপন ভাবাক্ষগুলির স্বপ্ন ও বাস্তব রহস্য উন্মোচনে প্রকৃতির অবদান সর্বাগ্রে। স্বপ্ন মানেই জীবনের রহস্যময়তা। নাটকগন্ধী এই স্বপ্ন-রহস্যের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু প্রকৃতি। প্রকৃতি মানুষের চিরসংগ্রামী সঙ্গী। তাৎক্ষণিক, সাম্প্রতিক কিংবা কালের স্থায়ীত্ব প্রতীকের আবরণে দারুণ নৈর্ব্যত্তিকভাবে সহযোগীতা করে একমাত্র প্রকৃতি।
জীবনের শেষাবধি পর্যন্ত দাপটে প্রতিবাচনে প্রতিটি কর্মে ও জ্ঞানে সুচারু সমন্বয় করে জীববৈচিত্র্য বা প্রাকৃতিক পরিবেশ। জীববৈচিত্র্যের এই পরিবেশ রক্ষায় অন্ত:শীল প্রতিবাদী সত্তা হিসাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে জাতিসংঘ। জীববৈচিত্র্যের ওপর মানুষের পাশবিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদের আয়ুধ হিসাবে আর্বিভূত হয় জাতিসংঘ। প্রতিবাদী চেতনার আন্তরিক প্রকাশ ঘটায় ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর।
সাধারণ পরিষদের ৫৫/২০১ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রূপক স্নিগ্ধ ভাষায় প্রকাশ করে ২২ মে ‘আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস’। অবশ্য ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ মে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে তীক্ষ্ণবাক্যস্বরে দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কালজয়ী প্রতিবাদী এই আহ্বান শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক সম্মিলিত প্রয়াসের প্রবাদে পরিণত হয়ে যায়।
নির্ভিক শিরদাঁড়ার তীক্ষ্ণ স্পর্শ নিয়ে দিবস পালনের দিন তারিখের এই সিদ্ধান্তে হৃদয়হীন হিমশীতল কিছু ঘটনা ঘটে। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ জীববৈচিত্র্য দিবস পালন চূড়ান্ত করতে সদা আধুনিক বিষয়ে সমসাময়িক ভাবনা নিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি কমিটি গঠন করে। কমিটির সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ সুপারিশে ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদের ৪৯/১১৯ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক পূর্ব নির্ধারিত তারিখের পরিবর্তে ২৯ ডিসেম্বরকে জীববৈচিত্র্য দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। নতুন এই ঘোষণাকে বেদনাঘিন্ন কণ্ঠে অনেক দেশ-ই আপত্তি তোলে। শুরু হয় অ্যান্টিক্লাইমেক্স বিরূপতা।
জাতিসংঘ কখনো অনুরক্ত কখনো বা বিরক্ত হতে থাকে। আধিপত্যকামিতার বিরুদ্ধে উদ্ধৃত তর্জনী অনেকটাই সুসংহত হয়। ক্ষমতাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতাতন্ত্র-বিরোধী স্বর তুঙ্গস্পর্শী হয়। ভয়ঙ্কর বিদ্রুপের মুখে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত নম্বর ৫৫/২০১ মোতাবেক সত্য উন্মোচনের পথে এগিয়ে যায়। অনুশোচনা থেকে মানবিক উত্তরণ ঘটে।
আদতে মহামূর্খের পরিচয় দিয়ে পূর্ববৎ সিদ্ধান্ত ২২ মে কেই আত্মনৈকট্যের আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালনের জন্য নতুনভাবে দিন পুন:নির্ধারণ করে। তদপরিপ্রেক্ষিতে ২২ মে হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের চিরায়ত আত্মানুসন্ধানের ম্যাজিক লণ্ঠন। ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে এসে আরোহিত শিক্ষা নিয়ে সেই সময় থেকে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পৃথিবীব্যাপী এই দিবস পালনের মগ্ন স্বাক্ষর রাখছে।
