মোঃ সফিউল আলম, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পরকিয়ায় বাধা দেওয়া স্বামীকে ডিভোর্স ও স্বর্ণ অলংকার সহ প্রায় ২০লক্ষ টাকা হাতিয়ে ৫০ বছরের নাজির আহম্মদ নামে এক বৃদ্ধের সঙ্গে উধাও দুই সন্তানের মা। এমন একটি অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শুভপুর ইউনিয়ন মধ্যম হাজারী পাড়া নন্দিশা পুকুর সংলগ্ন কুয়েত প্রবাসী হাজী ডাইভার শাহ জাহান এর স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ।
প্রবাসী শাহ জাহানের পিতা হাজী মমিনুল হক জানান, গত ১৮- ০৪- ২০০২ ইং তারিখে লালমাই থানার অন্তর্গত যুক্তিখোলা বাজার চাউল ভান্ডার গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে মোসাঃ মর্জিনা আক্তারের সঙ্গে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে শরীয়তের বিধান মোতাবেক শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে দুই সন্তানের জননী মর্জিনা আক্তার। আমাদের একেই গ্রামের মৃত্যু আব্দুর রহমান এর পুত্র কুয়েত প্রবাসী নাজির আহম্মদ (৫০) আমার ছেলে মোঃ শাহজাহানসহ কুয়েত এক সাথে বসবাস করতেন । পরবর্তীতে নাজির দেশে আসার সময় আমাদের জন্য ও শাহ জাহানের সন্তানদের জন্য কিছু ছালানী মালামাল দিতেন শাহ জাহান, এই ছালানীর মালামালকে কেন্দ্র করে নাজির আহম্মদ আমাদের বাড়িতে প্রায় সময় এসে সময় কাটিয়ে চলে যেতেন।
তিনি আরো জানান, বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর বিষয়টি গ্রামের লোকদের কাছে সন্দেহ জাগে। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি আমার ছেলের সঙ্গে শেয়ার করলে তৎখানিক সকলকে নজর রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকেন প্রবাসী শাহ জাহান। বেশ কিছু দিন যাওয়ার পর মধ্যরাতে প্রবাসী শাহ জাহান এর বাসায় একেই খাটে নাজির আহম্মদ এর সঙ্গে পরকীয়া অবস্থায় গ্রাম বাসিরা দু’জনকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে ও প্রবাসী শাহজাহান দেশে না আসা পর্যন্ত প্রশাসনের মাধ্যমে পূর্ণরায় ঘরে থাকার স্থান প্রায় মর্জিনা আক্তার। পরকীয়া থেকে তারপরে ও ক্ষান্ত হয়নি সে। একের পর এক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরকীয়া আসক্ত হয়ে পড়ে মর্জিনা আক্তার।
ঘটনাটি এলাকায় চাউর হলে শাহজাহানের স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা আক্তারকে সম্পূর্ণ ঘটনা জিজ্ঞেস করলে উল্টো শাহ জাহানের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। একপর্যায়ে মর্জিনা আক্তার শাহজাহানকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়।
শাহজাহান জানান, ডিভোর্সের পুরো টাকা আমি আদালতের মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। সে তার পরে-ও আমার একাউন্ট থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ও আমার ঘরের সমস্ত মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।এছাড়া ও আমার ঘর নির্মাণের জন্য রক্ষিত নগদ ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছি তার মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়। আমি এই বিষয় আমার ভাই অহিদুলকে বাদী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি চাই প্রশাসনের মাধ্যমে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে আমি সঠিক বিচারের দাবী জানাই।
চৌদ্দগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ত্রিনাথ সাহা জানান, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্তের সাপেক্ষে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।




