মিজবাউল হক, চকরিয়া : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার যাকে দুরে টেলে দেয়, তাকে আর কাছে আসতে দেয় না। অনেক নেতা নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে চলে গেছেন, কোনদিন তাদের স্থান দলে আর হয়নি। দল করলে দলের নীতি, আদর্শ মানতে হবে। এখানে দলের বাইরে গিয়ে কোন কিছুর করার সুযোগ নেই। আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটায় চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে কক্সবাজার-১ আসনে সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় চকরিয়া উপজেলা, মাতামুহুরী, পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন গুলোর উদ্যোগে শোকরানা সভা ও গণ-সংবর্ধনায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন।
নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, সাবেক সাংসদ জাফর আলমের কারণে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। অনেকের সহায় সম্পদ কেড়ে নিয়েছেন। চিংড়িঘের দখল থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ বাকি নেই জাফরের। এর আগেও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সমালোচনা ও মেয়র আলমগীর চৌধুরীর উপর হামলা করে দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন। জাফরকে বার বার ক্ষমা করার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এসব খবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছানো হয়েছে। এ কারণে এবারে তাকে মনোনয়ন দেয়নি। সম্প্রতি নেত্রীর সমালোচনা করে সভাপতির পদটি হারিয়েছেন তিনি। সবর্শেষ ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে তার নেতৃত্বে চকরিয়া শহীদ মিনারে অস্ত্র ও জুতা নিয়ে উঠে গর্হিত কাজ করেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, গত তিনমাস ধরে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে গুলোর কোন ধরণের কার্যক্রম নেই। বিশেষ করে চকরিয়ায় সাংগঠনিকভাবে এগুতে পারছে না। এখানে সভাপতির পদ থেকে জাফরকে অব্যাহতি দেওয়ার পর দলের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই উপজেলার সাংগঠনিক গতি আনার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির কার্যক্রম না থাকার কারণে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড গ্রামে গঞ্জে পৌছানো যাচ্ছে না বলে জানান নেতৃবৃন্দরা।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, অধ্যাপক একেএম গিয়াস উদ্দিন, আমিনুর রশিদ দুলাল, জিএম কাসেম, গিয়াস উদ্দিন, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, শফিউল আলম বাহার, আলমগীর হোছাইন, চেয়ারম্যানবৃন্দের মধ্যে আজিমুল হক, মনজুর কাদের, নুরে হোসেন আরিফ, সাহাব উদ্দিন, খম আওরঙ্গজেব বুলেট, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। দেড় হাজার নেতাকর্মীর জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়।