উপক্রমনিকা শেষে মূল আলোচনায় আসলে বলতে হয় মানুষ-প্রাণি-প্রকৃতি এই তিন মিলিয়েই আমাদের বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী। বায়ুমণ্ডলের ভেতরে মাটি-ভূমি বাতাস-পানি সবকিছুর মালিকানা কেবল মানুষের নয়। অংশীদার অপরাপর সব প্রাণি-প্রজাতি-প্রকৃতি। প্রকৃতি-পরিবেশ-জলবায়ুর সাথে জীববৈচিত্র্যের সম্পর্কের বন্ধন জীবন্ত। প্রকৃতির রূপ দিনের আলোয় এক ধরনের আর রাতের বেলায় সেটি কৌতুহলগত অন্যরকম হলেও অভিনবভাবে মানুষের জীবনমানকে একই সুতার মালায় গেঁথে রেখেছে। মানুষের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক যতটা থাকার কথা মূলত ততটা নেই।
আধুনিক প্রযুক্তিগত বিমূর্তবাদী পৃথিবীর সব জায়গায় এখন মানুষের পদচারণা। মানুষ এই প্রকৃতিকে নির্দয় ও নির্বিচারে ব্যবহার করছে। মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, জীবনমান রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। শিল্পনির্মাণ পদ্ধতির বহুমুখী বিকাশের সাথে জল, বায়ু, মাটি, সবুজ এবং প্রকৃতির মহামূল্যবান সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণে পরিবেশগত কোন কোন এলাকা নরকসম অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
পরিবেশ দূষণের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়। ঈর্ষা হওয়ার মতো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জীববৈচিত্র্যের স্মৃতিসরণিতে নিপীড়নের কালো কোপ পড়েছে। এক কালে বাংলাদেশের সর্বত্র বিচরণের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা ডোরাকোটা বাঘ নিয়ে অন্য অনেক দেশ পরশ্রীকাতরতা দেখাত। সেই বাঘ এখন সুন্দরবনের নিঃসঙ্গ সঙ্গী হয়ে হাতে গণনার ভেতর চলে এসেছে। বাসস্থানের অসুখী শৈশব নিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিলুপ্তির প্রহর গুনছে। রহস্যময় নিঃসঙ্গতা নিয়ে বাংলার হাতি এখন স্বপ্ন ও স্মৃতির মাঝামাঝি অবস্থানে। পার্বত্য এলাকা আর সিলেট-ময়মনসিংহের টিলা-টংকরে অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। সাম্প্রতিককালে অতিবিপন্ন প্রাণির তালিকায় নাম লিখিয়েছে।
বাংলাদেশের বনজঙ্গলে দাপটের সাথে বসবাস করে জীববৈচিত্র্যকে সমুন্বত রাখা ডোরাকোটা হায়েনা, নীলগাই, বনগরু, বনমহিষ, জলাহরিণ, ধূসর নেকড়ে, ইন্ডিয়ান গণ্ডার, জাবা গণ্ডার, সুমাত্রা গণ্ডর, শ্লথ ভাল্লুকসহ স্তন্যপায়ী এইসব প্রাণি এখন ইতিহাসের অন্তরালে। দেশের গাছলতায় দাপাদাপি করা ১৯ প্রজাতির পাখি দেশি ময়ূর, রাজশকুন, ধলালেজ বক, গোলাপিহাস, মদনটাক, ধলাপেট বক, সারস, মেটেতিতির, সবুজ ময়ূর, দাগিবুক টিয়াঠুটি, বাংলা ডাহর ইত্যাদির জীবন্তরূপ আর পাওয়া যায় না। মিঠাপানির কুমিরও আজ হতভাগ্য কোন অবয়বেই তার দেখা মিলে না।
অসম্ভব শক্তিশালী সুন্দর অবয়বের তীক্ষ্ণ গতিসম্পন্ন নীলগাই ১৯৪০ সালের পর আর দেখা পাওয়া যায় নাই। ১৯৩০ সালের পর থেকে অপরূপ সৌন্দর্যের বনগরু দেখা পাওয়ার প্রমাণ নেই। তিন প্রজাতির গণ্ডার, বনমহিষ, ডোরাকোটা হায়েনা এখন অত্র অঞ্চলের ইতিহাসের অংশ। গত ১০০ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে ৩১ প্রজাতির প্রাণি চিরতরে হারিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ১ হাজার ৬১৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণির মধ্যে ৩৯০টি প্রজাতি বিপন্ন। ২৬৬ প্রজাতির মাছ, ২২ প্রজাতির উভচর, ১০৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩৮৮ প্রজাতির পাখি, ১১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণির অবস্থা সংকটাপন্ন বলে আইইউসিএন বিশ্বব্যাপী একক পদ্ধতির গবেষণায় হৃদয়স্পর্শী তথ্য প্রকাশ করেছে।
যারা হারিয়ে গেছে তারা তো নামের বাহাদুরী নিয়ে অতীত ভ্রমণ করে। যারা এখনো টিকে গেছে এমন কি স্বর-অনুস্বর-বিন্দু বিসর্গভাবে মহাবিপন্নের তালিকায় ৫৬টি প্রাণি, বিপন্ন খাতে ১৮১টি এবং ঝুঁকিতে দিনপাত করছে ১৫৩ প্রজাতি কল্পিত মুক্তির আশা নিয়ে ঝুঁকির কাছাকাছি আছে আরো ৯০ প্রজাতির প্রাণি। গত ৪০ বছরে মন্থর ভাল্লুকের প্রজাতি বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে। ভোঁদড়, লামচিতা, চিতা, বনরুই, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, সাম্বার হরিণ, প্যারাইলা বানর, কাঁঠবিড়ালি, কালো ভাল্লুক নিয়ে যে এত এত পদ্য, ছড়া কবিতা, গল্প রচিত হয়েছিল তা এখন অলীক স্বপ্নে পর্যবসিত হয়েছে।
আমার শৈশবকালীন সময়ে যে সব প্রাণির আধিক্য দেখেছি, যাদের ভয়ে কিংবা প্রয়োজনে কাছে পিছে থেকে দেখেছি তারাই এখন মহাবিপন্ন। যে সব সরীসৃপ প্রাণি লাটি দ্বারা পিটিয়ে মেরে হাত পাকা করেছি, মধ্যযৌবনে এসেই সেইসব প্রাণি সম্পূর্ণভাবেই বিস্মৃত। হুবহু চেহারার ঐসব প্রাণি এখন আর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না। শৈশবের এইসব পারঙ্গমতা এখন কালো কালিতে ছোপ ছোপ দাগে হৃদয়কে অভিঘাত করে।
মানুষের অনৈতিক জীবনধারণ আর ক্রিয়াকলাপে কেবল প্রাণির ওপরই নির্মমতা হয়, তা নয়। গাছপালাও তাদের নিঃশ্বাসের মহিমা নিয়ে বিলুপ্তি ঘটছে অহরহ-প্রতিনিয়ত। বন কেটে ফেলা, পাহাড়কে কৃষিজমিতে রূপান্তর করা, অত্যাধিক জনসংখ্যার চাপে বনজঙ্গলে জনবসতি গড়ে তোলায় অন্তত দশ লক্ষ প্রজাতির গাছপালা বিলুপ্তির ঝুঁকি নিয়ে রাতের শরীরে আলোর ছায়া ফেলছে।
উদ্ভিদ, প্রাণি, অনুজীবসহ পৃথিবীর গোটা জীবসম্ভার নিয়েই জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক পরিবেশে এই সমস্ত উদ্ভিদ বা প্রাণির বসবাসের জন্য একটি স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য থাকে। বিভিন্ন জীবের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জীব সম্প্রদায়ের সম্মিলিতভাবে নিয়ামক শক্তিই হলো পরিবেশ। বনজ, মরুজ, জলজ অবস্থানের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে প্রত্যেকের অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে নির্ভীক দাপটে চলতে পারার সুযোগ নিশ্চিত করাই জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রথম শর্ত। বাস্তুতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতির ভারসাম্য জৈবিক উৎপাদনশীলতা, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অবক্ষয়, পুষ্টির সাইক্লিং, মাটি ও পললসমূহের উর্বরতা রক্ষা, কার্বন নিঃসরণের পরিমান সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা, প্রতিটি প্রাণির খাদ্যশৃংখল নির্বিঘ্নে-নিশ্চিতে প্রবহমান রাখা বাস্তুসংস্থানিক অনবদ্য গুরুত্ব।
পাহাড়ি বন, ম্যানগ্রোভ বন, সমতল ভূমির বন, গ্রামীণ বন, মরুজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জলজ পরিবেশ ইত্যাদির বৈচিত্র্যময়তা বিবেচনা করে দুর্বল পিঁপড়েটিও যেন তার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সেই ভাবনাই জীববৈচিত্র্য দিবস। প্রকৃতিপরিবেশ, জলবায়ুর অস্তিত্ব বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরূপ ফলে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির সম্মুখীন।
সহনীয় পরিবেশ রক্ষা করতে যেখানে মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা বাঞ্চনীয় সেখানে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের এক পঞ্চমাংশও নাই। এই ভাবনা থেকে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সনদ ঘোষণা করে। প্রতিটি দেশকে যথাযোগ্য গুরুত্বের সাথে এই সনদ অনুসরণ করতে বলা হয়। অদ্ভুত আড়ালচারিতা না করে বাংলাদেশ ১৯৯৫ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৭ সালে পরিবেশ রক্ষার বিধিবিধান প্রণয়ন করে। ২০১১ সালে এই আইন সংশোধন করে আরো কঠোর-কঠিন অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনীতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক আলাদা অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করা হয়।
নীতি ও কৌশল প্রণয়ন ছাড়া দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি চোখে পড়ে না। পাহাড়-বন-জঙ্গল, চাষাবাদের ফসলি জমি এখন মানুষের আশ্রয়স্থল। পরিমাপিক হিসাবে আকণ্ঠ খেয়ে ফেলছে। সুলতি ভাষায় প্রণীত এই সব আইন কাগজে-কলমে থাকার ফলে জীববৈচিত্র্যের বিচরণ ক্ষেত্রে দস্যুদের আনাগোনা অবাধ হচ্ছে। জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদ-এর অনুস্বাক্ষরকারী হিসাবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবহার, জীবসম্পদ সম্পর্কীয় জ্ঞান আহরণ, প্রাপ্তজ্ঞানের সুষ্ঠু বণ্টনসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিধান সঠিকভাবে প্রতিপালনে আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
এই আইনকে মুখোশ হিসাবে না দেখে এর আলোকে জীববৈচিত্র্য বিষয়ক জাতীয় কমিটি থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে পর্যায়ক্রমিক ইউনিয়ন পর্যন্ত সুস্পষ্ট নীতিমালা, কার্যপরিধি, বিধিবিধান বেশ জোরালোভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে ২০১৭ সালে। এই আইন বাস্তবায়নই এখন অগ্নিপরীক্ষা। বিজ্ঞানসম্মতভাবে সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্যের সুষ্ঠু ব্যবহার হোক, রক্ষণাবেক্ষণ রীতি পুনরুদ্ধার ঘটুক, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ দ্বারা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকুক আজকের এই বিশেষ দিনে এমনটা-ই কল্পনা।লেখকঃ খন রঞ্জন রায়,সমাজচিন্তক, গবেষক ও সংগঠক।



